মণিরামপুরের ছেলেটিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের

0
120

মিজানুর রহমান, মনিরামপুর
নিবৃত পল্লীর শান্ত ছেলেটিই এখন এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিজ কর্মদক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার অবিচল ধারায় নিজেকে মেলে ধরায় তিনি এ নেতৃত্বভার পেয়েছেন। বাল্য ও শৈশব-কৈশরের অধিকাংশ সময় গ্রামে কেটেছে। গ্রামের মাটির গন্ধ আর মাঠ ভরা সবুজ ফসলের ঢেউ এখনো তার মনে দোলা দেয়। কবিতা পাঠে যার মনোবাসনা তৃপ্ত হয়। বিল ও পুকুরে সাতার কেটে, মাছ ধরে বন্ধুদের সাথে সময় কেটেছে।
এই শান্ত ছেলেটি আর কেউ নন। তিনি হলেন বাংলাদেশে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য। তার গ্রামের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঘুঘুদা গ্রামে গেলে এসব চিত্র উঠে আসে। তার বাবার নাম দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য, যিনি মাখন ভট্টাচার্য্য নামেই সমধিক পরিচিত। মা শিপ্রা ভট্টাচার্য্য। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে লেখক ভট্টাচার্য্য ছোট।
রোজা শুরুর পর থেকে ঢাকা ও ঢাকা শহরের আশেপাশে পথচারীসহ খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে ইফতারি বিতরণের দৃশ্য দেখেও অনেকে তার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্যও করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশসংসার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। এসব কর্মকান্ডের চিত্র দেখে নিজ এলাকার সর্বস্তরের জনতা তাকে নিয়ে গর্ব করছেন।
বৃহৎ সংগঠনের এ গুরুত্ব দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ২৮ ও ২৯ মার্চ মাত্র দু’দিনের জন্য প্রথম নিজ এলাকায় আসেন। গ্রামের এসে ভূলতে পারেননি ফেলে যাওয়া পুরানো দিনের স্মৃতি। তাইতো বাল্যবন্ধুদের ফোন করে ডেকে নিয়ে গ্রামের মেঠো পথে আড্ডা দিয়েছেন, জাল নিয়ে পুকুরে মাছ ধরেছেন।
রহিমা খাতুন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসানসহ লেখক ভট্টাচার্য্য’ের একাধিক বাল্যবন্ধু জানান, স্থানীয় গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে লেখক যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইসএসসি পাস করে ঢাকা বিশ^বিদ্যাালয়ে ভর্তি হয়। লেখক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষপদে আসীন হলেও তাদের কথা ভূলে যায়নি। বাড়িতেই এসেই সবাইকে মোবাইল ফোনে ডেকেছে, এক সাথে গ্রামের মেঠো পথে আড্ডা দিয়েছি।
মা শিপ্রা ভট্টাচার্য্য বলেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পরই লেখক তাকে বলেছিলেন, এখন তার দুই ছেলে না। বাংলার লক্ষ লক্ষ ছাত্রলীগের কর্মী তার ছেলে। সেই থেকে তিনি ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীকে নিজ সন্তানের মত ¯েœহ করেন। এ সময় তিনি বলেন, লেখকের বাবা ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টানা ৪ বছর শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। সংসারে একটু ছন্দ-পতন ঘটে। দুই ছেলের পড়ালেখার খরচ ও তাদের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা পেয়ে বসে। ছেলেদের পড়াশুনা চালাতে গিয়ে বাড়ির গাছ বিক্রি করেছেন। টিউশনি করেও ছেলেরা পড়া-লেখার খরচ যুগিয়েছে। অপরদিকে তাদের বাবার ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার পরও ২০১২ সালের ২৭ মার্চ তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রভাষক হাবিবুর রহমান বলেন, স্কুলে পড়াকালিন থেকেই লেখক ন¤্র-ভদ্র স্বভাবের। এলকার মরুব্বিদের সম্মান করতো।
অধ্যক্ষ মিলন ঘোষাল বলেন, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলির কারনে লেখক অনেক দূর পৌছে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here