আমি তোমাদের কন্ঠস্বর : বিলিয়নর শো ম্যান থেকে প্রেসিডেন্ট

0
95
আমেরিকার হালচালঃ
আমি তোমাদের কন্ঠস্বরঃবিলিয়নর শো ম্যান থেকে প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসাবে যখন পা ফেলি ওবামা তখন অস্তাচলে। তার মেয়াদ প্রায় শেষ। বলতে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সী এবং আমার প্রবাস জীবন যুগপৎ শুরু। ট্রাম্প প্রেসিডেন্সীকে কে কিভাবে মুল্যায়ন করবেন সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু গতানুগতিক যে নয়,তা অনস্বীকার্য। ট্রাম্প যা কিছু করুন তাতে চমক থাকবে। হতে পারে রিয়েল এস্টেট বা কেসিনো ব্যবসা ,বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা বা পেশাদার কুস্তি আয়োজন । কিন্তু যাই কিছু করুন, যদি শোরগোলই না হলো করবেন কেন? পিতার মিলিয়ন ডলার কোম্পানি হাতে পেয়ে নাম বদলে নিজের নামে করেছেন ট্রাম্প অরগেনাইজেশন।ম্যানহাটনে টাওয়ার বানিয়েছেন নাম ট্রাম্প টাওয়ার,তার এয়ার লাইনের নাম ট্রাম্প শাটল,ইয়টের নাম ট্রাম্প প্রিন্সেস ইয়ট।তিনি নিজেই ব্র্যান্ড। বহু কিছুতে হাত দিয়েছেন ,কিন্তু টিকেছে কমই। নিজে ডুবেন নি ,কিন্তু কোম্পানী ডুবিয়েছেন বহুবার।তিন তিন বার দেওলিয়া আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।লোকে পথে বসেছে। আর বাজারে বই বেরিয়েছে ‘আর্ট অব দা ডিল’ ,ব্যাবসায়ে সফল হওয়ার কৌশল, বেষ্ট সেলার । লোকে জেনেছে তিনিই লেখক , প্রমান হয়েছে নাম ছাড়া একটা লাইনও তার নয়।তবে ব্যাবসায়ে অসফল তা নয় , হলে বিলিয়নিওর হলেন কি করে। চার বিলিয়নের মালিক, কিন্তু বরাবরই ওটাকে চল্লিশ বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। লোকে যাতে ভাবে তিনিই সেরা ধনী ।কিন্তু বিলিয়নিয়র ক্লাবে তার স্থান পিছনের সারিতে ,যুক্ত্ররাষ্ট্রেই ২৫৯ নম্বর, সারা দুনিয়ার কথা ছেড়ে দিন।
তবে সফল ছিলেন টিভি তারকা হিসেবে।জনপ্রিয় রিয়ালিটি টি ভি সিরিজ ‘দি এপ্রেন্টিস’ এর প্রধান চরিত্র তিনি।এক দুই বছর নয়,চৌদ্ধটি বছর চলেছে সেটা। দেশের লোক তাকে এ কারনেই চেনে। হাঁ , তিনি শো ম্যান ।তিন তিন টি বিয়ে। ফ্যাশন জগত আর হলিউডের সুন্দরীদের জড়িয়ে কাহিনীর ও কোন শেষ নেই।সমালোচকেরা বলে তার অনেকগুলি তিনিই ফাঁস করেছেন।কোন কোনটি ডাহা মিথ্যে, নিজে ছড়িয়েছেন নাম কেনার জন্য।প্লেবয় তো বটেই। রাজনীতিতে দুয়েকবার পা বাড়ানোর চেষ্টা করেছন।তবে সুবিধে হয় নি তখন,লোকে তামাশার বেশি কিছু গুরুত্ব দেয়নি।
ট্রাম্প অস্থিরমতি ,আজ এটা করেন তো কাল আরেক । আজ এক কথা বললে কাল সেটা বদলে ফেলতে তার সমস্যা হয়না। জিজ্ঞাসা করলে বলবেন ,কই নাতো ! সাংবাদিকরা যদি রেকর্ড বাজিয়ে শোনান, হয় উল্টো হাঁটা ধরবেন । নয় তো বলবেন এর অর্থ অন্য,তোমাদের বোঝার ভুল। সেই ট্রাম্প কিন্তু একটি বিষয়ে ভীষণ কন্সিসটেন্ট , ওবামা বৈধ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। কারন তার জন্ম যু্ক্ত রাষ্ট্রের বাইরে।
