মণিরামপুর উপজেলা বিএনপিতে এখন অর্ন্তদ্বন্দ্ব তুঙ্গে !

0
65

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি
যশোর জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিনে মণিরামপুর উপজেলা। এ উপজেলায় জাতীয়বাদী তথা বিএনপির অর্ন্তদ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। দলের পদ-পদবী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইকবাল-মুছা গ্রুপে বিভক্ত নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করার মত ঘটনাও এখন অহরহ ঘটেছে।
একটানা ২০ বছর অ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সম্প্রতি প্রবীণ নেতা জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ মুছা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন তুঙ্গে চলে এসেছে। যে কারণেই দলের একক নেতৃত্ব ভাগ হয়ে যাওয়ায় বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। প্রবীণ নেতা মোঃ মুছা ১৯৭৮ সাল থেকে মণিরামপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনিই ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। দলের নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকা- থেকে নিরব ছিলেন দীর্ঘদিন। হঠাৎ তিনি সক্রিয় হওয়ায় কেবল বিএনপি নয়, অঙ্গসংগঠনও বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রদল, পৌর ছাত্রদল, কলেজ ছাত্রদল এবং থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। যে কমিটিতে প্রকাশ্য দু’শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। গঠিত আহবায়ক কমিটিগুলোও একক নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো নেতার।
গত ১২ জানুয়ারি ২১ সদস্য বিশিষ্ট থানা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা আসে। এ কমিটির এ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল গ্রুপের ওলিয়ার রহমানকে আহবায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব করা হয়েছে মুছা গ্রুপের ইউনুচ আলী জুয়েলকে। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন ঘোষিত ২১ সদস্য কমিটির মধ্যে আহবায়কসহ ৭ জনকে রাখা হয়েছে শহীদ ইকবালের কর্মীকে। একই তারিখে শহীদ ইকবাল গ্রুপের কামরুজ্জামানকে আহবায়ক করে পৌর ছাত্রদলের ২১ সদস্য কমিটি ঘোষণা আসে। ঘোষিত এ কমিটিতে ১১ সদস্যকে রাখা হয়েছে ইকবাল হোসেনের কর্মীদের মধ্যে। এ কমিটির সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান মিঠুসহ ১০ জনকে রাখা হয়েছে মুছা গ্রুপ থেকে।
একই সময়ে কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে সদস্য সচিব ইমন হোসেনসহ ৭ জনকে রাখা হয়েছে এ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনের পক্ষের কর্মী থেকে। আহবায়কসহ ১৪ জনকে রাখা হয় মুছা গ্রুপ থেকে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ৩১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে বিল্লাল হোসেনকে আহবায়ক এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে হুমায়ুন কবিরকে। এ কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক পদে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া কমিটিকেই নিয়েই অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কমিটিকে কথিত পকেট কমিটি হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর জেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমীর ফয়সালের কুশপুত্তলিকা দাহসহ মণিরামপুরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয় তাদেরকে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নিকে দালাল আখ্যায়িত করে মণিরামপুর বিএনপিকে গ্রুপিং-লবিংসহ দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করে থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, অগ্নি মণিরামপুর বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। কেবল তাই নয় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছাড়াও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রবীণ নেতা মোঃ মুছা। এসব অভিযোগ মানতে নারাজ স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি। তিনি জানিয়েছেন জন্মসূত্রে মণিরামপুরে তার বসতভিটা, তাই মণিরামপুরে মাঝে মধ্যে আসা লাগে। তাছাড়া দলের লোকজনের সাথে কথা বলাও কোনো দোষের নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দলের স্বার্থ নিয়ে যারা বেশিই ভাবছেন তারাই আমার গায়ে রং লাগানোর চেষ্টা করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে অগ্নি বলেন, আমি মণিরামপুর নিয়ে রাজনীতি করিনা। তবে মণিরামপুর বিএনপির সাধারণ জনগণ ভালোই জানেন কোন নেতার ইন্ধনে দলের কর্মীরা বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেটে সহযোগিতা করেছেন।
এদিকে থানা ও পৌর যুবদলের কমিটি নিয়েও পৃথক দুটি গ্রুপের সম্ভব্য নেতারা জোর লবিং গ্রুপিং অব্যহত রেখেছেন। অপর দিকে মণিরামপুর থানা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটিতে আসতে সিনিয়র নেতারা লবিং-গ্রুপিং ছাড়াও দলের নীতিনির্ধারকদের নিকট দেনদরবার করে চলেছেন। থানা পিএনপির আহ্বায়ক হতে প্রবীণ নেতা মোঃ মুছা জোর চেষ্টা করে চলেছেন। তার এ প্যালেন থেকে সম্ভব্য সদস্য সচিব রাখা হয়েছে জি.এম মিজানুর রহমানকে। তবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন। তিনি নিজেই আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান মফিজ, অ্যাড. মকবুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান মিন্টু সদস্য সচিব হবেন এমন চেষ্টা করে চলেছেন এ প্যানেল থেকে।
মণিরামপুর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পৃথক দু’টি গ্রুপ তাদের অবস্থান জানান দিতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তারা মুখোমুখী অবস্থানে চলে আসে। এক পর্যায়ে তারা এদিন যুবনেতা বিল্লাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৯/১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আহত হন উভয় গ্রুপের শতাধিক নেতাকর্মী। সেই থেকে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেমে থেমে হামলা মারপিটের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির মধ্যে এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে মণিরামপুর বিএনপি নিজেরা নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েছেন। যে ঘটনার কারণে দলের সাধারণ লোকজন সংগঠন থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here