যৌতুক দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ : জামাতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
73

বিশেষ প্রতিনিধি : যৌতুকের ১০লাখ টাকা দাবি করে গৃহবধূ লিনা খাতুন (৩৫) কে তালা দিয়ে মাথায় আঘাত করে শিকল দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার করার অভিযোগে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৃহবধূ লিনা খাতুনের পিতা মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে রোববার বিকেলে জামাতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছে, জামাতা যশোর শহরের বারান্দীপাড়া কদমতলার মৃত মাসুদ আলী খানের ছেলে টগর হোসেন, গৃহবধূর দেবর খোকন, সাজু ও মামুন খান বাবু।
যশোর সদর উপজেলার নিমতলী গ্রামের মৃত আকবার ডাক্তারের ছেলে মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে তার দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, প্রায় ১৬/১৭ বছর পূর্বে মেয়ে লিনা খাতুনের সাথে টগর হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর লিনা খাতুন এক ছেলে সন্তানের জননী হয়। বর্তমানে উক্ত ছেলের নাম শামীম (১৩)। বিয়ের পর থেকে টগর হোসেন তার ভাইদের কু প্ররোচনায় ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় টগর হোসেনকে নগদ ৫লাখ টাকা ও ৩লাখ টাকার বিভিন্ন প্রচারের আসবাবপত্র দেয়। এর পরও টগর হোসেন পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। গত ২৫ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টায় টগর হোসেন তার ভাইদের কু প্ররচনায় যৌতুকের টাকার জন্য লিনা খাতুনকে মোটর সাইকেল তালা দেওয়ার তালা দিয়ে মাথার পিছনে ও শিকল দিয়ে গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। লিনা খাতুন চিৎকার দিলে ছেলে শামীম ও প্রতিবেশী আব্দুল হামিদ মোল্যার ছেলে জাকির হোসেন এগিয়ে এসে গৃহবধূ লিনা খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লিনা খাতুনকে টগর ভর্তি না করায় মোশারফ হোসেনসহ তার ছেলেরা খবর পেয়ে দ্রুত লিনা খাতুনকে নিয়ে খুলনায় গাজী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিনা খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গৃহবধূ লিনা খাতুনের শরীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষনা করে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্নর পর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here