ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

0
59

চৌগাছা প্রতিনিধি॥ যশোরের চৌগাছায় এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১০) ধারাবাহিক ধর্ষণের অভিযোগে এনায়েত আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে চৌগাছা থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ধর্ষিতা শিশুটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী লাগোয়া একটি গ্রামের বাসিন্দা ও চৌগাছা শহরের একটি মাদরাসায় ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।
লিখত অভিযোগে মেয়েটির পিতা দাবি করেছেন কিছুদিন আগে মেয়েটি হঠাৎ ভয় পেয়ে বাড়ির উঠানে পড়ে গিয়ে বমি করতে থাকে। এসময় তাদের প্রতিবেশি জ¦ীনের কবিরাজ এনায়েত আলী (৬০) অন্যদের সাথে বাড়ি আসেন এবং বলেন মেয়েটিকে জ¦ীনে ধরেছে। ঝাড়-ফুক করলে ঠিক হয়ে যাবে। সে-মোতাবেক প্রতি শনি ও মঙ্গলবার মেয়েটিকে ঝাড়-ফুক করার জন্য পাশ^বর্তী গ্রামের মানিকতলা দরগাহে (সেখানে একটি বেল গাছ রয়েছে) মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথিমধ্যে সাথে থাকা মেয়েটির মাকে বলা হয় ঝাড়ফুক করার সময় অন্য কেউ থাকতে পারবে না। তখন মেয়েটির মা এনায়েত আলীর সাথে মেয়েকে দিয়ে ইন্দ্রপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু এনায়েত আলী মেয়েকে মানিকতলায় না নিয়ে ইন্দ্রপুর গ্রামের এক ব্যক্তির পেয়ারা বাগানে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। এভাবে গত একমাসে মেয়েটিকে ঝাড়-ফুকের নামে ৬/৭ দিন একই পেয়ারা বাগানে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। ১৫ আগস্ট এনায়েত আলী বলেন আর একবার ঝাড়-ফুক করলেই জ¦ীন চলে যাবে। ১৮ আগস্ট মেয়েটি তার মা’র নিকট বিষয়টি খুলে বলে। এরপরও মান সম্মানের কথা চিন্তা করে মেয়েটির পিতা স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে চৌগাছা শহরের একটি প্রাইভেট কিনিকে নিয়ে তার চিকিৎসা করিয়ে চৌগাছা শহরের একটি মাদরাসায় তাকে রেখে আসেন। কিন্ত আসামি এনায়েত আলী গত ২৫ অক্টোবর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ওই মাদরাসায় গিয়ে নিজেকে মেয়ের চাচা পরিচয় দিয়ে মেয়ের মার অসুস্থতার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে ওই মাদরাসার একজন শিক্ষক মোবাইলে পিতাকে জানালে তিনি তার সাথে মেয়েকে দিতে নিষেধ করেন। পরে পিতা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সরেজমিনে ওই বাড়িতে গেলে মেয়েটি নিজে দাবি করে এভাবে ৭দিন এনায়েত তার সম্মান নষ্ট করেছে। মেয়েটি এর বিচার দাবি করে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বুধবার রাতে এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
সর্বশেষ ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে মেয়েটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here