২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি ও পাকিস্তানকে রাষ্ট্র্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবী ওয়ান বাংলাদেশ’র

0
58

সত্যপাঠ ডেস্ক
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ, এই দিনটি বাংলাদেশের মানব সভ্যতার একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। এই দিন পাক হানাদার বাহিনীরা অপারেশন সার্চ লাইট নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় নৃশংসতম গণহত্যা। এই গণহত্যার মাধ্যমে দেশকে করে দিতে চায় মেধাশূণ্য। স্বাধীনতার বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হতে চলেছে। অথচ এখনও গণহত্যা দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাইনি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার ওয়ান বাংলাদেশের পূর্বঘোষিত সারাদেশব্যাপী কর্মসূচির আওতায় ওয়ান বাংলাদেশ যশোর জেলা, ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি ও পাকিস্তানকে রাষ্ট্র্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবী’তে যশোর শহরের বকুলতলাস্থ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মানববন্ধন ও সন্ধ্যায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে।
মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়াও রাতে ওয়ান বাংলাদেশের ফেইসবুক পেইজে আয়োজন করা হয় বিশেষ এক ওয়েবিনার।
সকল শর্ত মতে এ ধরনের দাবি নিয়ে ওয়ান বাংলাদেশ ২৫ মার্চ সারাদেশে জেলা পর্যায়ে মানববন্ধন ও শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ে গঠিত ওয়ান বাংলাদেশ মনে করে, দেশের সর্ব পর্যায়ের মানুষের এই দাবি নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। সূরা সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এই দুটি দাবি নিয়ে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
ওয়ান বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ২৫ মার্চ রাতে হামলা চালায়। নিরস্ত্র মানুষ হত্যায় তাদের উৎসাহ প্রদান করে ‘বাঙালী জাতির প্রতি তীব্র ঘৃণা’। যেই ঘৃণা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে ধীরে ধীরে তৈরি করা হয়েছে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। আর সে কারণেই পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।’


উপস্থিত ওয়ান বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চালানো অনেক গণহত্যার থেকেও জঘন্যতম ছিলো বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে চালানো হত্যাকাণ্ড। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ: যতভাবে সম্ভব জাতিগত নিধন চালানো হয়েছে। আর সে কারণেই ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘জেনোসাইড দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা। এই দিনকে কেন্দ্র করে সকল শোষক শ্রেণীর নির্যাতন ও গণহত্যাকে স্মরণ করে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাবে বিশ্ববাসী।’
কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ান বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোঃ আলম হোসেন, পরিবেশ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ জিল্লুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক মোঃ শাহীন সরকার সহ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here