মণিরামপুরে সেই দু’টি পুকুর পুনঃখনন টেন্ডারে এবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন ঠিকাদার

0
78

মিজানুর রহমান, মণিরামপুর
মণিরামপুরে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের সেই দু’টি পুকুর পুনঃখননের টেন্ডারে এবার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। উক্ত পুকুর খননে মেসার্স জাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েও পরে কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল ইসলাম ও তার জামাতা আইনুল ইসলামকে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। মোটা অংকের ঘুষ গ্রহনের মাধ্যমে টেন্ডারে এ অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাহিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারি জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, কোটেশনের ভিত্তিতে এবং পিআইসির মাধ্যমে পুকুর পুনঃখননে তার প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তিনি সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে মণিরামপুর উপজেলার হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননের কাজ পান।

তারপরও সংশ্লিষ্ট অফিসের সাবেক ডিপিডি (উপ প্রকল্প পরিচালক) মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে তার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন জেলা মৎস্য কর্মকতা আনিছুর রহমান। সে মোতাবেক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননের কার্যাদেশ দেয়া হয়। যার ক্রয় আদেশ নম্বর ৩৩.০২.৪১০০.৪০০, ৮৭.০১৫.২১.১৯৯। একই এলাকার বাগবাড়িয়া পুকুর পুনঃখননের জন্য এলসিএস দলনেতা (চুক্তিবদ্ধ ভূমিহীন সমিতি) নির্বাচনপূর্বক কমিটি জমা দেয়ার কথাও বলা হয়।

কিন্তু কয়েকদিন পার হতেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুর পাল্টিয়ে তার নিকট আরও অর্থ দাবি করেন। চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তার কার্যাদেশের সময় পার হওয়ার আগেই আবুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার ও তার জামাতা আইনুল ইসলামকে এলসিএস’র দলনেতা দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকার পুকুর পুনঃখননের কাজ পাইয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জাহিদুল ইসলাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উপর মহলের চাপ আছে, তাই কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে সাবেক ডিপিডি মাহবুর রহমান জানান, ঠিকাদার জাহিদুল ইসলামের বাড়ি যশোর শহরে হওয়ায় মণিরামপুর উপজেলায় কাজ করতে অসুবিধা হবে বিধায় তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন। বিধায় নীতিমালা মেনেই পুনরায় টেন্ডারের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

অবশ্য এ কথা মানতে নারাজ ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম। যশোর জেলার আরও কয়েকটি উপজেলায় পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে তার। যা জেলা মৎস্য অফিসের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হচ্ছে। খননের কাজের ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিন ভাড়া করাসহ যাবতীয় কাজ অফিসের ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হয়।
ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম দাবী করেন তিনি জেলা মৎস্য অফিস সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে পুনরায় কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

যা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেই অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, জেলা মৎস্য অফিসার আনিছুর রহমান তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় পলিটিক্সের কারণে মেসার্স জাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে চাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here