আদর্শবাদী বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন বনাম অর্থনীতিবাদ ও সুবিধাবাদ

0
130

সৈয়দ মজনুর রহমান: ধনবাদী বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের দেশ সহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক আন্দোলনে আদর্শবাদী বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের ধারার বিপরীতে অর্থনীতিবাদী ও সুবিধাবাদী ট্রেডইউনিয়ন আন্দোলনের প্রবণতার ব্যাপক প্রসার লক্ষ্য করা যায়। এই ধারার শ্রমিক আন্দোলগুলোর মধ্যে সুবিধাবাদী ধারার শ্রমিক নেতারা কেবল    দেন দরবার এবং আপোষমুলক বার্গেনিং-এর মধ্যে শ্রমিক আন্দোলনকে আটকে রাখতে সদা তৎপর। শ্রমিকশেণীর সামগ্রিক স্বার্থের পরিবর্তে তারা নিজের এবং নির্দিষ্ট কায়েমি স্বার্থবাদী মুষ্টিমেয় গোষ্টিস্বার্থে মালিক পক্ষের সঙ্গে স্বার্থের ভাগাভাগিতে ব্যস্ত। তারা নিজেরা সুবিধাবাদী তাই সুবিধাবাদকেই শ্রমিক আন্দোলনের লক্ষ্যে পরিণত করে থাকে।

অন্য আরেক ধরনের ট্রেডইউনিয়নিস্টরা আছেন যারা বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যমুলভাবে বিভিন্ন এনজিও এবং বিশ্ব ধনবাদের দালালদের সৃষ্ট আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন দ্বারা পরিচালিত। তারা শ্রেণীসমঝোতার ধারায় শ্রমিক আন্দোলকে পরিচালনা করার প্রয়াসে লিপ্ত। বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠিগত সুবিধা এবং উৎকোচ বন্টনের মধ্যে শ্রমিক আন্দোলনকে আবদ্ধ রাখার কাজে ব্যস্ত। তারা একশ্রেণীর দালাল সৃষ্টির করে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনকে বিপথগামী করার লক্ষ্যে সদা সচেষ্ট।

অপর দিকে অর্থনীতিবাদী ধারার শ্রমিক আন্দোলনকারিরা শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধি ও নানাবিধ পেশাগত সাময়িক সুবিধা আদায়ের লড়াইয়েই শ্রমিক আন্দোলকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ট্যাক্স, পরিবহণ, চিকৎসা, সন্তান সন্ততির শিক্ষা, ঘরভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদি বর্ধিত ব্যয়ের ফলে আদায়কৃত অর্থনৈতিক সুবিধা সমুহ যে অচিরেই অর্থহীন হয়ে পড়ে সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নাই। তারা শ্রমিকশ্রেণীর স্থায়ী ভাগ্য পরিবর্তনে সমাজ বদলের রাজনৈতিক আদর্শের লড়াইয়ের অর্থাৎ তীব্র শ্রেণী সংগ্রামের ঘোর বিরোধী। এমন কি সাধারণ সংস্কারমূলক রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম থেকে এবং সকল প্রকার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকেও শ্রমিক শ্রেণীকে দূরে রাখতে সদা সতর্ক। একথা তারা বুঝতে চায় না যে রাজনৈতিক ব্যস্থার পরিবর্তন ছাড়া শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তনের আর কোন পথ নাই। গার্মেন্টস শ্রমিকের সন্তান, দিনমজুরের সন্তান সহ সমাজের অন্য সকল শোষিত নির্যাতিত ৯০ ভাগ মানুষের সন্তানরা তাদের পূর্বপুরুষের ন্যায় বংশানুক্রমে শোষক শ্রেণীর নিষ্পেষণের শিকার হয়ে যুগ যুগ ধরে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকবে এমন ব্যবস্থার পরিবর্তনের লড়াইয়ে শ্রমিক শ্রেণীকেই নেতৃত্ব দিতে হবে একথা অর্থনীতিবাদীদের বোধগম্য নয়।

শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজন শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির বিপ্লবী দর্শন। সকল বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে বেতন ভাতা বৃ্দ্ধিসহ পেশাগত সাময়িক সুযোগ সুবিধা আদায়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের শ্রমিকশ্রেণীর দর্শন ও আদর্শে সচেতন হওয়া দরকার। সেই আদর্শকে শানিত করে তীব্র শ্রেণীসংগ্রাম গড়ে  তোলাই বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনে কাজ।  আদর্শবিহীন শ্রমিক আন্দোলন সংস্কারবাদী ও সুবিধাবাদী আন্দোলনে পরিণত হতে বাধ্য। তাই শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী ট্রেডইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে শ্রমিক আন্দলনের প্রকৃত আদর্শবান বিল্ববী শ্রমিক নেতা কর্মীদের সচেতনভাবে আত্মনিয়োগ করা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here