পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, বাগ্‌যুদ্ধে মোদি-মমতা, ৯ মুসলিম প্রার্থী দিল বিজেপি

0
40

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিজ নিজ দলের প্রচারে বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরস্পরকে বিশ্বাসঘাতক, চাঁদাবাজ, লুটকারী, দুর্নীতিবাজ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন তারা। তাদের এই বাগ্‌যুদ্ধে ভোটের মাঠ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে বিজেপি এবার ৯ মুসলিম প্রার্থী দিয়ে সংখ্যালঘুদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের খড়্‌গপুরে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের ইশতেহারের তীব্র সমালোচনা করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘বাংলায় উন্নয়নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দিদি (মমতা)। আপনারা তাকে বিশ্বাস করেছিলেন। উনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আপনাদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছেন। ১০ বছরে বাংলাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আজ ১০ অঙ্গীকারের কথা বলছেন দিদি। বাংলার মানুষ আপনাকে ১০ বছর সময় দিয়েছিল। তবে আপনি লুটতরাজের সরকার চালিয়েছেন। ১০ বছরে শুধু দুর্নীতি ও কুশাসন দিয়েছেন।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বাংলার যুবসমাজের ১০টি মূল্যবান বছর কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মোদি। তরুণ-যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দিদির দল নির্মমতার পাঠশালা। সিলেবাস হচ্ছে তোলাবাজি (চাঁদাবাজি)। দিদির পাঠশালায় সিলেবাস কাটমানি (কমিশন বাণিজ্য)। দিদির পাঠশালায় সিলেবাস সিন্ডিকেট। দিদির পাঠশালায় উৎপীড়ন ও অরাজকতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিজেপির প্রচারে ‘ভাইপো ফ্যাক্টর’ বড় করে তোলা হচ্ছে। তৃণমূলের অঙ্গ সংগঠন যুব কংগ্রেসের সভাপতি মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন মোদি। তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যে উন্নয়নে সিঙ্গল উইন্ডো, বাংলায় চলে ভাইপো উইন্ডো। সুবর্ণরেখা এবং কংসাবদী নদীতে বেআইনি খননের সুতা কোথায় গিয়ে জুড়েছে, তা সবাই জানে। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা এলে এর বিচার হবে। বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।
খড়্‌গপুর আসনে বিজেপির প্রার্থী অভিনেতা হিরণ। তার জন্য ভোট চান মোদি। এ সময় তিনি বলেন, কথা দিচ্ছি দিদিকে গণতন্ত্র পদদলিত করতে দেব না। পুলিশ-প্রশাসনকেও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা করতে হবে। একসঙ্গে রুখে দাঁড়ান অরাজকতার বিরুদ্ধে। কংগ্রেস, সিপিএমকেও ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, গত ৭০ বছরে অনেককে সুযোগ দিয়েছেন আপনারা। আমাদের পাঁচ বছর দিন, আমরা ৭০ বছরের ক্ষতি পুষিয়ে দেব। আপনাদের কল্যাণে প্রয়োজনে প্রাণ দিয়ে দেব।
বিজেপির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সম্পর্ক টেনে মোদি বলেন, স্বয়ংসেবক সংঘের ছায়ায় বিজেপি তৈরি, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাংলার সন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই অর্থে বিজেপিই বাংলার দল।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিষয়ে মোদি বলেন, দিলীপের মতো নেতার জন্য গর্ব করি। এরপর তিনি শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামের নায়ক বলে তার জন্য ভোট চান।
শনিবার হলদিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে মমতাও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপিকে একটি ভোটও দেবেন না। তারাই দেশের সবচেয়ে বড় তোলাবাজ। আমি যদি চুপ থাকি, বিজেপি এসে ঘরবাড়ি সব লুট করে নেবে। দখল করে নেবে। আপনাদের তাড়িয়ে দেবে।
বিজেপি ও মোদির বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ করে মমতা বলেন, কিছু টেলিভিশন চ্যানেলকে ভয় দেখিয়ে, তাদের মালিকদের কিনে নিয়ে বলা হচ্ছে বিজেপি ৬৮ শতাংশ ভোট পাবে। আরে, আগে ৮ শতাংশ পেয়ে দেখা। সব মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে টাকা দিয়ে।
বিজেপি নেতাদের দাঙ্গাকারী, দৈত্য, কৃষক হত্যাকারী বলে সম্বোধন করে মমতা বলেন, ধমকাতে এলে নারীরা খুন্তি নিয়ে রুখে দাঁড়াবেন। আপানাদের জানিয়ে দিই, টাকা নিয়ে ভোট দেবেন না। কঙ্কালকাণ্ডের মালিকরা এখন বিজেপিতে ভিড়েছে।
নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দুকে টার্গেট করে মমতা বলেন, তৃণমূলে যারা তোলাবাজ ছিল, এখন সব বিজেপিতে ভিড়ে গেছে। আপদ বিদায় হয়েছে, হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। সরাসরি নাম উচ্চারণ না করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দুকে গাদ্দার, মীরজাফর হিসেবে সম্বোধন করেন মমতা।
এদিকে শনিবার পর্যন্ত বিজেপির ঘোষিত প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন সংখ্যালঘুকে বেছে নিয়েছে বিজেপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাদের প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে মুসলিমবিরোধী তকমা কাটাতে চাইছে বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে ছয়জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এবার তিনজন বেড়েছে। এই ৯ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই নারী।
তারা হলেন- মাফুজা খাতুন, রুবিয়া খাতুন, মাসুহারা খাতুন, শাহিন আখতার, গোলাম সারওয়ার, মতিয়ুর রহমান, এস কে জিয়াউদ্দিন, মেহেবুব আলম ও গোলাম মোদাসর।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন বলেন, বিজেপিকে নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে যে অপপ্রচার চালানো হয় এই প্রার্থীরা তার মোক্ষম জবাব। আশা করছি, প্রার্থী ঘোষণা বাকি থাকা অন্যান্য আসনে আরও দু-তিনজন মুসলিম মুখ থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here