বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাঘারপাড়ার পপি এখন স্বাবলম্বী দৃঢ় সংকল্পই পপির মূল সম্পদ

0
35

প্রদীপ বিশ্বাস, বাঘারপাড়া॥বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক গৃহবধুর নাম সামিয়া রাজ্জাক পপি। বিয়ের আগে খেলাধুলায় তিনি রেখেছেন সাফল্যের কৃতিত্ব। দুরন্তপনাতেও তার জুড়ি মেলা ভার। বাঘারপাড়ায় শ্যুটার জগতে যারা ছিলেন তাদেরও অন্যতম এ পপি। ২০১৭ সালে জাতীয় শ্যুটিং প্রতিযোগিতায় যশোর জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়াও জাতীয় শ্যুটিং প্রতিযোগিতার জন্য ঢাকা, রাজশাহী ও চট্রগ্রাম ভ্যেনুতে পর পর ৪ বছর অংশগ্রহন করেছেন। ভলিবল খেলাতেও পারদর্শীতা ছিলো সামিয়া রাজ্জাক পপির। তিনি বাঘারপাড়া পাইলট স্কুলের স্কুলভিত্তিক ভলিবল টিমের সদস্য ছিলেন। বিয়ের পর খেলোয়াড়ী জীবনে না থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। স্বল্পপরিসরে তার প্রতিভাকে এভাবেই প্রকাশ করা যায়, যেমন তিনি একজন সফল সাবেক এ্যাথলেটার, গৃহবধু, মেধাবি শিক্ষার্থী, শিক্ষিকা ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক প্রাক প্রাথমিক), বুটিক কর্মী ও একাধিক গৃহপালিত প্রাণির সফল খামারি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পপি বাঘারপাড়ার ইন্দ্রা গ্রামের মৃত রবিউল শিকদারের বৌমা ও আশরাফুজ্জামান মুনের স্ত্রী এবং একই উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় সন্তান। উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও অন্য গৃহবধুর জীবন বেছে নেননি তিনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন বানিজ্যিক কাজের সাথে যুক্ত হয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তানের (ছেলে) জননী পপি বাঘারপাড়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাঘারপাড়া ডিগ্রী কলেজে পড়ালেখা শেষ করেন। তারপর বিএ সম্মান শ্রেণীতে (সমাজবিজ্ঞান) ভর্তী হন যশোরের বাঘারপাড়া মহিলা কলেজে। এতদিনে অনার্স শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু কভিড-১৯ এর কারনে পরীক্ষার মাঝপথেই তা আটকে যায়। এখন সে বুটিকের কাজ, গরু, পাখি, মুরগি ও হাঁসের খামার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ কাজে তার সার্বক্ষনিক সঙ্গী শ্বাশুড়ি মঞ্জুয়ারা বেগম। এবং এগুলো বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেন সহযোগিতা করেন তার স্বামী আশরাফুজ্জামান মুন। দুজনের (শ্বাশুড়ি-বৌমা) অকান্ত পরিশ্রমে পৌছে যাচ্ছে তাদের কাঙ্খীত লক্ষে।

সরেজমেিন তার বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির একপাশে রয়েছে বড় পুকুর, তার পাড়েই তৈরি করেছেন হাঁস ও মুরগির খামার। যেখানে দ্রুত বর্ধণশীল ৭০টি পেকিন হাঁস ও ৭০০টি টাইগার মুরগি। পপিই প্রথম, তিনি বাঘারপাড়ায় এ দুই জাতের হাঁস ও মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি বাড়ির উঠানে তৈরি করেছেন সিরাজি ও দেশী গ্রীবাজ জাতের ৮ জোড়া কবুতরের খামার। যা বিভিন্ন এলাকার কবুতর প্রেমীরা বাড়িতে এসে উপযুক্ত মূল্যে ক্রয় করে নিয়ে যায়। আছে ২০টি সৌন্দর্য্য বর্ধক লাভ বার্ড জাতের পাখি। এ ছাড়াও আছে ৪টি গরু ও ২টি ছাগল। এ সব বিষয়ে পপির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শ্বশুর বাড়িতে এসেই দেখেছি শ্বশুরের চিকিৎসার (ক্যন্সারে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান) কারণে আর্থিক দেনার দায়ে জর্জরিত এই পরিবার। তখন থেকেই সংকল্প করি, আমাকে কিছু করতে হবে। তারপর স্বল্প পরিসরে আমি ও আমার শ্বাশুড়ি মিলে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল পালন ও বুটিকের কাজ শুরু করি। এবং এখনো তা চলমান। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। তাই নতুন নতুন জাতের প্রাণি সংগ্রহ করি। এ সকল প্রাণি ও তাদের খাদ্য সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করেন আমার স্বামী আসরাফুজ্জামান মুন। এখন আমার পরিবার আর্থীকভাবে স্বাবলম্বী। ’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে আমি কোন পরামর্শ গ্রহন করি না। তবে মাঝে মাঝে সেখান থেকে হাঁস মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণির ভ্যাকসিন এনে থাকি। ’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যে সকল নারীরা সমাজে আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছেন, নিজেকে পরিবারের বোঝা হিসাবে মনে করেন তারা যেন তার (পপির) পথ অনূসরণ করেন। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here