কপিলমুনি আবারো দখল হচ্ছে কোটি টাকা সরকারী সম্পত্তি

0
34

আ. সবুর আল আমীন, কপিলমুনি
খুলনা পাইকগাছা উপজেলা বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ)। এ শহরে প্রাণ কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জায়গা যে যার মতো দখল নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় একে একে সরকারী কোটি কোটি টাকা সরকারী সম্পত্তি দখল নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসন গড়ে তুলছে ভূমিগ্রাসীরা। একদিকে সরকার রাজস্ব হারাছে অন্যদিকে দুর্নীতিগ্রস্থ কর্তৃপক্ষের কারনে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে।
এবার দখল হচ্ছে উপশহরের ঐতিহ্যবাহী কপিলেশ্বরী কালীমন্দির সংলগ্ন প্রায় ৭ শতক সরকারী সম্পত্তি। দখলে নিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে ভূমিগ্রাাসী মৃত নকুল চন্দ্র সাধু পুত্র প্রদ্যুৎ কুমার ওরফে ভোলা সাধু। কপিলমুনি উপশহর বাইপাস ঢালাই সড়ক সংলগ্ন জায়গাটির মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এমনি করে এ বাণিজ্যিক উপশহরে একের পর এক কোটি কোটি টাকার সরকারী জায়গা দখল করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ আবাসন গড়ে তুললেও এপর্যন্ত একটি জায়গাও উদ্ধার করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তারা।


সরকারী এসব মূল্যবান জায়গা উদ্ধারে একদিকে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা অন্যদিকে নগদ নারায়নের নগ্ন খেলা হিসাবে মনে করছেন সচেতন মহল। যেন সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ভূমি গ্রাসীরা। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই দখল করে নিচ্ছে সরকারী মূল্যবান এসব জায়গা।
জানাগেছে, মূলত আশির দশক থেকেই বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি সদরে মূল্যবান সরকারী সম্পত্তি দখল শুরু হয়। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ এই দখল কাজ চলতে থাকায় কপিলমুনি উপশহরে সরকারী খাস জমির প্রায় আশি শতাংশ গিলে ফেলেছে দখলবাজরা। আর অবশিষ্ট সরকারী সম্পত্তির প্রায় সবটুকুই চলতি বছরে দখল হয়ে গেছে। দখল কবল থেকে বাদ পড়েনি কপিলমুনি-কানাইদিয়া খেয়া ঘাঠ ও সরকারি বাইপাস সড়ক। কাগজে ৪৫ ফুট প্রস্থ থাকলেও বাস্তবে প্রভাবশালী দ্বারা দখল হয়ে ১০ ফুট নাই।
কপিলমুনি সরকারী ভরত চন্দ্র হাসপাতালের জায়গা দখল নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আবাসন। যা হাসপাতাল আধুনিকায়নে ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। উপজেলার হরিদাশকাঠীর মুজিবর, আজগর, হালিম ও সবুর, শ্রীরাপুরের লেয়াকাত সরদার ও সুশান্ত বিশ্বাস, সোনাতনকাঠির শেখ আব্দুর রউফ, পার্শ্বর্তী তালা উপজেলার কানাইদিয়ার গ্রামের আনন্দ ও আলাউদ্দিন, গংগারামপুর গ্রামের তালেব মোড়ল ও কপিলমুনি সুকুমার সাধু ছাড়াও প্রায় অর্ধ শতাধীক দখলদারদের কবলে পড়েছে কপিলমুনি উপশহরের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পত্তি।
সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ কপিলেশ্বরী কালিবাড়ি সংলগ্ন ভোলা সাধু কর্তৃক দখলকৃত সরকারী সম্পত্তির জরিপ কাজ পরিচালনা করেন উপজেলা সার্ভেয়ার কাওসার আহমেদ। সেখানে ঢালাই সড়ক সংলগ্ন সীমানায় লাল নিশান টানালেও জমির অপর প্রান্তে কোনো নিশান না গেড়ে অদৃশ্য কারনে চলে আসেন তিনি। কপিলমুনি ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় কপিলমনি মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে ১০৮ দাগে ৭ শতক জমি। যা সম্পন্ন দখল নিয়ে বহুতল বভন নির্মাণ করছে ভোলা সাধু।
এ বিষয়ে সার্ভেয়ার কাওসার আহমেদ জমি জরিপ কাজ পরিচালনা কথা উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু খাস তাদের অনুকূলে সেহেতু বন্দবস্তের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে এসেছি।
জানাগেছে, কপিলমুনি বাজার কেন্দ্রীক মূল্যবান সরকারী সম্পত্তি দখল করে পরবর্তীতে ডিসিআর এর নামে লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে এবং ডিসিআর এর মাধ্যমে তাদেরকে বৈধতা দেয়া হয়। ফলে পাকা ইমারত নির্মাণ করে পাকাপক্ত করে নেয় ভূমিদস্যুরা। এলাকাবাসী জানান, কপিলেশ্বরী কালী মন্দির সংলগ্ন ভোলা সাধুর দখলে থাকা ১০ শতক জমির মধ্যে প্রায় ৭ শতক জমিই খাস। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় কোটি টাকা।
এলাকাবাসী আরোও জানান, ভোলা সাধুর স্বার্থ রক্ষার্থে সার্ভেয়ার কওসার আহমেদ নামমাত্র জরিপ কাজ করেছেন। যা রীতিমতো সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে ভোলা সাধু জানান, তার নামে উক্ত জমি রেকর্ড হয়েছে। কোনো খাস জমিতে তিনি ঘর করছেন না। এ বিষয়ে রেকর্ড দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তবে তার পুত্র প্রণব সাধু ডিপি নং বিহীন ফটোকপি একটা মাঠ রের্কড দেখান যা এসএ ১০৭, ১০৮ ও ১০৯ দাগে ১৩ শতক এর মধ্যে ১০শতক তার অনুকূলে বলে দাবী করছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাসমত আলী জানান, জমিটি ১নং খতিয়ানে ১০৮ দাগে পাকিস্তান প্রদেশ পক্ষে কালেকটর খুলনা নামে রেকর্ড রয়েছে। সার্ভেয়ার কাওসার সাহেব জরিপ করেছেন, তিনিই ভাল জানেন। এ ব্যাপের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার হক ভ্রাম্যমাণ কোর্ট চলমান থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে একের পর এক দখল হওয়া সরকারের মূল্যবাণ সম্পত্তি উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন সুধীমহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here