মহেশপুরের পোড়াপাড়া পশুহাট বিলীন হচ্ছে চৌগাছার অবৈধ পশু হাটের দাপটে॥ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, লাভবান হচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

0
28

আনওয়ারুল ইসলাম, মহেশপুর
মহেশপুরের পোড়াপাড়া পশুর হাট বিলীন হতে যাচ্ছে চৌগাছার ঋষিপাড়ার অবৈধ পশু হাটের দাপটে। বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। লাভবান হচ্ছে চৌগাছার পৌর মেয়রসহ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলাধীন ১১নং মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত পোড়াপাড়া পশুর হাট ইজারা গ্রহন করা নিয়ে বাংলা ১৪২৪ সনে অংশীদারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ কারণে বাংলা ১৪২৩ সনের পোড়াপাড়া পশুর হাট ইজারাদার চৌগাছার আনোয়ারুল ইকবাল ওরফে ডাবলু দেওয়ান, হাটের অংশীদার ঝিনাইদহের ওয়াহিদ সাদিক এবং অপর অংশীদার আবিদ হাসান লালু বাংলা ১৪২৪ সনে আলাদা আলাদা সিডিউল ক্রয় করে ইজারায় অংশ গ্রহন করেন।
কিন্তু হাটটি বাংলা ১৪২৪ সনের জন্য ১,১৩,২৫,০০০/- (এক কোটি তের লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকায় ওয়াহিদ সাদিক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে ইজারা গ্রহন করেন। ভ্যাট আয়করসহ সর্বমোট ১,৪১,৫৬,২৫০/- টাকা পরিশোধ করেন। অপর অংশ গ্রহনকারী দুই ইজারাদার ইজারায় টিকতে না পেরে আনোয়ারুল ইকবাল, আতাউর রহমান লাল, গোবিন্দ্র সাতরা ও আবিদ হাসান লালু পোড়াপাড়ার পশুহাটের ক্ষতি সাধনের লক্ষে ক্ষিপ্ত হয়ে চৌগাছা পৌর মেয়র নুর উদ্দীন আল মামুন হিমেল এর সহায়তায় সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবেঅবৈধ জায়গায় পোড়াপাড়া পশুহাটের দিন রবি ও বুধবারের সাথে মিল রেখে চৌগাছা ঋষিপাড়া নামক স্থানে পশুহাট বসায়।
পৌর মেয়র সরকারের অনুমতি না নিয়েই পৌরসভা থেকে হাটটি আনোয়ারুল ইকবালের নামে মাত্র ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা প্রদান করেন।
উল্লেখ যে, চৌগাছা পৌর পশুহাটের পূর্ব নির্ধারিত দিন ছিল শুক্র ও সোমবার। ফলে পোড়াপাড়া পশুহাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ১৭এপ্রিল ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে ০৫.৪৪.৪৪৭১.০০০.১১.০০২.১৭-৫১৭নং স্মারকে চৌগাছা ঋষি পাড়ায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসক, ঝিনাইদহকে পত্র দিয়ে অবহিত করেন।
একই তারিখে চৌগাছা ঋষি পাড়ায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য পোড়াপাড়া পশুহাট ইজারা গ্রহিতা ওয়াহিদ সাদিক বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ, খুলনা, আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে হোসেন আলী খোন্দকার, পরিচালক, স্থানীয় সরকার, খুলনা বিভাগ,খুলনা গত ১১ মে ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে চৌগাছা ঋষিপাড়ায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত পশুহাটের জায়গা এবং মহেশপুর উপজেলার পোড়াপাড়া পশুহাটের জায়গা পরিদর্শন করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে চৌগাছা পৌরসভা পশুহাটটি ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েলের ২২৯নং অনুচ্ছেদ “ নতুন হাট বাজার প্রতিষ্ঠা করা বা পুরাতন হাট বাজার তুলে দেওয়া সংক্রান্ত সকল আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হাট বসিয়েছে উল্লেখ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ০৪ জুলাই ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে ০৫.৪৪.০০০০.০০২.০০২৬.০৪.২০১৭-৬৮১(২) নং স্মারকে আব্দুস সামাদ, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা চেয়ে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা পত্র প্রেরণ করেন।
পত্র প্রাপ্তি হয়ে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা গত ০২ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে ৪৬.০০.০০০০.০৪১.০৩০.০৩৮.২০১৫-৩৩৩ নং স্মারকে জেলা প্রশাসক, যশোর মহোদয়কে চৌগাছা উপজেলাধীন ঋষিপাড়া নামক স্থানে স্থাপিত পশুহাটটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সচিব মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক গত ২৯ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে চৌগাছা ঋষিপাড়ায় স্থাপিত অবৈধ পশুহাটটি উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় পৌর পশুহাট ইজারা গ্রহিতা আনোয়ারুল ইকবাল বাদী হয়ে হাই কোর্টে ১৩৮৫০/১৭ রীট পিটিশন করেন। রিট পিটিশন ১৩৮৫০/১৭ দীর্ঘ দিন শুনানির পর গত ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রিঃ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং মাননীয় বিচারপতি জাফর আহমেদ এর সমন্বয় গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ মামলাটি শুনানী অন্তে ডিসচার্জ করে রায় প্রদান করেন। ফলে চৌগাছার ঋষিপাড়ায় অবৈধ ভাবে স্থাপিত পশুহাটটি অবৈধ ঘোষিত হয়।
হাইকোর্ট কর্তৃক অবৈধ বিবেচিত হওয়ার পরও চৌগাছার অবৈধ পশু হাটটি চালিয়ে যাওয়ায় মহেশপুরের পোড়াপাড়া পশু হাট বিলীন হতে যাচ্ছে। অপরদিকে বছরে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
লাভবান হচ্ছে চৌগাছা পৌর মেয়রসহ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করেছেন এলাকাবাসী ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here