বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হুক্কা

0
97

মিজানুর রহমান, মনিরামপুর

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক সময় হুক্কার ব্যাপক প্রচলন ও কদরছিল। এমনকি হুক্কার পানিও মহাষৌধী হিসেবে অনেক কাজ করতো। আজ গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য হুক্কার প্রচলন কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাবার পথে। আর এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাবার অন্তরলে রয়েছে মানুষের শরীরের ক্ষতিকর নিকোটিন সমৃদ্ধ বিড়ি ও সিগারেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।

জানাযায়, এখন থেকে তিন অথবা চার দশক আগেও যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ধুমপায়ীরা হুক্কার নেশায় অভ্যস্থ ছিল। উঠতি বয়সের তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক, বিত্তবান, ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির অনেকের বাড়িতে এ হুক্কার ব্যাপক প্রচলন ছিল। গ্রামগঞ্জের বৈঠকখানাগুলোতে পালাক্রমে হুক্কা টানতো বিভিন্ন বয়সের পুরুষরা। আর বৃত্তবানদের বাড়িতে ছিল নলের হুক্কা।

অধিকাংশ বৃত্তবানরা চেয়ারে গা এলিয়ে আয়েশি ভঙ্গিমাতে গৃহকর্তা নলের পাইপ মুখে দিয়ে যখন জমিদারী ভঙ্গিমায় হুক্কা টানতো। তখন এ দৃশ্যপানে অপলক নেত্রে চেয়ে থাকতো বৈঠকখানায় অগতরা। তামাক পাতা টুকরো টুকরো করে কেটে রোদে শুকিয়ে তাতে খেজুর গাছের চিটাগুড় মিশ্রিত করে তৈরি করা হতো হুক্কার প্রধান উপাদান। নারকেলের ছিদ্র করা মালার উপর কাঠের ডান্টা লাগানো আর তার উপরে অংশে মাটির কলকের ভিতরে মিশ্রিত প্রধান উপাদানের উপরি ভাগে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মালার ছিদ্র মুখে লাগিয়ে উপরের দিকে নিশ্বাস নিলে নিঃসৃত ধোঁয়া হুক্কার তলানির পানিতে কুড়–ত কুড়–ত শব্দ করলে এক প্রকার সুমিষ্ট ঘ্রাণ বের হয়ে আসতো তা থেকে।

বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে এ দৃশ্য দেখা সম্ভব না হলেও হুক্কার কুড়ুত কুড়ুত শব্দেই দূর থেকেও বোঝা যেত আশপাশে কেউ হুক্কা টানছে। এখন আর সেই পরিচিত শব্দটি নেই। কালের অবর্তনে হারিয়ে গেছে এ হুক্কার প্রচালন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এখনো হুক্কা দেখেনি।

উপজেলার গাবরডাংগা গ্রামের হুক্কা ব্যবহারকারী ষাটোর্ধ বয়সি হরেকৃষ্ণ বলেন, এক সময় আমাদের এলাকায় প্রায় সবার বাড়িতে ধুমপায়ু হুক্কা ব্যবহার করা হতো। এখন অত্র এলাকার মধ্যে আমার বাড়ি ছাড়া আর কোথায় এর ব্যবহার চোখে পড়েনা। মাঝে মধ্যে অনেক দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসে আমার বাড়িতে হুক্কার পানি নিতে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হুক্কার পানি বসফোড়া, গলাফোলা নিরাময় এবং ক্ষতস্থান পরিস্কার করাসহ বিভিন্ন ধরনের মহাষৌধী হিসেবে কাজ করে।

তবে, হুক্কার সেই স্থান বর্তমানে দখল করে নিয়েছে বিড়ি, সিগারেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। যাতে রয়েছে মানব দেহের বসচেয়ে বেশি ক্ষতিকর নিকোটিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here