অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় জরুরি : ডিসিসিআইয়ের ওয়েবিনারে বক্তারা

0
58

সত্যপাঠ ডেস্ক
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিক্ষা ও শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠদান চলে। যে কারণে শিক্ষাজীবন শেষে শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন তেমন সম্ভব হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের জন্য। ফলে কর্মসংস্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে তরুণ সমাজ। এ অবস্থায় শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক ওয়েবিনার থেকে এ মত প্রকাশ করেন তারা।
‘শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়: শিক্ষা খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপ-উপাচার্য এম আবুল কাসেম মজুমদার, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) উপাচার্য ড. কারম্যান জেড লামাগনা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) বিশেষ উপদেষ্টা ও ডিন অধ্যাপক ইমরান রহমান প্রমুখ।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তিনি বলেন, আমাদের শিল্প খাতের, বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য বিদেশী নাগরিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মুদ্রা বাইরে দেশে চলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারাকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪৪ মিলিয়ন, যা এ দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণে অত্যন্ত সহায়ক শক্তি। তবে এ শক্তি কাজে লাগানোর জন্য শিল্প খাতের চাহিদা মোতাবেক যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম চালুকরণের বিষয়ে আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় বর্তমান যুগের চাহিদা মোতাবেক শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার সব স্তরে শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি গবেষণাগারের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিতের ওপর আরো বেশি হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে।
ওয়েবিনারে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুসরণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন করা, শিল্প ও শিক্ষা খাতের মধ্যকার সমন্বয় আরো সুদৃঢ় করার ওপর জোরারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। এজন্য তিনি শিক্ষা খাতের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য শিল্প খাতের আর্থিক সহায়তাকে কর অব্যাহতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, এর মাধ্যমে শিল্প খাতকে এ ধরনের কার্যক্রমে এগিয়ে আসাতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে না বলে মনে করেন এআইইউবির উপাচার্য ড. কারম্যান জেড লামাগনা। এজন্য তিনি শিক্ষা ক্যারিকুলাম যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ভালো পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানান। তার মতে, শিল্প ও শিক্ষা খাতের বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে নীতিসহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তায় সরকারের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সমন্বয়ের জন্য সরকারের প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালনেরও প্রস্তাব করেন ড. কারম্যান জেড লামাগনা।
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিক্ষা ও শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের এ পথনির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। এজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকার ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প খাত নতুন নতুন ধারণা ও সেবা প্রদানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রম প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করেন বুয়েট উপাচার্য।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিইউপির উপ-উপাচার্য এম আবুল কাসেম মজুমদারও। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য তিনি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেন।
অধ্যাপক ইমরান রহমান বলেন, শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। আমাদের সব স্টেকহোল্ডারের মাঝে এটার বোধোদয় হয়েছে, যা ইতিবাচক বিষয়। তবে পাঠদান, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ওয়েবিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এনকেএ মবিন। এতে অন্যদের মধ্যে ডিসিসিআই সহসভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here