মণিরামপুরে পুকুর পুনঃখননে বরাদ্দ সাড়ে ১৭ লাখ টাকার কাজ ৪ লাখে শেষ, বাকী অর্থ লোপাটের চেষ্টা জামাই-শ্বশুরের

0
72

মণিরামপুর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় দু’টি পুকুর পুনঃখননের নামে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজ ৪ লাখে শেষ করে বিল উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামাই-শ্বশুরের বিরুদ্ধে।

শ্বশুর আবুল ইসলাম উপজেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক এবং তার জামাই আইনুল ইসলাম। জামাইকে ভূমিহীন দেখিয়ে শ্বশুর-জামাই মিলে পৃথক দু’টি প্রকল্পের একটির দলনেতা জামাই আইনুল ইসলাম ও অপরটির ঠিকাদার শ্বশুর আবুল ইসলাম যিনি একই পুকুরের লীজ গ্রহনকারিও বটে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাযায়, মৎস্য অধিদপ্তরের জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের পুকুর পুনঃখননে ১২ লাখ ৪৪ হাজার এবং একই ইউনিয়নের হায়াতপুর পুকুর পুনঃখননে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

হায়াতপুর পুকুর পুনঃখনন কাজের ঠিকাদার উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ইসলাম এবং বাগমারা পুকুর পুনঃখননের এলসিএস দলনেতা জামাই আইনুল ইসলাম।

দু’টি প্রকল্পের কাজই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং ৩১ মার্চ সমাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ ধার্য্য হয়। এরমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে বলে দুই প্রকল্পের ঠিকাদার ও দলনেতা নিশ্চিত করেন।

অভিযোগ উঠেছে দু’টি প্রকল্পের কাজে খরচ হয়েছে মাত্র ৪ লাখ টাকা।

সরেজমিনে জানাযায়, একটি পুকুর খননে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ১’শ ঘন্টা মাটি কাটা হয় এবং অপরটি খননে মাত্র ৩০ ঘন্টা মাটি কাটা হয়েছে।

দু’টি পুুকুরের তলায় কোন মাটি কাটাকাটির কাজ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্কেভেটর চালক জসীম উদ্দীন জানান, প্রতিঘন্টা ২ হাজার টাকার চুক্তিতে বাগমারা পুকুর খননে ১শ’ ঘন্টা মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে।

অপরটি হায়াতপুর পুকুর খনন কাজে প্রতি ঘন্টা ২৫’শ টাকা চুক্তিতে ৩৫ ঘন্টা মাটি কাটার দাবী করেন অপর স্কেভেটর চালক উজ্জ্বল।

পুকুর পাড়ের মাটি সমান করতে বাগমারা পুকুরে দৈনিক ৫ জন করে শ্রমিক ১৬ দিন এবং অপরটিতে সমান সংখ্যক শ্রমিক ৫ দিন কাজ করেছেন।

সিডিউল অনুযায়ী পুকুর পাড় থেকে ৫ ফুুট ঢালুর পরে আরও ৫ ফুট ঢালুর কাজ করে ৮ ফুট চওড়ার পাড় বাঁধানোসহ পুকুরের তলায় গড়ে ২ থেকে ৬ ফুট গভীর করার কথা থাকলেও সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়নি।

কিন্তু পুকুরের পাড় বাঁধানোর কাজেও শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

পুকুর পাড়ের ব্যক্তি মালিকানা জমিতে মাটি ছিটিয়ে পাড় বাঁধানো দেখানো হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহজাহান নামের এক জমি মালিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

শাহজাহান জানান, পুকুর খননের নামে অর্থ লুটপাটের আয়োজন করা হয়েছে।

তার নিজ জমির উপর মাটি ছিটিয়ে পাড় বাঁধা দেখানো হয়েছে। যা একটু বৃষ্টি হলেই বোঝা যাবে।

শ্রমিক আনোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন, শিমুল হোসেন, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ৩শ’ টাকা দিন চুক্তিতে বাগমারা পুকুরে ২২ দিন এবং অপরটিতে মাত্র ৫ দিন কাজ করে শেষ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর এস্টিমেড অনুযায়ী কাজ হয়েছে।

প্রকল্পের প্রকৌশলী গৌতম সাহা জানান, পুকুর পুনঃখনন কাজের চূড়ান্ত বিল এখনও প্রদান করা হয়নি। সামান্য ত্রুটি আছে যা ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

হায়াতপুর পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের ঠিকাদার আবুল ইসলাম জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করা হয়েছে, এখন বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।

বাগমারা পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের দলনেতা আইনুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ শেষ করা হয়েছে।

মোঃ মিজানুর রহমান
মণিরামপুর প্রতিনিধি
মোবাইলঃ ০১৭২৫-২২৪১১২
তারিখঃ ০৬/০৪/২০২১ইং।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here