পাইকগাছায় জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে যুব সমাজ

0
40

আ. সবুর আল আমীন, কপিলমুনি

খুলনার পাইকগাছায় আইপিএল ক্রিকেট খেলা (জুয়া) কে কেন্দ্র করে পুলিশের দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে অত্র এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার যুব সমাজ আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অনেকেই ঋণের বোঝা সইতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে।

জুয়াড়ীরা জুয়ার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময় চুরি-ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি জুয়ায় সবকিছু হারিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনার পর আইপিএল জুয়ার আসর সম্পর্কিত নানাতথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশও তৎপর রয়েছে এ ধরণের জুয়ার আসর নির্মূল করতে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, চলতি আইপিএল ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে গত ৯ এপ্রিল থেকে ১২ই এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদখালী বাজারের জনৈক ব্যক্তির চায়ের দোকানে বেটিং জুয়া খেলা হতো। জুয়া খেলায় এলাকার কতিপয় যুবকরা অংশ নিয়ে তাদের সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। জুয়ার আসরের দুই জুয়াড়ীর একজন হচ্ছে শেখ আহাদ (২২)। সে চককাওয়ালী গ্রামের শেখ জুলফিকার আলীর ছেলে।

আরেক যুবক পলাশ সরদার (২৫) একই এলাকার আজাদ সরদারের ছেলে। জুয়া খেলার জন্য পলাশ আহাদের নিকট থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার নেয়। আহাদ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং তার নিজের মটর সাইকেল বন্ধক রেখে এই টাকা সে পলাশকে ধার দেয়। জুয়া খেলায় পলাশের সমস্ত টাকা খোয়া যায়। পরে আহাদ তার টাকা চাইলে পলাশ দিতে পারবেনা বলে সাব জানিয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্যদের কাছে বাকিতে জুয়া খেলে দেনা হয় আহাদ। ধারের টাকা দিতে অস্বীকার করায় এবং জুয়া খেলে দেনা হয়ে যাওয়াই আহাদ গত ১৩ই এপ্রিল সকালে গলাই ফাঁস লাগাইয়া আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে আহাদ বেঁচে যায়।

এঘটনায় থানার এসআই সুজিত ঘোষ বাদি হয়ে আটক দুইজন সহ ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা করেন। যার নং-১৯, তাং-১৭/০৪/২০২১ইং। এই মামলায় পুলিশ প্রথমে আহাদ ও পলাশকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। ওসি এজাজ শফী জানান, সর্বশেষ এ মামলায় আরো ৫জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, চককাওয়ালী গ্রামের সবুর গাজীর ছেলে রুবেল গাজী (২৩), মোশারফ সানার ছেলে মোকলেস সানা (২৫), ফতেপুর গ্রামের মান্নান গাজীর ছেলে রুহুল আমিন (২৩), আবুল সানার ছেলে শুকুর আলী (২৫) ও সবুর গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪)। আটককৃত এ ৫ আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ওসি এজাজ শফী বলেন, আইপিএল ক্রিকেট খেলা কেন্দ্রীক জুয়া খেলায় জুয়াড়ীরা সচারচর ইন্টারনেট, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাজি ধরে থাকে।

এই জন্য এদেরকে ধরা অনেক কঠিন হলেও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইপিএল নামক জুয়া খেলা নির্মূল করতে কৌশলগত নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভার চেয়ারম্যান, মেম্বর, মহিলা মেম্বর, চৌকিদার-দফাদার, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্য, বাজার কমিটির সভাপতি-সম্পাদক, এলাকার সচেতন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সোর্সদের মাধ্যমে আইপিএল কেন্দ্রিক জুয়াড়ীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ পূর্বক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভয়াবহ এ জুয়া খেলা থেকে এলাকার যুব সমাজকে রক্ষা করতে পারবো। এলাকার সকলের সহযোগিতা পেলে এলাকা থেকে এ ধরণের অপরাধ খুব দ্রুত নির্মূল হবে বলে আশার কথা শোনান ওসি এজাজ শফী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here