পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ গেল মা ছেলেসহ ৪ জনের

0
66

বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ছেলেসহ প্রাণ গেল ৪ জনের। নিহতরা হচ্ছে, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শেকলঘোনা গ্রামের শফুরা বেগম (৭২) ও তার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪২), অভয়নগর উপজেলার পুড়াখালী গ্রামের রশিদ সরদারের ছেলে ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম (৫৫) এবং মনিরামপুর উপজেলার ঘরিয়া ভরপতপুর গ্রামের রাশেদ হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম(২০)।

নিহত শফিকুল ইসলামের ভাইপো তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শফিকুল ইসলাম তার মেয়ে রায়সা (৭) ও মা শফুরা বেগমকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চালিয়ে শুক্রবার সকালে নাভারন যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আনসার ক্যাম্প কামারবাড়ি মোড়ে পৌঁছুলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে শফিকুল ইসলাম মারা যান এবং বিকেল তিনটার দিকে শফুরাও মারা যান। এছাড়া রায়সা হাসপাতালে ভর্তি আছে।

হাসপাতলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমিয় দাশ বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া শিশুটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

রবিউলের ভাই আবু তাহের জানান, রবিউল সকালে নসিমনে ধান বোঝাই করে শুক্রবার সকালে পুড়াখালী থেকে ভৈরব সেতু পার হয়ে নওয়াপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। নওয়াপাড়া জুটমিলের সামনে পৌঁছালে তার নসিমনটি উল্টে যায়। তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন।

এ সময় যশোরগামী একটি ট্রাক চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোক্তাদিরুল হক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মাহমুদ আলম বলেন, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নসিমন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

নিহতের স্বামী রাশেদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাশেদ ও তার স্ত্রী রহিমা মোটর সাইকেল যোগে তাদের বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি ভরতপুর যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে গঘুধা এলাকায় পৌছালে অসাবধানতা বসত রহিমা মোটর সাইকেলের পিছন থেকে পড়ে গাছের সাথে ধাক্কা খায়।

এসময় রাশেদ হোসেন রহিমাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্ কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। সকাল ১১টায় সার্জারী বিভাগের ইন্টার্ণ চিকিৎসক সালাউদ্দিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here