মণিরামপুরে কৃষক হত্যাকান্ডের ১৫ দিনের নজরুল হত্যা উন্মোচিত হয়নি, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

0
62

মণিরামপুর প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে নজরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের ১৫ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। হত্যাকান্ডে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য দিলেও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় ফাঁড়ি ইনচার্জ কোন আমলে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ নিহতের স্ত্রী পারুল খাতুনের। স্বামীর মৃত্যু শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি স্ত্রী পারুল খাতুন।
উপোরন্ত এ হত্যাকান্ডকে ঘিরে ফাড়ি ইনচার্জ এসআই শাহাবুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে এসব তথ্য উঠে আসে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৩ জনকে আটক করে। পরে তিনজনই মামলার আসামী হলে ২ রিমান্ডে নিয়েও পুলিশ হত্যান্ডের মুল রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে করতে পারেনি।
জানাযায়, গত ৩১ এপ্রিল উপজেলার তাজপুর গ্রামের মৃতঃ মেছের আলীর ছেলের মরদেহ স্থানীয় মাঠের মরিচ ক্ষেতের পাশে ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়। ক্ষেত থেকে পানি নিষ্কাশনে আইল কাটা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে নজরুল খুন হন বলে নিহতের স্বজনদের দাবি। এদিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহত নজরুলের ক্ষেত সংলগ্ন জমি মালিক একই গ্রামের সোবহান সরদারের ছেলে আব্দুল জব্বার, আমির আলীর ছেলে আসাদুল ইসলাম ও লুৎফর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরদিন ১জুন নিহতের স্ত্রী পারুল খাতুন আটক ৩ জনসহ ২/৩জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেন। যার মামলা নম্বর-জিআর ৯৩। ২ জুন আটক ৩জনের বিরুদ্ধে ৫দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলেনি বলে একটি সূত্র জানায়।
অনুসন্ধানে জানাযায়, আটক ৩ জনের মধ্যে সোবহান সরদারের ছেলে আব্দুল জব্বার হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত বলে অনেকেই ধারনা করছেন। যেদিন নজরুল ইসলাম নিহত হন ওইদিন রাতে আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী ইশারত খাতুন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।
নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ঘটনার দিন রাতে আব্দুল জব্বার ও স্ত্রীর চোখে মুখে ছিলো আতংকের ছাপ। ভয়ে তাদের গলা শুকিয়ে যেতে থাকে। সেইরাতে দফায় দফায় স্থানীয় চিকিৎসক আমজেদ হোসেন ও মিজানুর রহমানের সরনাপন্ন হয় তারা। বাইরে চিকিৎসার জন্য তাদের পরিচিত প্রাইভেটকার চালকের কাছে ফোন করে আব্দুল জব্বার। ওই রাতে একই গ্রামে থাকা আব্দুল জব্বারের ভগ্নিপতি আবু দাউদ ও বোন নাছিমা খাতুনকে আতংকিত হয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
তাদের ধারনা ক্ষেতের পানি নিষ্কাশনে আইল কাটা নিয়ে আব্দুল জব্বারের সাথে নিহত নজরুলের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় কোদাল দিয়ে কাঁধ বরাবর আঘাতে নজরুলের মৃত্যু হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় নজরুল জীবিত থাকায় তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলো আব্দুল জব্বার। যে কারনে হাসপাতালে নিতে প্রাইভেটকার চালকের কাছে ফোন করে আব্দুল জব্বার। এক্ষেত্রে আব্দুল জব্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তদন্ত করা হলেও মিলতে পারে অনেক রহস্য। তবে, আব্দুল জব্বারের স্ত্রী ইশারত খাতুন ও তার বোন নাছিমা খাতুন এবং ভগ্নিপতি আবু দাউদকে আটক করলে হত্যাকান্ডের গুরত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে স্থানীয় অনেকের ধারনা।
নিহতের স্ত্রী পারুল খাতুন বলেন, এখন মনে হচ্ছে আব্দুল জব্বারই তার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। জব্বারের স্ত্রী, বোন ও ভগ্নিপতিকে আটক করলে হয়তো হত্যা রহস্য উন্মোচিত হতো। শাহাবুল (মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই শাহাবুল আলম) স্যারকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনে বলা হলেও তিনি কোন কথায় কর্ণপাত করছেন না। অনেকে বলছেন শাহাবুল স্যার তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ধরছেন না।
এসআই শাহাবুল আলম ঘুষ বানিজ্য ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 109

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here