বাঘারপাড়ার পল্লিতে বৃদ্ধের মরদেহ নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ, জমি ফিরিয়ে দিলে তারপর লাশ দাফন

0
101

এস.এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া
জমি জায়গা হলো কালশত্রু, ভাগ্যের কি নিয়তী, অর্থ সম্পদ সমপত্তির অভাব নেই, তারপরেও মরনের পরেও লাশ দাফন করার জায়গাটুকু জুটছে না, গোসল, দাফন-কাফন কপালে জুটছে না।
কি এমন শত্রুতা, কেন গ্রামবাসী লাশ দাফন না করতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাশ কেউ ছুয়ে দেখলো না, একটি গ্রামের ছোট বড় সবাই বাধা দেয় মাটি হবে না এই লাশ। ঘটনাটি ঘটে বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের নিত্যানন্দপুর গ্রামে গত ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ওহেদ আলী মাষ্টারের ছোট ভাই জয়নাল কারী (৭০) সাহেবের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েটিকে বিয়ে দেয় যশোর সদর উপজেলার সুতিঘাটার আশরেক শেখের ছেলে রেজাউল ইসলামের সাথে প্রায় ১৮/১৯ বছর পূর্বে।
জামাই মেয়ের কু-মন্ত্রে নিজে সহায় সম্পত্তি জায়গাজমি সব কিছু দলিল করে দেন মেয়ে ও জামাইয়ের নামে। দুই ছেলেকে পথে বসিয়ে আপন করে নিলো জামাইকে এসব বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী অনেকবার সালিশ বৈঠক করেও সমাধান করতে না পেরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করা হলেও কর্ণপাত করেনি জয়নাল কারী ও তার মেয়েয়ে জামাই।


গ্রামবাসী জানায় হঠাৎ করে গত ২১ এপ্রিল সকাল বেলা জামাই শ্বশুরকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে সারাদিন ভাল, সন্ধ্যার পর খাবার খাওয়ার পরেই নিরবে ঘুমিয়ে পড়েন। আর জয়নাল ঘুম থেকে জেগে দেখেনি তার মেয়ে জামাইকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আশপাশের মানুষ এখবর পেয়ে তার ছেলেদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দিলে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে মৃত্যুর কারণ সুরতহাল করার দাবী জানান।
২২ এপ্রিল সকাল বেলা বাবাকে দেখতে যান যশোর জেনারেল হাসপাতালে সেখানে যাওয়ার পর বোন জামাইয়ের পক্ষ থেকে বলে দেন আজ হাসপাতালে অনেক লাশ কাল হবে ময়না তদন্ত। মুকাদ্দেস ও ইব্রাহিম দুই ভাই ফিরে আসেন বাড়িতে কাল আসবে বাবার মরা লাশ।
এদিকে বোনের জামাই রেজাউল মনে মনে চক্রান্তি করে মোটা অংকের বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্তের মনগড়া রির্পোট স্বাভাবিক মৃত্যু বলে লাশ নিয়ে সোজা শ্বশুরের বাড়িতে হাজির বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে। লাশ আসবে আজ শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দেখেতো হতবাক গ্রামবাসী, কারণ কি নিশ্চয় এর কোন রহস্য রয়েছে। রুখে দাড়াই গ্রামের মানুষ কেউ হাত লাগায়নি জয়নালের লাশের। সবার একই দাবী রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং এখানে তার দাফন করা যাবে না মূহুর্তের মধ্যে এখবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা গ্রামে মানুষের ঢল নামে সামাজিক, রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, মিডিয়া কর্মীদের।
একপর্যায়ে সামাজিকভাবে এ রহস্যের মূল কেন্দ্র বিন্দু মেয়ে ও জামাইকে ৮ বিঘা জমি দলিল করে দেয়াতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত। ছেলেদের দোষ কি, তারা কি পাবেনা পিতার জমি এনিয়ে সামাজিক ব্যক্তিদের মতামত প্রসঙ্গে নুতন করে সম্পত্তি ভাগ বন্টন এবং বোন জামাই দুজনের ফিরিয়ে দিতে হবে পিতার জমি তা না হলে লাশ এই গ্রামে দাফন করা হবেনা।
গ্রামবাসীর চাপের মূখে অবশেষে মেনে নেয় বোন ও তার জামাই রেজাউল ইসলাম। রাত ১০ টার পর গ্রামবাসী কবর খুড়তে রাজি হয় এবং ১২ টার পর লাশ দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। শ্বশুরের মৃত্যুর বিষয় জামাই রেজাউলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলতে রাজী হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here