পাইকগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু ফরহাদের আকুতি ভিক্ষা নয়, কর্মের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে চাই!

0
68

আঃ সবুর আল আমীন, কপিলমুনি
এখনও মানবতা ধুঁকছে নিরবে নিভৃতে সবার অলোকে। অসহায়ত্বের লুকানো কান্না কেউ দেখতে না পেলেও রবিবার এ প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়লো চোখের নোনাজলে কপোল ভেজা এক হতভাগা যুবকের ছবি। হতাশা আর ক্ষুধার জ্বালায় বিবর্ণ মুখ থেকে অস্ফুট কথায় অনেকটা শরমে বললো তার বিষাদময় জীবনের বেদনার কথা। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামের মোশাররফ সরদারের ছেলে সুদর্শন ও সুঠাম দেহের অধিকারী এস এম ফরহাদ হোসেন (৩২) এখন পঙ্গু।
২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী পড়ন্ত বিকালে মটর সাইকেল যোগে বাড়ি যাওয়ার সময় উপজেলা সদরের শিববাটিতে নসিমনের সাথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাতœক আহত হয় সে। মাথায় প্রচন্ড আঘাত সহ ক্ষত বিক্ষত হয় দেহের বিভিন্ন অংশ। বাম পায়ের উপর পর্যন্ত হাড় চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মুমূর্ষুবস্থায় খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল ঘুরে নেয়া হয় ভারতে।
সেখানে ব্যায়বহুল চিকিৎসায় প্রাণে বাঁচলেও উরু থেকে বাম পা’টি বিচ্ছিন্ন করা হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার অভিশপ্ত পঙ্গু জীবন। উপজেলা সদরে ফরহাদের ব্যাবসা কাঁকড়া, বাগদা ও গলদার। স্ত্রী ও ৮ বছরের পুত্র ফাহিমকে নিয়ে সুখেই ছিল ফরহাদ। ব্যাবসার সমস্ত পুঁজি দিয়েও চিকিৎসা ব্যায় নির্বাহ না হওয়ায় সবটুকু জায়গাজমি বিক্রি করতে হয়েছে তার।
বর্তমানে পিতার একচিলতে জায়গার উপর গোলপাতার ছাউনির একটি ভাঙা ছোট্ট ঘরে বসবাস করলেও মনে দুঃখ নেই ফরহাদের। তবে ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা আর তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া মেধাবী প্রিয় সন্তান ফাহিমের অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার গহীন সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে সে। স্ত্রী ও সন্তানের ক্ষুধার জ্বালা যখন চরমে ওঠে, কেবল তখনি ফরহাদ হাত পাততে নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যায় দুরের জনপদে শুধু লজ্জার খাতিরে। সাহায্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে শেখেনি কখনও ফরহাদ।
ভিক্ষা করাকে ঘৃণা করতো সে। কিন্তু জীবনের এই কঠিন বাস্তবতায় একটি ক্রেচকে সঙ্গী করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেটে মানুষের কাছে হাত পাততে হবে তা ভাবিনি কোনদিন। তবে প্রচন্ড আতœ সম্মান আর লোকলজ্জার কারণে অচেনা পুরী হলো তার ভিক্ষার জায়গা। যেন এলাকার কেউ জানতে ও দেখতে না পারে।
এভাবে ভিক্ষা করে সংসার চলছে তার। মনের খেদে ফরহাদ জানালো আজ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র সরকারী সাহায্য পায়নি সে। তবে চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানোর পর তিনি বললেন চেষ্টা করবো।
ফরহাদ আরও জানান, মানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী আমার মত অসহায় ভুখা মানুষের ক্ষুধা নিবারণের জন্য তার নিরান্তর প্রচেষ্টা সর্বজন বিদিত। কিন্তু আমার মত দুর্ভাগার ভাগ্যে সরকারী সাহায্যের ছিটেফোঁটাও জোটেনি।
এরজন্য সে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারের সংশিষ্ট কর্মকর্তা ও সমাজপতিদের উপর দুঃখ প্রকাশ করেছে। অত্যন্ত বিনয়ী এই ফরহাদের অভিব্যাক্তি ভিক্ষা নয়, সাহায্যও চাইনা তবে যে কোন হাতের কাজ শিখে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থানীয় এমপি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শুধু সরকার নয় সমাজের কোন স্বহৃদয় ব্যাক্তি কর্মের জন্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাকে একটু সহায়তা করেন তাহলে স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে বাঁচতে পারবো। দুঃখময় জীবনের মাঝে সোনামাখা রৌদ্রোজ্জ্বল এক নতুন সকালের দেখা পাবো।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here