প্রতারক হাবিবুর চক্রের হাত থেকে পরিত্রাণ চায় কুয়াদাবাসী

0
76

কুয়াদা প্রতিনিধি : যশোর মণিরামপুর উপজেলাসহ সদর উপজেলা পাঁচজন বাদি হয়ে গত ৭ জুন যশোর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একই তারিখে যশোর জেলা ডিএসবি কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায় যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর নয়। সে মণিরামপুর চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। অথচ কুয়াদা আঞ্চলিক এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ জনগণকে মোটা অংকের বেতন ভাতার সরকারী চাকুরীর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে।
জানা যায়, মণিরামপুর চন্ডিপুর গ্রামের মৃত জোহর আলী গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান একজন প্রতারক। লেখাপড়ায় পারদর্শি নয় ওই এলাকায় জনগণ মৌখিকভাবে জানিয়েছেন প্রতারক হাবিবুর রহমান জীবনে কখনও প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় যায়নি। সে আবার বিজয় টিভির বিভাগীয় ও যশোর জেলার সাংবাদিক হয় কিভাবে? এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে যে টাকা নিয়েছে তা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, মারধর, মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়।
প্রতারক হাবিবুর রহমান নিরীহ সাধারণ মানুষের মগজ ধোলাই করে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার উপরে আত্মসাত করেছেন। প্রতারনার দায়ে নিজ এলাকা চন্ডিপুর গ্রামে ঠাঁই না পেয়ে কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা মামার বাড়িতে উঠেন। শুরু হয় কুয়াদা আঞ্চলিক এলাকায় মানুষের সাথে প্রতারণা। পুলিশ দিয়ে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়।
কুয়াদা বাজার তাজু সাইকেল গ্যারেজ মালিক মণিরামপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের সোনা উল্লাহ বিশ্বাসের ছেলে ভালো চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করে ভালো ফল হয়নি বলে জানিয়েছে গ্যারেজ মালিক।
সিরাজসিঙ্গা গ্রামে গহর আলীর ছেলে সহিদুলকে কুয়াদা খইতলায় অপারেটিভ সোসাইটি লি. সমিতি খুলে তাকে ঢোকানোর জন্য ৭ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন। থানায় অভিযোগ করে কোন ফল হয়নি।
এসব বিষয়ে বিজয় টিভি ঢাকার ক্রাইম টিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার যশোর জেলায় এমন একটি বাটপার আছে তা জানতাম না। মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের মজিবর মাস্টার এর ছেলে সোহাগকে ঢাকায় সরকারী হেল্থ কেয়ার ক্লিনিকে চাকুরী দেওয়ার নামে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এছাড়া বেগারীতলা কর্ন্দপুর গ্রামের ফারুক হোসেনর স্ত্রী সম্পা নাজনীনকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে অগ্রিম ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। চিটার বাটপার প্রতারকের খপ্পরে পড়ে আরও অনেকেই সর্বশান্ত হচ্ছে বলে জানা যাইতেছে।
প্রতারক হাবিবুর চক্র মণিরামপুর পুরবি সিনেমা হলের যৌন কর্মি লাবনীকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শারীরিক কাজে ব্যবহার করে টাকা না দেয়ার কথাও জানা গেছে। এছাড়া কেশবপুর উপজেলা গড়ভাঙ্গা গ্রামে আজিজের ছেলে মুকুলকে মগজ ধোলাই করে ঢাকায় সরকারী হেল্থ কেয়ার ক্লিনিকে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাথে করে ঢাকায় নিয়ে পালিয়ে চলে আসে। মুকুলের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিন চারটি ইউনিয়নের সরকারী গ্রাম ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনসার ভিডিবির চাকুরী ও ডিউটির নামে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ থেকে ১০০ জনের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫০০ টাকা করে নিয়ে প্রতারণা করেছেন।
তার মধ্য ভুক্তভোগী মণিরামপুর উপজেলা চালকিডাঙ্গা গ্রামের রোস্তমের স্ত্রী কাজল বেগমের ৬০০ টাকা এছাড়া সরকারী বন বিভাগে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন সতীঘাটা কামালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক পাটোয়ারীর ছেলে আলী আহম্মদের কাছ থেকে।
২০১৯ সালে উপজেলা ভিত্তিক নির্বাচনে আনসার ভিডিপি ডিউটি করানোর কথা বলে অনেক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন এই প্রতারকের খুটির জোর কোথায়? কোন রাজনৈতিক প্রভাবশালী কুচক্রী মহল এই প্রতারক চক্রকে প্রশয় দেয়।
সদর উপজেলার রামনগর কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে আনোয়ারের স্ত্রী অসহায় হাসিনার চাউলের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২৫০০ টাকা নিয়ে ৫ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন।
একই ইউনিয়নের কুয়াদা বাজার গোলদার পাড়া গ্রামের আমিরের স্ত্রী সাজেদা বেগমকে চাউলের কার্ড করে দেওয়ার নামে ৪ হাজার টাকা মগজ ধোলাই করে নিয়েছে।
একই গ্রামের ইসমাইল গোলদারের স্ত্রী জোহরা খাতুনকে আনসার ভিডিপির ডিউটির কথা বলে ১৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এনিয়ে সাধারণ জনগনের ভিতর খোভের মিশ্র তৈরী হচ্ছে।
এই প্রতারক যশোর জেলা সহ বিভিন্ন এলাকার কুচক্রী মহল প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গীয়ে এনতার প্রতারণা করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে চা বিক্রেতা ফারুকের স্ত্রীকে আনসার ভিডিপির ডিউটির নামে ৬০০ টাকা হাতিয়েছে।
কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে পাইনকে বিজয় টিভির সাংবাদিকের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়েছে বলে জানা যায়।
সারা বাংলাদেশে মাদক সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স রাখলেও এই সব প্রতারকের ছত্রছায়াই চলে এই সব অপরাধ। এলাকাবাসীর দাবি এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here