ট্রাম্প একা নন। অনেকেই দাবি জানালেন সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।ওবামা দেখালেন।বাকি সবাই চুপ মেরে গেল।ট্রাম্প কিন্তু লেগে রইলেন ।বললেন ,সার্টিফিকেট যে জাল নয় তার কি প্রমান?ওবামা যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেন নি তার ই বা কি প্রমান ? না সেটি প্রমানের দায় তার নয়।তিনি বলে খালাস।লোকে তা নিয়ে কথা বলুক।তিনি বরং বাজারে নতু্ন নতুন প্রশ্ন যোগালেন। ওবামা যদি খ্রিষ্টান হবেন তো নাম বারাক হোসেন ওবামা কেন? তার বাবা মুসলমান ,তিনি কি? ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। না ,কালো বা মুসলমান প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না ,যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এমন কিছু নেই ,তবে রাজনীতি বলে কথা। ওবামা বিরোধী বার্থার মোভমেন্টের তিনি স্বঘোষিত নেতা। এই পুঁজি নিয়ে তিনি নতুন করে রাজনীতিতে নেমে গেলেন।
এমন একজন লোক মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্ট হলেন কি করে?এ নিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি লেখা হচ্ছে ।প্রেসিডেন্ট কিন্তু বহাল তবিয়তে আছেন ।এই যে একের পর এক কেলেংকারী ফাঁস হচ্ছে ,প্রেসিডেন্ট তাতে থোড়াই পরোয়া করেন।ধুলিকনার মতো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তার নোংরা জামা ধুয়ে সাফ সুতরো করার কাজটা করে দেওয়ার জন্য সিনেটের রিপাবলিকানরা তো দুই পায়ে খাড়া।
আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোঁড়া সমর্থক ,যাদেরকে বলা হয় ট্রাম্প বেজ তারা প্রেসিডেন্টের নিন্দা শুনতে আদৌ রাজী নন।সন্তান প্রসবের জন্য গর্ভবতী স্ত্রী যখন হাসপাতালে, তিনি যদি তখন পর্নো তারকার মনোরঞ্জনে ব্যস্ত থাকেন,সেটাও ক্ষমাযোগ্য।তিনিতো তখন প্রেসিডেন্ট নন, ক্লিন্টনের মতো ওভাল অফিসে একটা সদ্য পাশ করা শিক্ষা নবিশ মেয়ের সাথে ফষ্টি নষ্টি করেন নি ।হোয়াইট হাউজ কে ও অপবিত্র করেন নি। অকাট্য যুক্তি !
রাশিয়া ইনভেষ্টিগেশন ? ’ডিপ ষ্টেট’ , ’এডমিনিষ্ট্রিটেটিভ ষ্টেট ‘ মানে আমলাতন্ত্র আর ডেমোক্রেটদের মিলিত ষড়যন্ত্র। হিলারি নয় , ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচন জিতেছেন তারা এটা মানতে পারেনি। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বাইরের লোক,চেনা মুখ নন।তিনি কঠিন মানুষ ,আমলাতন্ত্রকে পাত্তা দিবেন না ।কাজেই শুরুতেই প্যাঁচে ফেলে কাবু করতে হবে।আর ডেমোক্রেটদেরতো কথাই নেই।তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় কে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চায় ,তাকে খাটো করতে চায়।তিনি ব্যর্থ হোন এটি তাদের কাম্য।কাজেই তারা প্রেসিডেন্ট কে কাজ করতে দিচ্ছে না।শুরুর দিন থেকেই তার পিছনে লেগে আছে। ওয়াশিংটন একটা বদ্ধ জলা।তার জল দুর্গন্ধযুক্ত। বুশ পরিবার,ক্লিন্টন পরিবারের মত দুর্নীতিবাজরা হাঁসের মত এই জলে সাঁতার কেটে বেড়ায়। তবু তাদের গায়ে কাদা লাগেনা। ‘’ড্রেইন দি সোয়াম্প ‘’।পানি সেঁচে ফেল, স্বচ্ছ জল চাই।
ট্রাম্প ওয়াশিংটনের পলিটাকাল ক্লাশের লোক নন। তিনি ‘বিশেষ স্বার্থে’র , কর্পোরেট লবির প্রতিনিধি নন।তিনি খেটে খাওয়া সাধারন জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করবেন।তিনি নিজের জন্য ক্ষমতা চান না ।যথেষ্ট টাকা তার আছে।আর দরকার নেই।ব্যবসা ছেড়ে রাজনীতিতে সময় দিলে তার কিঞ্চিৎ ক্ষতি হবে।তা সেটা তিনি মেনে নিয়েছেন।তিনি এন্টি এস্টাব্লিশমেন্ট, তিনি বিপ্লবী।
