মণিরামপুরে স্কুল ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ, প্রতিবাদকারীদের দেখে নেয়ার হুমকী

0
32

মণিরামপুর প্রতিনিধি

মনিরামপুর উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্মানকাজ সম্পন্ন হবার আগেই সিঁড়ি, ছাদের সিলিংসহ বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রতিবাদকারীদের সাথে দূর্ব্যবহারসহ দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, চলতি অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের (এলজিআরডি) অধিন উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে কাজটি পান যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স যমুনা প্রকৌশলী।

নির্মাণ কাজের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৬১ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা। কাজটির ওয়ার্কঅর্ডার দেওয়া হয় গত বছরের ২৫ জুলাই। যা শেষ করতে হবে ২০ এপ্রিলের মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানেরসামগ্রি দিয়ে এ ভবনটি নির্মান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছাদ এবং সিঁড়িতে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ফলে ম্যানেজিং কমিটিসহ এলাকাবাসী কাজটি বন্ধ করে দেন।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, নিম্নমানেরউপকরণ দিয়ে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠজন ফয়জুল ইসলাম তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-সভাপতি শফিউর রহমান।

স্থানীয় ইউপি মেম্বর রেজাউল করিম ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, নিম্নমানেরসামগ্রি দিয়ে কাজ করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ঠিকাদার ফয়জুল ইসলাম তাদের সাথেও দূর্ব্যবহার করেছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী সরকার এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম খলিল অভিযোগ করেন, মূল ঠিকাদার মেসার্স যমুনা প্রকৌশলী হলেও প্রকৃতপক্ষে কাজটি করাচ্ছেন অপর ঠিকাদার ফয়জুল ইসলাম।

তাদের অভিযোগ নিম্নমানেরউপকরণ দিয়ে নির্মাণ কাজ করায় ইতিমধ্যে ছাদ এবং সিঁড়িতে ফাঁটল দেখা দিয়েছে।

ফলে বর্তমানে ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মনির হোসেনে জানান, তার লাইসেন্সে কাজটি করছে স্থানীয় ঠিকাদার ফয়জুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদার ফয়জুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কোন অবস্থাতেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, উক্ত নির্মাণ কাজ নিয়ে তার কাছে এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে যথযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here