গ্রহাণুর ধাক্কা থেকে ১০০ বছর নিরাপদ পৃথিবী: নাসা

0
36

আগামী শতাব্দীর মধ্যে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অ্যাপোফিস গ্রহাণুর পৃথিবীকে ধাক্কা মারার আশঙ্কা আর নেই বলে জানিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
নাসা বলছে, যে গ্রহাণু পৃথিবীকে ধাক্কা মারতে পারে বলে একসময় বড় রকম আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অন্তত আগামী একশ বছর ঘটবে না এবং পৃথিবী ‘নিরাপদ’। ফলে পৃথিবীর মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি আবিষ্কার হয়েছিল ২০০৪ সালে এবং এর পর পৃথিবীর জন্য এটিকে অন্যতম সবচেয়ে বিপদজনক গ্রহাণু বলে চিহ্ণিত করেছিল নাসা।
তাদের পূর্বাভাস ছিল এই গ্রহাণু পৃথিবীকে ধাক্কা দেয়ার মতো খুব কাছাকাছি আসবে ২০২৯ সালে। এরপর আবার বলা হয় এটা ঘটতে পারে ২০৩৬ সালে। পরে দুটি সংঘর্ষের আশঙ্কাই নাকচ করে দেয়া হয়।
এরপর জানা যায় ২০৬৮ সালে এই গ্রহাণুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষের কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। খবর বিবিসি বাংলার
কিন্তু এই গ্রহাণুর গতিপথ নতুনভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে নাসা এখন বলেছে অন্তত ১০০ বছরের জন্য এই ঝুঁকি কাটানো গেছে।
নাসার বিজ্ঞানী ডেভিড ফার্নোচ্চিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই গ্রহাণুর ২০৬৮ সালে পৃথিবীর সাথে ধাক্কা লাগার যে আশঙ্কা ছিল, সেই সম্ভাবনা এখন নেই এবং আমাদের হিসাব নিকাশ অনুযায়ী আগামী অন্তত একশ বছরে এই গ্রহাণু তার গতিপথে সেই ঝুঁকির জায়গায় আসবে না।’
গ্রহাণু অ্যাপোফিস প্রস্থে ৩৪০মিটার (১,১০০ ফুট) চওড়া এবং এর দৈর্ঘ্য ব্রিটেনের প্রায় তিনটি ফুটবল পিচের সমান। এই গ্রহাণুর নামকরণ হয়েছিল মিশরের এক প্রাচীন দেবতা অ্যাপোফিস-এর নামে।
এই গ্রহাণু সম্প্রতি ৫ মার্চ পৃথিবীর ১৭ মিলিয়ন কিলোমিটার (এক কোটি মাইল) দূরত্বের মধ্যে এসে পড়েছিল।
জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা তখন এই গ্রহাণুর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার গতিপথ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রাডার যন্ত্র দিয়ে ধরা তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ২০৬৮ সালে বা তার পরে এটি কোথা দিয়ে যাবে তা পুঙ্খানুপুঙ্ক্ষভাবে হিসাব করেন। এর ভিত্তিতেই তারা তাদের নতুন তথ্য উপাত্ত নিয়ে আশ্বস্ত।
ডেভিড ফার্নোচ্চিয়া বলেন, ‘আমি যখন কলেজ ছাড়ার পর গ্রহাণু নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন থেকেই আমরা জানতাম অ্যাপোফিস পৃথিবীর জন্য খুবই বিপজ্জনক একটা গ্রহাণু। এটাকে এখন ঝুঁকির তালিকা থেকে বাদ দিতে পেরে আমরা স্বস্তিবোধ করছি।’
তিনি বলেন, যখন প্রথম জানা যায় এই গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ২০২৯ সালে ধেয়ে আসবে, তখন থেকে নাসা সিদ্ধান্ত নেয় যে ২০২৯ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছে এসে গেলে তখন এর গতিবিধি এবং বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ফার্নোচ্চিয়া অ্যাপোফিসের পৃথিবীর কাছাকাছি আসার যে কথা বলছেন সেটা ঘটবে ১৩ এপ্রিল ২০২৯ সালে। ওই তারিখে এই গ্রহাণু পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৩২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে এসে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দূরত্ব হলো পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে যে দূরত্ব তার এক দশমাংশ।
ওইদিন পৃথিবীর পূর্ব গোলার্ধ থেকে অর্থাৎ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের কোনো কোনো জায়গা থেকে অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি দেখা যাবে। এই দেখার জন্য কোনো টেলিস্কোপ বা বায়নোকুলার প্রয়োজন হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here