সাদারা এ সব কথা গিলেছেন । বিশ্বাস করেছেন। কাজেই যতই তীর ছুঁড়ুন,বর্ম ভেদ করতে পারবেন না।
সাদা রাজনীতির বয়ানঃ
সমর্থকদের বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট একাই লড়ে চলেছেন । আমেরিকার তো শ্ত্রুর অভাব নেই। তাকে সাপোর্ট দিয়ে যেতে হোবে ।তাহলে তিনি নিশ্চিন্ত মনে কাজে হাত লাগাতে পারবেন। চৌদ্দ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে ইরাকে ,আফগানিস্থানে । ছেলেরা মরছে, দেদার টাকা খরচ হচ্ছে,জেতার নাম নেই। ট্রাম্পের মত শক্ত মানুষ না হলে কে এর সমাধান করতে পারবে? বুশ ছিল একটা বোকা, মিথ্যুক। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনী ওর মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেয়েছে। ওবামা দুর্বল,সাহসহীন,কালোদের চিরন্তন সমস্যা ।তদুপরি লিবারেল, ভাব বিলাসী। আমাদের রাষ্ট্রদূত লিবিয়াতে কামানের গোলায় মারা পড়লেন । ওবামা আর তার সেক্রেটারি অফ ষ্টেট হিলারি কি করলেন? কিছুই না ! বিশ্বাস হয়, পৃথিবীর সব চাইতে শক্তিশালী সেনা বাহিনী আমাদের ?
আরো কথা আছে। একা যুদ্ধ করছি, ইউরোপ কোথায়?মিত্ররা যদি আমাদের সাথে নাই থাকে তাহলে তারা কেমন বন্ধু? ন্যাটো যদি আমাদের সাথে যুদ্ধে না যায়,তাহলে এই জোট কে পোষা কেন?আমরা মরবো ,কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করবো । তোমরা মুফতে তার সুবিধে নেবে ।ফের আমাদেরকেই নীতি কথা শোনাবে। আমরা কি ‘পিগি ব্যাংক ‘? তা হবেনা। ফেল কড়ি মাখ তেল।না হয় নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা দেখ।নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে তোমাদের ভাল মন্দ দেখ ভাল করার অবস্থা আমাদের নেই।আমেরিকা কাম ধনু নয় যে যত ই দোয়াবে ,দুধ বেরুবে।আমাদের নিজেদের ই হাজারটা সমস্যা। কঠিন হতে হবে । অবাস্তব দার্শনিকতা , লিবারেল তত্ব কথায় চিড়া ভিজে না। সবার আগে নিজ দেশ ,আমেরিকা ফার্ষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের আগের হাল আর নেই। দুনিয়া জুড়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন করলে তার পোষাবেনা ।প্রতিবেশিদের উপকার করা ভাল।তবে আগে নিজের ঘর সামলাতে হবে।২০০৮ এ মন্দার ধকল এখনো যায় নি। মানুষ ধার দেনা করে বাড়ি কিনল।বিনা নোটিশে তার দাম পড়ে গেল।বাড়ি গেল,কাজ গেলো , অবসরে গেলে চলার জন্য যে পেন্সন ফান্ড ৪০১কে সেটি পর্যন্ত উবে গেলো। রইলো কেবল ব্যাঙ্কের দেনা।বাকি জীবন ধরে সেটি শোধ করো।আরো আছে ,কাজ না থাকলে তো ইন্সিওরেন্স নেই।ইন্সিওরেন্স নেই তো রোগেরও চিকিস্যা নেই। এর জন্য দায়ি কে ? ভুড়ি মোটা ওয়ালষ্ট্রীটের ইহুদি ব্যাংকার, বড় বড় কর্পোরেট হাউজের সিইওরা।কারা তাদের বন্ধু ? বুশ,ক্লিন্টন,হিলারি,ওবামা; ওয়াশিংটনের কংগ্রেশ ম্যান, সিনেটর, লবিষ্ট ।
আমেরিকানরা উদ্ভাবক ,তারা আবিষ্কার করে , জিনিস তৈরি করে ,সারা পৃথিবি কেনে।যুক্তরাষ্ট্র তাইতে ধনী হয়েছে। অন্য দেশে লোকে কাজ খুঁজে বেড়ায়, আমেরিকায় কাজ লোককে খুঁজে বেড়ায়। সেই আমেরিকার এখন কি অবস্থা?
