মণিরামপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট নিয়ে দু:চিন্তায় চাষিরা

0
28

মিজানুর রহমান, মণিরামপুর
অন্যবারের মতো এবারও যশোরের মণিরামপুরে গিট ব্লাস্টের আক্রমণে স্বপ্ন ভেঙেছে বোরো চাষিদের। ধান পাকার আগ মুহূর্তে ক্ষেতে ব্লাস্ট দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্রি-২৮ ও মিনিকেট জাতের ধান চাষিরা। ধানে গোলা ভরার স্বপ্ন ফিকে হতে যাচ্ছে অনেকের।
নানা প্রকার বিষ প্রয়োগ করেও প্রতিকার মিলছে না কৃষকদরে। উপায়ন্তর না পেয়ে কাঁচা ধান কেটে বাড়ীতে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকেই।

কৃষকদের অভিযোগ, অসহায় মুহূর্তে কৃষি অফিসের কোনো পরামর্শ পাওয়া যায় না। মাঠপর্যায়ের (উপ-সহকারি) কর্মকর্তারা কৃষকদের খবর রাখেন না এমনও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার রোহিতা, শেখপাড়া ও রঘুনাথপুর, খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাঠের খোঁজ খবর নিয়ে কয়েকটি ক্ষেত ব্লাস্টে বোরো ধান নষ্ট হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কাশিমনগর, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, কুলটিয়া, মশ্বিমনগর, দেবীদাসপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বিচ্ছিন্নভাবে ব্লাস্টের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। যদিও ব্লাস্টের কোনো খবর রাখেন না উপজেলা কৃষি অফিস।

রোহিতা শেখপাড়া গ্রামের বোরো চাষি আজগার আলী জানায়, ‘একবিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ চাষ করেছি। ধান পাকা শুরু করেছে। ৮-১০ দিন আগ থেকে ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। বিষ প্রয়োগ করেও প্রতিকার হয়নি। ব্রি-৬৩ জাতের ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২৫ মণ ধরা যায়। আমার জমিতে এবার পাঁচ মণ হবে কিনা আশংকা করছি।’

আজগার অভিযোগ করেন, ‘কোনো সময় স্থানীয় কৃষি অফিসারকে পাশে পাই না। ধানের খারাপ অবস্থা দেখে কীটনাশকের দোকানে দৌড় মারি। দোকানদারের বুদ্ধিমতো বিষ দিই। কাজ হয় না।’

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল গফফার জানায়, ‘দেড়বিঘা মিনিকেট ধানের চাষ করেছি। পাকার মুহূর্তে শীষের গিটের নিচ থেকে পোকায় কেটে দিচ্ছে। কীটনাশক স্প্রে করেছি, কাজ হয়নি। উপায় না পেয়ে ২০ শতক জমির ধান কেটে নিয়েছি। বাকিটারও একই অবস্থা।’

জলকর রোহিতা গ্রামের রাহাতউল্লাহ নামের এক চাষির দুই বিঘা জমির ধান ব্লাস্ট রোগে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনিও ধান কেটে ফেলছেন।

এছাড়া শেখপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের একবিঘা, মনিরুল ইসলামের একবিঘা, সাহেব আলীর দশ কাঠা, হায়দার আলীর দশ কাঠা, আমিনুর হোসেনের দশ কাঠা, খোকনের দশ কাঠা ও মাহমুদকাটি গ্রামের মুজিবর হোসেনের ১৫ কাঠা জমির বোরো ধান ব্লাস্টের আক্রমণে শেষ হয়ে গিয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি মণিরামপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো ধানের শীষ নষ্ট হয়েছে এমন কথাও রয়েছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, মণিরামপুরে এবার ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তার মধ্যে গরম হাওয়ায় আট হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া এবার ধানের বাম্পার ফলনেরও আশা করা হচ্ছে।

রোহিতা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তুহিন বিশ্বাস বলেন, ‘এবার আমার এলাকায় ব্লাস্ট নেই। আমি সবসময় মাঠে থাকি। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিই। কোনো কৃষক ফসলের সমস্যা নিয়ে যদি না জানায় তাহলে সে দোষতো আমার না!’ খেদাপাড়া ইউনিয়নে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনও একই কথা বলেছেন। তার ভাষায় কৃষকরা কিছুই না বললে আমরা তো আর জতিষী নয়।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসানও ব্লাস্ট নেই বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, উপজেলার কোথাও বোরো ধানে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা যায়নি। ঝড়ো হাওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে আট হেক্টর জমির ধানের শীষ শুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

একপর্যায়ে কৃষকদের নাম-ঠিকানা নিয়ে তিনি সরেজমিন রোহিতা শেখপাড়া মাঠে গিয়ে ব্লাস্ট আক্রান্ত ক্ষেতের সন্ধান পাওয়ার পর স্বীকার করেন ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন অভিযোগটি। নতুন এসেছি এমনটি দাবী করে কর্মকর্তা বলেন, আগামীতে যেন কৃষক ফসলের রোগ নিয়ে ক্ষতির শিকার না হন সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here