ফলোআপ : মিমাংশা করতে মাঠে নেমেছেন ওই ক্লিনিক মালিকপক্ষীয়রা অবৈধ গর্ভপাত ঘটনায় মামলা হলেও ক্লিনিক মালিক জুলফিক্কার আলীকে আজও ধরতে পারেনি পুলিশ

0
7

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
অবৈধ্য গর্ভপাত ঘটিয়ে বাচ্চা মেরে ফেলা ঘটনায় মামলা হলেও ক্লিনিক মালিক জুলফিক্কার আলীকে আজও ধরতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি মিমাংশা করতে মাঠে নেমেছেন ওই ক্লিনিক মালিকপক্ষীয়রা।
ভুক্তভোগী আয়া বলেন, দারিদ্ররতা রুখতে ও পিতা-মাতাকে একটু ভাল রাখতে আয়ার চাকুরীতে যোগদান করি মহেশপুরের খালিশপুর মুক্তি ক্লিনিকে। যার বর্তমান নাম গ্রামীণ হাসপাতাল। যা খালিশপুর বাজারে অবস্থিত।
মালিক জুলফিক্কার আলী বিশ্বাস। চাকুরীতে যোগদানের প্রথম দিন থেকে সে আমাকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে।
আমি তাঁর কথায় কোন কর্ণপাত না করে কাজ করতে থাকি। এরপর সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করতে থাকে। এভাবে সে দীর্ঘদিন ভোগকরে। কিছুদিন পর আমি জানতে পারি তাঁর বউ-বাচ্চা আছে। এটা নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য।
এরপর আমি চাকুরী ছেড়ে কোটচাঁদপুর জনতা ক্লিনিকে আসি। এখানে চাকুরী করলেও সে আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যেত তাঁর ক্লিনিকে। আর আমি ভালবাসার কারণেই যেতাম। বেশকিছুদিন পর আমি শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে প্রসব পরীক্ষা করায়। জানতে পারি আমার পেটের বাচ্চার কথা।
বিষয়টি আমি তাকে বললে সে ওই বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় সে আমাকে বিয়ে করবেনা বলে জানিয়ে দেন। এরপর আমি কোন উপায় না পেয়ে তাঁর কথায় রাজি হয়ে যায়।
গেল ৬-০৩-২১ তারিখ শনিবার জুলফিক্কার কোটচাঁদপুর মাহবুবা ক্লিনিকের নার্স তাসলিমার বাড়িতে পাঠায় অ্যাবোসানের জন্য। এরপর জুলফিক্কার প্রমাণ নষ্ট করতে আমার কাছ থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম কাগজ নিয়ে ছিড়ে ফেলে। কেড়ে নিতে চাই নবজাতক মৃত বাচ্চাটাকে।
পুলিশ খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। জুলফিক্কার আলী বিশ্বাস কোটচাঁদপুর চতুরপুর গ্রামের মৃত মোতালেব বিশ্বাসের ছেলে।
বিষয়টি নিয়ে গেল ৭-০৩-২১ তারিখে মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে। যার নম্বর ১৪, তারিখ-০৭-০৩-২১।
মামলা হওয়ার ৫ দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে মামলাটি ধামা-চাপা দিয়ে মিমাংশা করতে জোর তদবিরে মাঠে নেমেছেন ওই ক্লিনিকের মালিকপক্ষীয়রা বলে জানা গেছে।
কথা হয় কোটচাঁদপুর থানার এসআই শামীম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই মেয়ের ভ্যানিটিব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ মাসের মৃত নবজাতকের স্ম্যাম্পেল নিয়ে ডিএনএ টেস্টে দেয়া হয়েছে।
কথা হয় মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। আসামী ধরা পড়েনি। তবে ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here