কাজ নেই। কেন? সিনিয়র বুশ নাফতা বানালেন।কাজ গেল মেক্সিকোতে। আসলেন ক্লিন্টন।তিনি তৈরি করলেন ডব্লিউ টি ও, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা। সেখানে ঢুকালেন চিন কে। কাজ গেল সেখানে। জুনিয়র বুশ যুদ্ধ বাধালেন। তেলের দাম বাড়ল হু হু করে , মন্দা হলো ,বেকারের সংখা বৃদ্ধি পেল। আমাদের দুর্দিন অথচ কারো এ দিকে খেয়াল নেই।
এখন চীন বেচে ,আমরা কিনি।ওয়ালমার্টে যে কোন জিনিসে হাত দিন, সেটি মেইড ইন চায়না। এপল আমেরিকার কোম্পানী। জিনিস বানাবে চীনে ,বেচবে যুক্তরাষ্ট্রে। শুধু চীন কেন ,সবাই আমেরিকাকে পেয়ে বসেছে। আমাদের গাড়ির মার্কেট সেটাও জাপান আর জার্মানীর দখলে। আমেরিকার বানিজ্যে ঘাটতি । চীন,ইউরোপ, কানাডা ,মেক্সিকো সব দেশের ক্যাপটিভ মার্কেট। ডেট্রয়েট মটর সিটি,,এসেম্বলি লাইনের প্রবর্তক,আমেরিকার শিল্প গৌরব। এখন সেই শহরে ৭০০০০ হাজার ফ্যাক্টরি আর অফিস পরিত্যক্ত,৩১০০০ বাড়ি জনশুন্য।যারা এখনো ডেট্রয়েট ছেড়ে যাননি ,তারা বেকার । অপিওয়েড, ফেন্টিনাইলের নেশা তাদের দৈনন্দিন শান্তনা,শেষ আশ্রয়। অপরাধ ,আত্মহত্যা ,অপমৃত্যু নিত্যকার ঘটনা। আমেরিকার সম্বৃদ্ধির প্রতীক এখন তার জড়া ও অবক্ষয়ের প্রতীক।
আমেরিকায় সাদা মানুষরা ভালো নেই। কারখানার কাজ তারাই করতো।সে কাজ দেশের বাইরে চলে গেছে।তারা খনির কাজ করতো।পশ্চিম ভার্জিনিয়ার কয়লা খনি গুলি ওবামা বন্ধ করে দিয়েছেন । তেলের খনি এবং তেলের ব্যবহার দুই ই আমেরিকার আবিস্কার, শিল্প প্রগতির বাহন। যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদে ধনী। এখন জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়েও ষ্ড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। রব উঠেছে ফসিল ফুয়েলের ব্যাবহার তুলে দিতে হবে।গাড়ী ছাড়া আমাদের চলেনা।গ্যাস ছাড়া গাড়ী অচল।কাজে যেতে গাড়ী,মুদি দোকানে যেতে গাড়ী।নবায়নযোগ্য জ্বালানী? তাতে খরচ বাড়বে আমাদের। কয়লা খনির কাজ গেছে ।এখন তেল কম্পানির কাজ ,তেল পরিবহনের কাজ ও যাবে।এ সব তো আমাদের সাদাদের কাজ। ক্লাইমেট চেঞ্জ, গবেষক বিজ্ঞানীদের ভুয়া আবিষ্কার । বামপন্থিরা তালি বাজাচ্ছে। তারা আমেরিকা কে ধ্বংস করতে চায়। তারা মোক্ষম অস্ত্র হাতে পেয়েছে। আমেরিকাকে দেউলিয়া বানাবার ষড়যন্ত্র ।
