অনলাইন গেমে শিক্ষার্থীদের আসক্তি বাড়ছে

0
68

এম এম নুর আলম, আশাশুনি
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশ ব্যাপী স্কুল কলেজ বন্দ থাকায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুব সমাজ দিন দিন আসক্ত হয়ে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি এতটাই বেড়েছে অনলাইনে লেখাপড়া বাদ দিয়ে মোবাইল গেমের প্রতি বেশী মনোযোগ দেখা দিয়েছে।
এসকল গেমে শিশু-কিশোর ও যুবকদের মস্তিস্কে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলছে। একারণে শিক্ষার্থীরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ মুহুর্তে অবিভাবকরা সচেতন না হলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সাতক্ষীরা জেলা সদরসহ সকল উপজেলার প্রায় সকল এলাকায় মোড়ে মোড়ে, দোকানের সামনে, খেলার মাঠেসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে যে, খুব দ্রুত ইন্টারনেট ফাইটিং গেম ফ্রি ফায়ার এবং পাবজি গেমসে মারাত্মক ভাবে ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শিশু, তরুন বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার এবং পাবজি নামক গেমের নেশায় মারাত্মকভাবে জড়িয়ে পড়ছে।
করোনাকালিন ছুটির সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত লেখা-পড়া নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে। সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির এই খেলায় জড়িয়ে পড়ে এটিকে একটি মারাত্মক নেশায় পরিণত করছে।
বর্তমান সময়ে ১০বছর থেকে ১৫ বছরের উঠতি বয়সের শিশু ও যুবকরা খুব সহজেই হাতে স্মার্ট ফোন পেয়ে প্রতিনিয়ত এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছে। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে খুব বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে যুব সমাজ। ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে আসক্ত অনেকে জানান, প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভাল লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন।
এখন গেমস না খেলে তাদের এক মুহূর্ত ভালো লাগেনা। সচেতন মহল করেন, এই ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমস মাদকদ্রব্যের নেশার চেয়েও বেশি ভয়ানক। এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ছোট ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধিদের সচেতন হতে হবে এবং কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যাতে অবসর সময়টি খেলার মাঠে গিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পার করে সেদিকে নজর দিতে হবে।
গেমিং অ্যাডিকশন অনলাইন, মোবাইল বা ভিডিও গেমে আসক্তিকে মনঃস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাদকাসক্তির মতো ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত থাকা বা গেম খেলাও আসক্তি। এটা আচরণগত আসক্তি।
অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই অনলাইন গেম, মুঠোফোন, কম্পিউটার বা ভিডিও গেমের ক্ষতিকর ব্যবহারকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত মানসিক রোগ নির্ণয় বিষয়ক গাইডলাইনে (ডিএসএম-৫) বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে গবেষণার ভিত্তিতে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছিল।
অতএব অনলাইন গেম বন্দ করা না গেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here