বেনাপোল ট্রাক টার্মিনালের কার্যক্রম ব্যর্থ করে দিতে অশুভ চক্রের অপতৎপরতা

0
69

বেনাপোল প্রতিনিধি
দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল এলাকার যানজট নিরসনের জন্যে বেনাপোল পৌরসভার উদ্যেগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থ সহযোগিতায় নির্মিত ট্রাক টার্মিনাল গত ১৩ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এরপর থেকেই পৌর সভার পক্ষ থেকে স্থল বন্দর এলাকার সকল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সহ ট্রাক মালিকদের বন্দর এলাকার যত্র তত্র ট্রাক দাঁড় না করিয়ে সেগুলোকে টার্মিনালে অবস্থান নেওয়ার বার বার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রত্যেকদিনই এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ বন্দর এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করছে। তথাপিও এক শ্রেনীর অসৎ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক তথা ট্রাক মালিকগন এই আহবান উপেক্ষা করছেন। তারা আন্তর্জাতিক যাত্রী পারাপারের প্রধান সড়ক এর ওপর যত্র তত্র ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখছেন। এমনকি যদি অন্য কোন ট্রান্সপোর্ট মালিক বা ট্রাক মালিক উল্লেখিত ট্রাক টার্মিনালে তাদের ট্রাক রাখেন সে ক্ষেত্রেও এই চিহিৃত অসাধু চক্রটি বাধা প্রদান করছে। তারা বিভিন্ন ভাবে পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অকার্যকর করার অপতৎপরাত অব্যাহত রেখেছে। এই ট্রাক টার্মিনালটি নির্মানে সাকুল্যে খরচ হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৫শত ৩ টাকা।
উল্লেখ্য বেনাপোল স্থল বন্দর বেনাপোল পৌর সভা এলাকায় অবস্থিত। পৌর সভার আর্থিক উন্নয়ন কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি প্রদান বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মান ইত্যাদি কাজের ব্যয় নির্বাহের অর্থ যোগানে সহযোগিতা করার জন্য এই ট্রাক টার্মিনালটি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পৌর সভার কাছেই হস্তান্তর করেছে। সেই মোতাবেক আয় উপার্জন এর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ট্রাক টার্মিনালের জন্য ইজারাদার নিযুক্ত করেছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে ট্রাক টার্মিনাল থেকে যে আয় হবে তার শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট হিসাবে ও ৫ ভাগ আইটি হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। বাকি ৮০ ভাগ পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দর বেতন সহ উন্নয়ন খাতে ব্যায় হবে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে উল্লেখিত চিহিৃত অসাধু ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিকগন বেনাপোল পৌর সভার নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকায় তাদের ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন ব্যাতিরেকেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌরসভা বারংবার তাগিদ দিলেও তারা তা উপেক্ষা করছে । উপরন্ত দাম্ভিকতা প্রদর্শন করছে। এ যাবৎ প্রায় অত্র এলাকার ৪ শত ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ির কাছে পৌরসভার বকেয়া পাওনা প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা।
প্রাপ্ত অভিযোগে আরো জানা গেছে গত ১৮/০৪/২০২১ তারিখে ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় যাতে যানজট না হয় সে জন্যে সুশৃঙ্খল ভাবে টার্মিনালের অভ্যন্তরে ট্রাক প্রবেশের দায়িত্বে নিয়োজিত একজন পৌর কর্মচারীকে বেনাপোল পোর্ট থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই আটক করে অহেতুক থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ একজন কর্মচারীকে দায়িত্ব পালন কালে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে পৌর কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন বেনাপোল পৌরসভা কমিটি আজ সোমবার সকালে পৌর ভবনে সকল কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠকে বসে। এই বৈঠকে পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কারো সাথে আলাপ ব্যাতিরেকে উল্লেখিত মাসুদ রানাকে কেন আটক করে থানায় নেওয়া হলো সেসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এই সভা থেকে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যদি পৌরসভার রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে পুলিশ প্রশাসন ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি বাধা প্রদান সহ অসহযোগিতা অব্যাহত রাখে তাহলে আগামি ২ মে ২০২১ তারিখ থেকে পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ পৌরসভার সকল প্রকার নাগরিক সেবা সহ পানি বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ইত্যাদি বন্ধ করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতীতে যেতে বাধ্য হবে।
এই সিদ্ধান্ত সম্বলিত একটি স্মারক লিপি সিনিয়র সচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় ঢাকা, জেলা প্রশাসক যশোর, পুলিশ সুপার যশোর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শার্শা, যশোরকে তাৎক্ষনিক ই-মেইল করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন বেনাপোল পৌর কমিটি সভাপতি রফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য বেনাপোল পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে তার নিজস্ব আয় দ্বারা। এটি দেশের একটি ক” শ্রেনী ভুক্ত পৌরসভা। পৌর বাসিন্দাদের পৌর কর ও পৌর এলাকায় অবস্থিত বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও খাত থেকে প্রাপ্ত আয় এই পৌর সভা পরিচালনার একমাত্র নির্ভরতা। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ট্রাক টার্মিনালের আয় উপার্জন। কিন্তু শুরুতেই একটি অশুভ চক্র এই ট্রাক টার্মিনালের কার্যকরিতা নিস্ক্রিয় করতে অপতৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার উক্ত কর্মচারীকে আমরা আটক করিনি। তাকে শুধু আনা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওসি সাহেবকে কথা বলানোর জন্যে। আমরা আলোচনার পরেই তাকে স্ব সন্মানে যেতে দিয়েছি। তবে বাংলাদেশ পৌর সভার সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন বেনাপোল পৌর সভা ও যশোর জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুম রনি বলেন আমরা সরকারের কোষাগার থেকে স্বল্প পরিমান বেতন ভাতাদির সহযোগিতা পাই। বাকি অর্থ আমাদের নিজেদেরকেই উপার্জন করতে হয়। সেই কারনে এই আয় বর্ধক নতুন ট্রাক টার্মিনালটি থেকে প্রাপ্ত আয় যেমন আমরা পৌর কর্মচারীদের বেতন ভাতাই ব্যায় করবে পাশাপাশি আমাদের একটি লক্ষ রয়েছে যে, অতিরিক্ত জমাকৃত টাকা দিয়ে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের একটি পৌর পার্ক, একটি পৌর মার্কেট সহ আরো কিছু নাগরিক সুবিধাদি নির্মান করব।
আমাদের এসকল শুভ কাজে পুলিশ প্রশাসন সহ ট্রান্সপোর্ট মালিক ও পৌর এলাকার সুধিজনদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here