বিশ্বায়নের সমর্থক গ্লোবাল এলিট, যারা সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে আমেরিকার সাধারন মানুষদের নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই।আমেরিকার মধ্য -পশ্চিম শিল্পাঞ্চল ,কৃষি ভিত্তিক পশ্চিম ও দক্ষিনাঞ্চলের সাদা প্রকৃ্ত নাগরিকদের খবর তারা রাখেন না।
কাজ না থাকলে আমাদের জীবন চলবে কি করে? বাড়ি ,গাড়ীর মর্টগেজ দিব কি করে? ইলেকট্রিক বিল ,গাড়ীর গ্যাস,বাড়ির চুল্লি, হিটার ,এয়ার কন্ডিশনার অগুনতি বিল কে শোধ দিবে? দেনাদাররা একে একে হাজির হবে। সব কিছু নিলামে উঠবে। দেউলিয়া হব? মাথা গুজার ঠাঁই ও থাকবেনা? সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব? শেষতক রাস্তায় ঘুমাব, চার্চে খাবারের জন্য ধর্না দিব ?
আমেরিকার মেনুফেকচারিং শিল্প কে বাঁচাতে হবে।যুক্তরাষ্ট্রে জিনিস বেচতে হোলে তা আমেরিকায় তৈরি হতে হবে।কাজ ফেরত আনতে হবে।আমেরিকার ওয়ার্কিং পিপল কে রক্ষা করতে হবে। তা হলেই না আমেরিকা পুর্ব গৌরব ফিরে পাবে।ট্রাম্প স্লোগান দিয়েছেন ‘’মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’’। তিনি জানেন আমেরিকা তলিয়ে যাচ্ছে।তাকে টেনে তুলতে হবে।
তিনি ব্যবসায়ী ,তিনি বিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন।তিনি পারবেন।তিনি অর্থনীতির সমস্যা বুঝেন,তিনি জানেন কি ভাবে ট্রেড ডিল করতে হয়, দরকষাকষি করতে হয়।তিনি চীনকে মোকাবেলা করবেন।তিনি বানিজ্য সমতা নিশ্চিত করতে পারবেন।
ডেমোক্রেটরা সমস্যা। আপনি আয় করবেন,ওরা ট্যাক্স বসাবে। পকেটে হাত ঢুকিয়ে ওরা আপনার টাকা কেড়ে নেবে। আমার ব্যাক্তিগত আয়ে রাষ্ট্র কেন ভাগ বসাবে? ওরা সমাজতন্ত্রী,ওরা সামাজিক নিরাপত্তার পক্ষে।এর সুবিধাভোগী কারা ? কালোরা। তারা অলস ,কাজে তাদের উৎসাহ নেই।তারা চায় সরকার তাদেরকে খাওয়াবে,থাকার জন্য বাড়ি,অসুখ হলে চিকিৎসা সেবা দেবে। গরিব দেশের মানুষ, অর্থনৈ্তিক নিরাপত্তার জন্য এখানে আসতে চায় । তাদের জন্য এটা হাত ছানি,প্রকাশ্য আমন্ত্রন ।আস,সরকার খাবার দেবে ,সাহায্য পাবে ,কাজ জুটবে।তোমাদের জীবন বদলে যাবে। কিন্তু আমাদের নিজেদেরইতো কাজ নেই! ওদের সাথে কাজের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে? আমরা ঘন্টায় দশ ডলারে যে কাজ করি । ওদের কে পাঁচ ডলার দিলেই চলবে।আমাদের বাঁধা কাজ ওরা চুরি করবে। সামাজিক নিরাপত্তা একটা শ্বেত হস্তি। তাতে চড়বে অন্যরা ,আমরা খাবার যোগাব?
