Sunday, June 13, 2021
Home বিশেষ খবর দেশে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৯১২ মৃত্যু ১৩

দেশে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৯১২ মৃত্যু ১৩

0
36

নতুন করে বাড়ছে করোনা

সংক্রমণ এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর তিন দফা নির্দেশনা

   

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন আগের দিনের তুলনায় রোগী বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে শনাক্তের হার। গত চব্বিশ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ৪৯ দিন পর এই হার হয়েছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সর্বশেষ ৯১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৫৮ দিনের মধ্যে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিন এক হাজার ৭১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
দৈনিক শনাক্তের হার সর্বশেষ ৫ শতাংশের বেশি ছিল গত ১৮ জানুয়ারি, ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরপর প্রতিদিনই তা কমতে থাকে। শনাক্তের হার ৩ শতাংশেরও নিচে নেমেছিল। গতকাল তা ৫ শতাংশের ওপরে উঠল।
এ ঘটনাকে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। অনেক দেশে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে। বাংলাদেশে ৫ শতাংশের নিচে নামার পর সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এটি দ্বিতীয় সংক্রমণের শুরুও হতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজন মারা যান। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দুই মাস সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরের শুরুর দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ডিসেম্বর থেকে আবার কমতে থাকে। ১৮ জানুয়ারির পর থেকে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা :গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রথমটি, সবাই অবশ্যই যেন মাস্ক ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়, যথাসম্ভব যেন সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তৃতীয়টি হলো- জনসমাগম এড়িয়ে চলা। অর্থাৎ যেখানে বেশি মানুষ জড়ো আছে, সেখানে না যাওয়া। গেলেও যেন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের পর্যটন বা বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বেশি লোক যাচ্ছেন, তারা মাস্ক পরছেন না। গত বছর মাস্ক না পরার জন্য মিয়ামি বিচে পুলিশ পিটুনি ও জলকামান ব্যবহার করেছিল। সেজন্য জনসমাগমস্থলে সবাই যেন অবস্থা বুঝে অংশ নেন।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন, গত বছর গ্রীষ্ফ্মকালে সংক্রমণ সর্বোচ্চ হয়েছিল। এটা নিশ্চিত নয় যে, এটা এবার উঠবে না। শীতে সংক্রমণ বাড়বে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, গ্রীষ্ফ্মে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ছিল। এপ্রিল, মে ও জুন সবচেয়ে বেশি গরম পড়বে। বিশেষজ্ঞরা যেটা বলেছেন; সেই বিষয়ে সবাইকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নতুন করে সংক্রমণ বাড়লে ফের লকডাউনের ভাবনা আছে কি- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লকডাউনের কথা এখনও সেভাবে চিন্তা করা হয়নি। যদি বৃদ্ধি পায়, সরকার তখন একটা সিদ্ধান্ত নেবে।
শিক্ষার্থীদের টিকাদান প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকের এনআইডি নেই। তারা কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবে, সেটা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিদেশিদের তো এনআইডি নেই, তাদের পাসপোর্ট দিয়ে আমরা করছি। ওই রকম একটা কিছু, দেখা যাক কী করে।’
সতর্ক থাকার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের :জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, শুরু থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে আসছে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। সংক্রমণ কমে আসার পর মাস্কের ব্যবহার আরও কমেছে। স্বাস্থ্যবিধিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে।

ডা. আলমগীর আরও বলেন, এক দিন শনাক্তের হার ৫ শনাক্তের ওপরে ওঠা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। ধারাবাহিকভাবে নূ্যনতম ১৫ দিন যদি সংক্রমণ ও শনাক্তের হার বাড়তে থাকে, তাহলে সেটি আতঙ্কের হবে। তখন মনে করতে হবে, দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। তবে ওই সংক্রমণ রোধ করার জন্য মানুষকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা মেনে চলতে হবে। তাহলেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, প্রায় দুই মাস পর শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে ওঠার বিষয়টি উদ্বেগের। শীতে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু তখন সংক্রমণ না বেড়ে বরং কমেছে। এখন আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। দেশে টিকাদান চলছে, মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এর পরও সংক্রমণ কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে। সুতরাং এই গবেষণা ছাড়া বলা যাবে না, কেন নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে।
ডা. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সাধারণ রোগ; আর টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা মহামারি গণ্য হবে। এক দিন বেড়ে আবার পরের দিন কমে গেলে সেটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তবে মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
দেশে করোনা পরিস্থিতি :গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৮৭ জনে পৌঁছেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টার মৃত্যু নিয়ে এ পর্যন্ত করোনায় আট হাজার ৪৮৯ জনের মৃত্যু হলো। এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ২২৯ জন করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে ২১৯টি পরীক্ষাগারে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৯৭৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩৮টি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here