ঝিকরগাছায় উপবৃত্তি করে দেয়ার কথা বলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিয়ে দেয়ার অভিযোগ : চলছে তোলপাড়

0
110

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা থেকে : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৭নং নাভারণ ইউনিয়নের অন্তগত করিমালী আলিম মাদ্রাসার পরিছন্নতাকর্মী মনোয়ারা ওরফে মনি’র দিয়ে পাতানো ছকে ফেঁসে গেল করিমালী আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ১৩ বছর বয়সের এক শিক্ষার্থী। সে করিমালী গ্রামের জিন্নাত আলীর মেয়ে। তাকে উপবৃত্তি করে দেয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার বিকালে কুন্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা পাতি আলমের বাড়িতে নিয়ে যায়। অতঃপর নাভারন ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রার ইকরাম উদ্দিনের শশুর ইব্রাহিম শেখ ঘটনাস্থালে গিয়ে পাতি আলমের নির্দেশে তার ছেলে বাবলুর রহমান (৩০) এর সাথে তার জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হয়। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এঘটনার বিষয়ে নিকাহ্ রেজিস্টার ইকরাম উদ্দিন ও তার শশুর ইব্রাহিম শেখকে রবিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমী মজুমদার তার দপ্তরে তলব করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে করিমালী আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ১৩বছর বয়সের এক শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি করে দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসার পরিছন্নতাকর্মী মনোয়ারা ওরফে মনি’র দিয়ে নাভারণের কুন্দিপুর গ্রামের পাতি আলম নাভারন ইউনিয়নের নিবাহ্ রেজিস্ট্রার ইকরাম উদ্দিনের শশুর ইব্রাহিম শেখকে ঘটনাস্থালে নিয়ে গিয়ে তার (পাতি আলম) নির্দেশে তারই ছেলে বাবলুর রহমানের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হয় ওই শিক্ষার্থীকে। এই বাল্য বিবাহ হওয়ার কারণে এলাকার মধ্যে অনেক গুনজন সৃষ্টি হয়। গুনজনের বিষয়টি শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিক উক্ত বিষয়ের উপর তদন্ত করতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন আখতার সুলতানা ও শিওরদাহ ফাঁড়ির আইসি এসআই এজাজুর রহমান এজাজকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এসময় অভিযুক্ত নাভারন ইউনিয়ন বিবাহ রেজিস্টার মাদ্রাসা শিক্ষক ইকরাম উদ্দিনের অফিস থেকে বেশ কয়েকটি (স্বাক্ষরিত) সাদা স্ট্যাম্প নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিট করানো সীলমোহর, বেশ কিছু জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধণসহ সন্দেহভাজন কাগজপত্র জব্দ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে নিকাহ্ রেজিস্টার ইকরাম উদ্দিন ও তার শশুর ইব্রাহিম শেখকে আগামী রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদে তার নিজেস্ব দপ্তরে তলব করেছে।
নাভারণ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা আওরঙ্গজেব জানান, নাভারণের কুন্দিপুর গ্রামের পাতি আলম ও তার ছেলে বাবলুর রহমান প্রতৃকপক্ষে তারা কোন কাজকর্ম করেনা। তারা বিভিন্ন সময়ে এলাকার মধ্যে প্রভাব খাঁটিয়ে তাদের ক্ষমতার কাছে জিম্মী করে সাধারণ মানুষের নিকট অর্থ উপাজন করে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী মজুমদার জানান, নাভরণের বাল্য বিবাহ সর্ম্পকে আমি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক আমার টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উক্ত বিষয় নিয়ে আগামী রবিবার বসাবসি আছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 109

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here