ডেমোক্রেটরা সীমান্ত তুলে দেওয়ার পক্ষে। যেই আসতে চায়,আসতে দাও।এটা কোন কথা হলো? খোলা সীমান্ত দিয়ে বানের জলের মত হিস্পানিরা ঢুকবে ।ড্রাগ স্মাগলার ,রেপিষ্ট, দাস পাচারকারি, নারি পাচারকারি, ফেরারি আসামি ,খুনি ,বাটপার,জালিয়াত সবার জন্য দরজা খোলা ।যুক্তরাষ্ট্র হবে অপরাধীদের স্বর্গভুমি। ওদের পেছনে খরচা আছে। রাষ্ট্র নিজে দেউলিয়া হবে,আমাদের পকেটেও হাত দিবে। রিফিউজি নামে মুসলমান টেররিষ্টরা ঢুকবে।আবারো ৯/১১ হবে।ম্যানহাটনের ব্যস্ত সড়কে কেউ একজন কোন একদিন পথচারিদের গায়ের উপর ট্রেইলর চালিয়ে দিবে। রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে মানুষের রক্তাক্ত দেহ।সে মানুষ আমি আপনি যে কেউ হোতে পারি।
অবশ্য ই সীমান্ত বন্ধ করতে হবে ।দেয়াল তুলতে হবে,বিশেষ করে মেক্সিকোর সাথে পশ্চিম সীমান্তে।ইমিগ্রেশন আইনের সকল ছিদ্র বন্ধ করে দিতে হবে ।ডিভি লটারি ,চেইন মাইগ্রেশন ,পারিবারিক ভিসা , আমেরিকায় জন্মালেই নাগরিকত্ব এসব তুলে দিতে হবে।যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনি আশ্রয় নেওয়া সকল কে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হোবে ।নতুন যারা আসছে তারা কারা?তাদের সাথে আমাদের কোন কিছুর মিল নেই।কি গায়ের রং ,কি ধর্ম বিশ্বাস,কি মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি সব কিছুতে তারা ভিন্ন।আমাদের পরিবারের সদস্য তিন কি চার জন ,ওদের দশ। ওদের জন্ম হার বেশি।এভাবে চলতে থাকলে আমরা সাদারা সংখ্যালঘুতে পরিনত হব। আমাদের সংস্কৃতি বিপন্ন হবে।আমাদের নারীরা খোলামেলা চলে,আমরা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।মুসলমানরা মেয়েদেরকে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখে।মুসলমান ও ইহুদীরা আমাদের খাবার খাবেনা।তারা খাবে কোশার ,হালাল।আমাদের সিভিল কোড রয়েছে। মুসলমানদের কাছে শরিয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। ওরা অসহিষ্ণু ,ওরা জেহাদে বিশ্বাস করে।তা হোলে তেল জলে মিশ খাবে কি করে?
ডেমক্রেটিক পার্টি এখন কালো, অতি -লিবারেল, আর বামপন্থী্রা দখল করে নিয়েছে। ওরা সাদা মানুষদেরকে ঘৃণা করে। কারন আমরা প্রতি রোববার চার্চে যাই।আমরা গর্ভপাতের বিরুদ্ধে,আমরা সমলিঙ্গ বিয়ের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেনি ,মানুষ বানর জাতীয় প্রানীর বিবর্তনের ফল।আমরা চাইনা এসব বাইবেল বিরোধী তত্ত্ব আমাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে শেখানো হোক।ওরা বলে আমরা রেসলিং ,গাড়ির রেস , জুয়া, লটারিতে আসক্ত। ওরা আমাদেরকে তাচ্ছিল্য করে। সাদা অধিকারের পক্ষে কথা বললে ওরা বলে আমরা রেসিষ্ট।
