চৌগাছার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ

0
112

চৌগাছা প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নামে দূর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধাসহ পাচজন স্থানীয় ব্যক্তি।
১৯ মে মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাকিমপুরের মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জিল্লুর রহমান, ওমর আলী, মকছেদ আলী ও আমিনুর রহমান লাল্টু নামে পাচজন স্থানীয় বাসিন্দা স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগটি জমা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রবিউল ইসলাম মৃধা পরপর ৪বার রয়েছেন। তিনি ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক পদে আশরাফুল ইসলামকে নিয়োগ দেন। এরপর তারা দুজন স্কুলের সকল সুবিধা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে সভাপতি ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে ১০ লাখ টাকা অর্থ বাণিজ্য করেছেন। একই বছর (২০১৯ সালের জুলাই) স্কুলে তৌহিদুজ্জামান নামে একজনকে অফিস সহকারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পেতে সভাপতিকে দিতে হয়েছে নগদ ৭ লক্ষ টাকা। যা তিনি তার শ্বশুরবাড়ি মহেশপুর থেকে জমি বিক্রি করে দেন। নিয়োগের আগ মুহূর্তে সভাপতি তৌহিদুজ্জামানের নিকট আরো টাকা দাবী করেন। নগদ টাকা দিতে না পেরে তৌহিদুজ্জামান তার দাদা মাজিদ খানের নামে থাকা ২৮ শতক জমি সভাপতির মেয়ে গুলফা পারভিন মুক্তির নামে রেজিষ্টি করে দিতে বাধ্য হন। গুলফা পারভিন মুক্তি হাকিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। এছাড়া সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান ও আফরোজা নামে আরো দুজনকে নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান নিরাপত্তাকর্মী এবং আফরোজা খাতুন পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
তাদের অভিযোগ সভাপতির দূর্নীতির কারনে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চারজন অভিভাবক সদস্য নাজমুল হুসাইন, আব্দুল কাদের, সরোয়ার হোসেন খান ও আমিনুর রহমান পদত্যাগ করেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে দুজনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে অন্য দুজনকে রেখে দেন এবং সভাপতির নিজের লোক হিসেবে দুজন নতুন অভিভাবক সদস্য সংগ্রহ করেন। যাদের একজন স্কুলে সভাপতি ও প্রধান শিকের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অফিস সহকারী তৌহিদুজ্জামানের পিতা মনিরুজ্জামান পলাশ। যার কন্যা ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। অথচ নিয়মানুযায়ী ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন না।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা যা অভিযোগ করেছি যথাযথ কর্তৃপ তদন্ত করলে তবে অবশ্যই সত্যতা মিলবে।
অভিযোগকারী জিল্লুর রহমান বলেন আমাদের সকল অভিযোগ সঠিক। সভাপতি উপজেলার শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতাদের দোহাই দিয়ে আমাদেরকে দমিয়ে রাখেন।
হাকিমপুর গ্রামের অধিবাসী ও চৌগাছা পৌর এলাকার একটি স্বনামধন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক ও সভাপতি দুজন নিজেদের দূর্নীতি ঢাকতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে ইউনিয়নরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেন। যাদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিও আছেন। এমনকি আমাকেও দশ হাজার টাকা দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। চার জন অভিভাবক সদস্য পদত্যাগ করেননি। দুজন অভিভাবক সদস্য নাজমুল আলম ও আব্দুল কাদের পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও যশোর শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করি। এবং শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে মুকুল হোসেন, মনিরুজ্জামান পলাশ নামে দুজনকে নিয়ম মেনে অভিভাবক সদস্য হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করি। ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক তো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হতে পারেননা প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আমার নামে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। তার মেয়ে স্কুলে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারি তৌহিদুজ্জামানের দাদার কাছ থেকে ওই জমি (২৮ শতক) কিনেছেন বলে দাবি করেন। এতো মানুষ থাকতে অফিস সহকারির দাদার জমিই আপনার মেয়ে কেনো কিনলেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কেনো কিনলে অসুবিধা কি?
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here