কালিয়ার ভ্যান চালক ইবাদ শেখ হত্যার রহস্য উদঘাটন : হত্যাকারী স্ত্রীকে গ্রেফতার

0
69

বিশেষ প্রতিনিধি : যশোর নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ফুলদহ গ্রামে ভ্যান চালক ইবাদুল ইসলাম ওরফে ইবাদ শেখ (৩৬) মৃত্যুর রহস্য যশোর পিবিআই উদ্ধার করেছে।
স্ত্রীর অনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা দেয়ায় স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে খুনের সাথে জড়িত অভিযোগে স্ত্রী আমেনা বেগম (৩০ ) কে গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ইবাদুল হত্যার রহস্য। আমেনা বেগম ওই উপজেলার জামতলা গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের মেয়ে। গত ৯ মে দিবাগত রাতে শ্বশুর বাড়ির পার্শ্ব থেকে ভ্যান চালক ইবাদুল ইসলাম ওরফে ইবাদ শেখ এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে কালিয়া থানা পুলিশ।
এ সংক্রান্তে কালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। যার নং ০৭/২০। তারিখঃ ১০/০৫/২০ ইং। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পিবিআই যশোরে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক গাজী মাহবুবুর রমানসহ একটি অভিযানিক দল ইবাদুল ইসলাম ওরফে ইবাদ শেখ এর স্ত্রী আমেনা বেগমসহ ৩জনকে গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় আমেনা বেগম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত একাই বলে স্বীকার করে পিবিআই তদন্ত টিমের কাছে। গ্রেফতার হওয়ার পর আমেনা বেগম পিবিআইয়ের টিমের কাছে জানান, প্রায় ১৩/১৪ বছর পূর্বে তার সাথে ইবাদুল ইসলামের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর ইবাদুলের ঘরে তার ২টি পুত্র ও ১টি মেয়ে সন্তান হয়। ইবাদ শেখ মাদক সেবন ও মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। তাছাড়া,তার অন্য কোন উপার্জনের মাধ্যম ছিল না। বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ বেঁধে থাকতো। এই বিষয়ে উভয়ের মধ্যে চরম আকারে বিরোধ দেখা দেয়।
অনুমান ১ বছর পূর্বে নিহত ইবাদ শেখ মাদক মামলায় গ্রেফতার হলে তার স্ত্রী আমেনা তিন সন্তানসহ আমতলাস্থ তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। মাঝে মধ্যে নিহত ইবাদ তার স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসতো। এবং কখনও কখনও রাত্রে গিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। গত ৯ মে রাত অনুমান ১০ টায় ইবাদ শেখ নিজ বাড়িতে ছিল। রাত ১০ থেকে সাড়ে ১০ টার মে ধ্য ইবাদের মোবাইলে স্ত্রী আমেনা ফোন করলে ইবাদ শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। রাত ১২ টা পর্যন্ত অবস্থান করার পর তার স্ত্রী তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্ত ইবাদ ঔদিন তার স্ত্রী সাথে শ্বশুর বাড়িতে থাকতে চায়। ইবাদের স্ত্রী আমেনা বেগম দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। আমেনা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কথোপথন থেকে পিবিআই কর্মকর্তা সত্যতা পান।
ঘটনার রাতে স্ত্রী আমেনা বেগমের কাছে ২জন খরিদ্দার আসার জন্য যোগাযোগ করছিল। স্বামী ইবাদ শেখ শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করার কারনে উক্ত দু’জন আসতে পারছিলো না। আমেনা বেগম পুলিশকে আরো জানায়, নিহত ইবাদ শেখ ওই রাত্রে অনেক মাদক সেবন করেছিল এবং তারা দু’জনই দুধের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করেছিল।
হঠাৎ করে ইবাদ শেখকে তার স্ত্রী ধাক্কাতে ধাক্কাতে ঘরের বাইরে নিয়ে গেলে ইবাদ শেখ মাটিতে বসে পড়ে এবং স্ত্রীকে বলে সে বাইরে থাকতে হলেও থাকবো। এক পর্যায় আমেনা বেগম জোর পূর্বক ধাক্কা দিলে সুপারি গাছে সাথে মাথায় আঘাত লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইবাদের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় বেঁধে টেনে সুপারি গাছের সাথে বাধা বাঁশের সাথে লাশটি ঝুলিয়ে দেয়। আমেনা বেগমের স্বীকারোক্তি ও ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর কালিয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং ৪ তারিখ ৮/০৬/২০ ইং ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড। মঙ্গলবার ৯ জুন আমেনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here