ওরা সেক্যুলার ; গর্ভপাত,সমলিঙ্গ বিয়ের পক্ষে । ওরা ভোটে জিতার জন্য দল ভারী করতে চায়।এ কারনেই তারা অভিবাসনের পক্ষে,সীমান্ত খুলে দেওয়ার পক্ষে। ওরা বহিরাগত ,এমনকি মুসলমানদেরকেও কোলে তুলে নাচবে।কিন্তু এ দেশের প্রকৃ্ত নাগরিকদের গান রাইট ছিনিয়ে নিবে। এটা আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার। সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে এ অধিকার আমাদেরকে দেয়া হয়েছে।
আমিই শুধু পারি সব কিছু ঠিক করতেঃ
ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মধ্য -পশ্চিম শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক শ্রেনীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অবক্ষয় জনিত ক্ষোভ কে রাজনৈতিক ভাষা দিয়েছেন। পশ্চিম ও দক্ষিনের গ্রামাঞ্চলের শ্বেত বর্ণের গ্রামীন জনগনের সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে বিদ্যমান মনোস্তাত্ত্বিক জটিলতা,ভিন্ন গাত্র বর্নের অভিবাসীদের সম্পর্কে সন্দেহ ও অবিশ্বাস এবং নাগরিক সস্কৃতির আগ্রাসনের ভীতির প্রতিধ্বনি করেছেন । তিনি তাদের ভাবাবেগের জোয়ারে ভর করে নিজের নির্বাচনী নৌকা সাফল্যের সাথে ঘাটে ভিড়িয়েছেন।
মুলতঃশ্বেত বর্ণের এই জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন তিনিই এক মাত্র তাদের কন্ঠস্বর।তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনিই যোগ্যতম ব্যাক্তি। তিনি বলেছেন ‘’ আই এম ইউর ভয়েস।ওনলি আই কেন ফিক্স ইউর প্রব্লেম।“ তিনি দাবি করেছেন ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা লাভের জন্য সবাই কালো, বহিরাগত অভিবাসিদের তোষণ করেন।কিন্তু এদেশের প্রকৃত নাগরিক শ্বেত অধিবাসীরা অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের শিকার।
জাতীয় রাজনীতিতে বর্ণ পরিচয়ের এমন খোলামেলা ব্যবহার ও আবেদনই গোষ্ঠী বিশেষের কাছে তাকে জনপ্রিয় করেছে। স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দিয়েছে। রিপাবলিকানরা বরাবরই তা ব্যবহার করে এসেছে।তবে তা অভিবাসন,সামাজিক নিরাপত্তা,গর্ভপাত বিরোধিতা,সমলিঙ্গ বিয়ে এই সব আপাতঃবর্ণ নিরপেক্ষ ইস্যুর ছদ্মাবরনে , প্রচ্ছন্ন ভাবে।
ট্রাম্প তাদেরকে বিদ্রুপ করেছেন।“আমি পলিটিকালি কারেক্ট হতে চাইনা।স্পেড এর টেক্কাকে আমি স্পেড এর টেক্কা নামেই ডাকি।‘’ তিনি অথেনটিক ,খোলামেলা। রাজনীতিতে এটাই ট্রাম্প সাহেবেরর অবদান ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদেরকে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাকি রাখতে পারবেন? মেনুফেকচারিং শিল্পের পুন্রুজ্জীবন , বানিজ্য সমতা বিধান,বানিজ্য চুক্তি গুলির পুনরলিখন বা বহিরাগত অভিবাসন বন্ধ এর মত বিষয়ে গত চার বছরে তার অর্জন কি?
