নড়াইলে মায়েদের জন্য এমপি মাশরাফির ভালবাসা

0
90

সত্যপাঠ রিপোর্ট : নিজের কর্মে প্রতিদিনই নিজের রেকর্ড ভাঙছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদিনই কোনো না কোনো চমক দেখাচ্ছেন তিনি। কখনো নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। আবার কখনো রোগীর বাড়িতে ডাক্তার পাঠিয়ে আলোচনায় আসছেন।

এই করোনাকালে ডাক্তারদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রথম সেফটি চেম্বার করে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ করেন। এবার নেতা-কর্মীদের প্রতি ভালোবাসার একটি অনন্য নজির স্থাপন করলেন মাশরাফি। আর একদিন বাদেই ঈদুল ফিতর। আর এই দুঃসময়ে ঈদের আগে নিজ জেলা নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার ছাত্রলীগের অন্তর্গত প্রতিটি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নড়াইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মা’দের জন্য ভালোবাসা পাঠিয়েছেন সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শুধু তাই না নিজের মা’র জন্য যে শাড়ি কিনেছেন ঠিক একই সময় ছাত্রলীগের নেতাদের মা’দের জন্য একই রকম শাড়ি কিনে পাঠয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতার মা এর হাতে মাশরাফির উপহার পৌঁছে গেছে।

এবিষয়ে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৌমেন বসু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সংসদ সদস্য মাশরাফি বলেছেন ছাত্রলীগের নেতারা তো কোনো চাকরি করেন না, তাই ঈদের আগে তাদের মায়ের জন্য এমপি সাহেব ‘মায়ের জন্য ভালোবাসা’ সম্বিলিত প্যাকেট পাঠিয়েছেন। আমরা সেগুলো সকল ইউনিটের সভাপতি-সেক্রেটারির মা এর হাতে পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নিজে এই শাড়ি কিনে পাঠিয়েছেন। তার মায়ের জন্য যে শাড়ি কিনেছেন একই শাড়ি আমাদের মায়েদের জন্যও পাঠিয়েছেন। এই উপহার পেয়ে সকলেই অনেক খুশি।

তিনি আরও বলেন, মায়েদের সম্মানে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি পাঠিয়েছেন। আমি নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে যখনই পূজা আসতো মাকে একটি শাড়ি উপহার দেওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকতাম, তবে বেশির ভাগ সময়ই দিতে পারতাম না।

শুধু আমি নই, ঈদ বা পূজার সময় আমার মতো প্রত্যেকেই ব্যাকুল থাকে মাকে কিছু দেবার জন্য। সত্যি বলতে কি সবাই ভাবে ছাত্রলীগ করলে মনে হয় কি না কি পাওয়া যায়! সত্যি কথা হলো ৯৯ শতাংশ ছাত্রলীগ করা ছেলেরাই বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে রাজনীতি করে। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি করে যায়।

সৌমেন বসু বলেন, এমপি সাহেব মায়ের জন্য সুন্দর একটি শাড়ি পাঠিয়েছেন যা শুনে বুকটা ভরে যাচ্ছে। আমাদের সময়ে যদি এমনটি হতো, তাহলে আমাদের মায়েরা যেমন খুশি হতেন, তেমনি আমাদের কর্মীরাও অনেক খুশি হতেন।

হয়তো বা ছাত্রলীগের কর্মী বাহিনী বিশাল তাই একজনের দ্বারা একসময়ে সবার পাশে দাঁড়ানো কঠিন। আমাদের এমপি শিল্পপতি নয়। আমরা আশা রাখি পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগের সকল নেতা-কর্মীদের মায়েদের এভাবে সম্মানিত করা হবে।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মায়েদের এভাবে সম্মানিত করায় নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি মাশরাফি বিন মুর্তজা এমপি’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জয়দেব নন্দী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, কি এক আঁধারের ভিতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি! সেই আঁধারের দেয়াল ভাঙতে জীবন-যৌবন উজাড় করে দিয়ে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ পাবি’- ব্রত জ্ঞান করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশের অসহায় মানুষের পাশে থেকে দিনরাত কাজ করে চলেছে। দেশব্যাপী ছাত্রলীগ এর এসব নেতাকর্মীরা নিজের পরিবারের দিকে হয়তো ওইভাবে খোঁজ রাখতে পারছে না। যে ছেলে বা মেয়েগুলো মায়ের জমানো টাকা নিয়ে মানুষের জন্য আজ জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছে। সেই ছেলে বা মেয়েগুলোর মায়েদের খোঁজ নিলেন, মাকে সম্মানিত করলেন আমাদের (সারাজীবনের) ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা এমপি। স্থান: নড়াইল-লোহাগড়া।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে মাশরাফি তার নিজ এলাকায় করোনা মোকাবিলায় নানাবিধ মানুষ-বান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here