পুত্র ও পুত্রবধূদের অবহেলায় চৌগাছায় ৫ সন্তানের বৃদ্ধা মায়ের আত্মহত্যা !

0
5

চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় পুত্র ও পুত্রবধূদের অবহেলায় অতিষ্ঠ হয়ে আছিয়া বেগম (৭৫) নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামের সরজেত আলীর স্ত্রী। বুধবার বিকেলে নিজের ছোট ছেলের আবাদে দেওয়ার জন্য আনা ঘাষপোড়া খান তিনি।
পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে বৃদ্ধা মাকে তড়িঘড়ি করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নেন স্বজনরা। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়। খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নিয়ে আসেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাযার নামাজের পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বৃদ্ধার কয়েকজন স্বজন জানিয়েছেন, তার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। তারা সকলেই প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী। কোন ছেলে-মেয়ে তাকে ঠিকমত দেখাশোনা না করায় ছোট ছেলের নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে তার সংসারে খেতেন স্বামী-স্ত্রী। অন্য ছেলে-পুত্রবধূরা ঠিকমত যতœ নিতেন না।
এমনকি ওই বৃদ্ধা আছিয়া টয়লেট নষ্ট করে ফেলবেন বলে বাড়ির টয়লেটে তাকে যেতে দেয়া হতো না।
এ নিয়ে সম্প্রতি ছেলে-পুত্রবধূর সাথে মনোমালিন্য হয় তার। ছোট ছেলে ছাড়া অন্য ছেলেরাও নেবেনা। এমনকি মেয়েরাও মার খোঁজ নেন না।
বৃদ্ধা মা তাহলে কার কাছে, কিভাবে থাকবেন? এসব চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় ছোট ছেলের ঘর থেকে ঘাষ পোড়া খান আছিয়া বেগম।
পরে সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার পুলিশ বৃহস্পতি বার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নেন।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন জানান, বৃদ্ধা মায়ের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন আমরা জনপ্রতিনিধি। আমাদের সবাইকে নিয়েই চলতে হয়।
এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এত বয়স্ক একজন মানুষ বিষপানে আত্মহত্যা করায় আমি ব্যাক্তিগত ভাবে দুঃখ পেয়েছি।
এ এলাকায় আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। মৃতের স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here