চীনের সাথে বাণিজ্য সমতার প্রচেষ্টা বানিজ্য যুদ্ধের রুপ নিয়েছে।নাফতার ক্ষেত্রে বানিজ্য চুক্তির নাম পরিবর্তনে তিনি সফল,কিন্তু সারগত বিষয়ে পরিবর্তন সামান্য। কিছু কাজ ফেরত হয়তো এসেছে,বেরিয়ে যাওয়ার সংখ্যাও সে রকম ই।কর্ম সংস্থান বেড়েছে অন্যত্র , মেনুফেকচারিং শিল্প আরো সংকুচিত হয়েছে এবং তা করোনা ভাইরাস সৃষ্ট মন্দার আগেই। অভিবাসনের ক্ষেত্রে আইনের পরিবর্তন তার একার সাধ্যের বাইরে ,হাউজ ডেমোক্রেটদের সাথে ঐকমত্য প্রয়োজন।তার স্বীকৃত দক্ষতা বিবাদ তৈরিতে,মীমাংসায় নয়।
যে সাফল্য সম্পর্কে তিনি উচ্চকন্ঠ ছিলেন ,সেটি শেয়ার মার্কেটের রেকর্ড মুল্য সূচক। তাতে লাভবান ওয়াল ষ্ট্রীট,মেইন ষ্ট্রীটের সাধারন জন নন।করোনা ভাইরাস তার সেই সাফল্যকেও ধুয়ে মুছে নিঃশেষ করে দিয়েছে।
বলার মতো সাফল্য নেই,কাজেই তিনি এখন দেশের বাইরে ও ভিতরে ছায়া শত্রু সন্ধানে ব্যস্ত। ইলহান ওমর ,রাশিদা তালাইব,অনন্যা প্রেসলি আর আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ তিনি এই চারজন ত্রুন নির্বাচিত কংগ্রেস প্রতিনিধিকে কে এক সাথে ব্রাকেট বন্দি করেছেন ।নাম দিয়েছেন ‘স্কোয়াড’।এরা হচ্ছে‘’সমাজতন্ত্রি’’ এবং ভবিষ্যতের ডেমোক্রটিক পার্টি।সময় থাকতে সাবধান,তাকিয়ে দেখ এরা কারা? দুজন মুসলমান , ,একজন কালো আর একজন হিস্পানি।শোনা যাচ্ছে তিনি ভাবছেন নির্বাচনে তার তুরুপের তাস হবে চিন এবং করোনা ভাইরাস।ইদানিং বলতে শুরু করেছেন করোনা ভাইরাস চিনের তৈ্রি জীবানু অস্ত্র।আমেরিকার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।কিন্ত নির্বাচনে তো তার প্রতিদ্বন্দী সি জিং পিং নন, বাইডেন! কাজেই দেখা যাক কতটা করতে পারেন।
প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন এক প্রসঙ্গে বলেছিলেন, যদি ম্য্যানহাটনের সড়কে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় কাউকে খুনও করেন ,আইন তাকে ছুঁতে পারবেনা।নিউ ইয়র্কের এই রিয়াল ষ্টেট ম্য্যগনেট সম্ভবত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকার ক্ষমতাকেও তুল্যমুল্য ভেবেছিলেন।ভেবেছিলেন তিনি বিশ্ব বানিজ্যের নিয়মগুলি নিজের মত করে লিখে নিতে স্ক্ষম হবেন ।তার সমর্থকদেরকেও তিনি তাই বুঝিয়ে ছিলেন।তার ধারনা ছিল ক্লিন্টন ,ওবামারা নেহায়েতই দুর্বল চিত্তের লোক, অকর্মন্য ও অপদার্থ।যা তাদেরকে দিয়ে হয়নি ,তিনি তা পারবেন।ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্ব রাজনীতিতে নির্বান্ধব,সঙ্গিহীন।
সমর্থকেরা মনে করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদেরই একজন ;কি গায়ের রঙ ,রুচি বা মুল্যবোধে।‘ তিনি অসাধারণও বটে। কারন তিনি বিলিয়নিয়র। তারা যা পারেনা,তিনি তা পারেন। কাজেই তিনি তাদের আকাঙ্খা পুরন করবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে কাজ টি করেছেন সে টি কর মওকুব বা টেক্সের হার কমানো। ফলে কর্পোরেট গুলি এবং উচ্চ আয়ের ব্যাক্তিরা কয়েক ট্রিলিয়ন অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।কথা ছিল চুঁইয়ে কিঞ্চিৎ হলেও সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছুবে।কিন্তু তার আগেই তা নিঃশেষ, সে পর্যন্ত আর পৌঁছয় নি। গায়ের রঙ ,রুচির মিল নেহায়েতই বহিঃরঙ্গের ব্যপার, প্রকৃ্ত পার্থক্য তো অর্থনৈ্তিক স্বার্থে।সে দিক থেকে ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা দুই মেরুর বাসিন্দা ।
সে পার্থক্য তো ঘুচবেনা,কারন তা ঘুচার নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যার মূল অনেক গভিরে।ডোনাল্ড ট্রাম্প রোগ লক্ষন হতে পারেন ,কিন্তু তার দাওয়াই নন।
ট্রাম্প সমাধান নন,তিনি নিজেই এখন আমেরিকার বড় একটা সমস্যা।
(সংগৃহীত: মোজাম্মেল হোসেন তারা)

Warning: A non-numeric value encountered in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 109

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here