সর্বাত্মক লকডাউন পালনে বেনাপোলে কঠোরতা॥ সাধারন জনজীবন বিপর্যস্ত

0
35

আশাদুজ্জামান আশা, বেনাপোল
সর্বাতœক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও বৃহস্পতিবার বেনাপোল স্থল বন্দর ও পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কঠোরভাবে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নের ইতিবাচক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যদিও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বেনাপোল কাঁচাবাজার, মাছবাজার ও মাংসের বাজার এলাকা খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজা এই প্রতিবেদকের কাছে মোবাইল ফোনে জানান, সুবিধাজনক খোলা জায়গায় বাজার সস্থানান্তর করার জন্যে আমরা পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা বলেছেন গত বছর এর মতো এবারও তারা বাজার সরিয়ে নিবেন।
আইনশৃঙ্খরক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি তৎপর বটে। তবে সাধারন মানুষ বিশেষ করে ইজিবাইক চালক ভ্যান চালক দিন মজুর ফুটপাতের সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রেতা কিংবা হকার শ্রেনীর শ্রমজীবি মানুষ গুলো চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে। তারা ঠিকমত কিছুই করতে পারছে না।
ফলে দিন আনা দিন খাওয়া এই প্রান্তিক জনগোষ্টির মানুষ গুলো পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে পতিত হয়েছেন। গতবার যেমন লকডাউনের শুরুতেই পৌরসভা ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেমে দ্রুত চাল ডাল তেল লবন সহ ত্রান পৌছে দেওয়া হয়েছিল হতদরিদ্রদের মধ্যে এবার তার লক্ষনও নেই। ফলে সাধরন জনগনে বিরাজ করছে চরম হতাশা।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বাজার চলবে সকাল ৯ থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত। তাহলে ক্রেতা বিক্রেতাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সময়ের মধ্যে ভ্যান ইজিবাইক সহ অন্যান্য যানবাহন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে দিতে হবে। কিন্তু এখানে তা মানা হচ্ছে না। বেলা ১০ টার পর কোন যানবাহনই রাস্তায় থাকতে পারছে না। তাহলে বাজার ঘাট চলবে কি ভাবে? এমনকি অসুস্থ রোগী বহন কিভাবে হবে? সরকার বলবে মুভমেন্ট পাশ লাগবে কিন্তু হতদরিদ্র অশিক্ষিত সাধারন জনগন কি ভাবে অনলাইনে মুভমেন্ট পাশ জোগাড় করবে ? লকডাউন হোক করোনা প্রতিরোধ অভিযান চলুক সব ঠিক আছে। কিন্তু অবাস্তব কোন কিছু কি যৌক্তিক? এরকমই সাধারন জনমানুষের মনের অভিব্যক্তি।
সরোজমিন বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে এসব জানা গেছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা জনগনের সুবিধার দিকে লক্ষ রেখেই সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য গতবছর লকডাউন চলাকালে কাস্টমস পুলিশ বন্দর সহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানও সাধারন জনগনের পাশে ত্রান সামগ্রীর সাহায্য নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু এবার কাউকেও দেখা যাচ্ছে না। ভরসা শুধু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। তাদের পক্ষ থেকেও কবে সাহায্য আসবে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীফ রেজা জানান, দ্রুতই প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী ৪৫০ টাকা করে জনপ্রতি বরাদ্দ হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here