২৫০ শয্যা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ চালুর দাবিতে যশোরে বাম জোটের সংবাদ সম্মেলন, ২৯ এপ্রিল বিক্ষোভ মানববন্ধনের ডাক

0
52
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোরের সমন্বয়ক সিপিবির জেলা সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন

সত্যপাঠ রিপোর্ট

সরকারি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ব্যবস্থা চালু, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিনামূল্যে স্যাম্পল সংগ্রহ, গ্রাম-শহরের গরিব মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের দাবিতে শনিবার যশোর বামগণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোরের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার লকডাউন করেছে কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়নি। ফলে শ্রমজীবী মানুষ আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ছোট মুদি দোকানিদের দোকান বন্ধ, রিকশাচালকদের রিকশা উল্টে ফেলা দেয়া হচ্ছে, গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, বড়লোকের যাতায়াতে তাদের প্রাইভেট বাহনসহ বিমান চলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোরের সমন্বয়ক সিপিবির জেলা সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, যশোরে আইসিইউ নিয়ে টাল বাহানা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে ৩ জন ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ৩ টি আইসিইউ বেড চালু করায় উক্ত ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানায়।

নেতবৃন্দ বলেন, করোনার শুরুতেই আমরা যখন আইসিইউ’র দাবি করেছিলাম, তখন থেকে ব্যক্তি সহায়তা নিলে জেলার প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হয়ে যেত। করোনা সহ অন্যান্য দূরাগ্যো রোগের চিকিৎসার্থে পুন্নাগ্য আইসিইউ এখনি চালুর দাবি করে।

বক্তব্যে জোট নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কঠোর লকডাউনের ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে লকডাউন প্রয়োগের পদ্ধতি দেখে আমরা তীব্র সমালোচনা করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গরিব মারার লকডাউন দেখছি। গরিব মানুষের কাজ বন্ধ, গাড়ি বন্ধ, চুলা বন্ধ। রাস্তায় বের হলেই পুলিশের লাঞ্ছা, গঞ্জনা। কোন ত্রাণ নাই। অন্যদিকে ধনির গাড়ি, প্রাইভেট কার, বিমান, কারখানা সবই চলছে। তাদের জন্য বহুবিধি সুযোগ আছে। এক এস আলম গ্রুপকে হাজার হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফও করা হয়েছে। আর কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার ২য় ঢেউ এর হাত থেকে বাঁচতে সংক্রমনের হার কমাতে হবে। মানুষকে সে কারনে ঘরেও আবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু ঘরেও খাদ্য না থাকলে মানুষকে ঘরেও আটকে রাখা যাবে না। তাই এই মুহূর্তে খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকর্তৃক নিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম শ্রমিকের বকেয়া বেতন / মজুরি না দিয়ে গুলি করে ৭ জন শ্রমিককে হত্যা করে শ’শ’ শ্রমিকের নামে মিথ্যা ও হয়রানি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এবং শ্রমিক হত্যার দায় শ্রমিকদের কাধে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমরা এই ঘটনাপরম্পরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে নিহত, আহতদের ক্ষতিপূরণ ও দোষিদের শাস্তির দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, যশোরের ৯২টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ২২টির সবকটিতে অবকাঠামো নেই, সেখানে ডাক্তার বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই আমাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনার স্যাম্পল সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। সকল ইউনিয়নে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে অবকাঠামো ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা বলেছি- সাধারণ গরিব ও শ্রমজীবী মানুষকে এক মাসের আহার ও নগদ ৫ হাজার করে টাকা দিয়ে লকডাউন কার্যকর করা হোক। সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিলেও জানতে পেরেছি সরকার দেশের অন্যতম ধনী এস.আলম গ্রুপের ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার কর মওকুফ করেছে।

এমতাবস্থায় নেতৃবৃন্দ ৬ দফা দাবিতে ও সারাদেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তার দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর সকালে যশোরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জোট নেতা ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)র জেলা সভাপতি কমরেড নাজিমউদ্দিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু, বাসদ মার্কসবাদীর জেলা সমন্বয়ক কমরেড হাচিনুর রহমান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ জেলা নেতা কমরেড কামাল হাসান পলাশ, কমরেড পলাশ বিশ্বাস, সিপিবির জেলা নেতা কমরেড আমিনুর রহমান হিনু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here