বিপ্লবী হো চি মিন স্মরণে

0
150
বিপ্লবী হো চি মিন স্মরণে
মহান বিপ্লবী হো চি মিন,
আজ ১৯ মে –
এই বিপ্লবী নেতার জন্মদিন,
এক নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর বেড়ে উঠা,
কিশোর সময় পর্যন্ত কিছু পড়ালেখার পর
অভাবের তাড়নায় অল্প বয়সে –
জাহাজের রন্ধনশালায় বয় এর চাকরি নিয়ে-
মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ঘুরে-
মার্কিনে কৃষ্ণাঙ্গদের সংস্পর্শে এসে-
তাদের প্রতি বর্ণবৈষম্য আচরণ,
কৃষ্ণাঙ্গদের শোষণ নিপীড়ন এবং
ব্রিটেনে শোষিত নিপীড়িত শ্রমিকশ্রেণীর বাস্তব অবস্থা
তাঁকে প্রভাবিত করে।
পরে ফ্রান্সে এসে বসবাস এবং
প্যারিসে ছবির দোকানে কর্মচারী,
এরমধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
আমৃত্যু সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে
সশস্ত্র লড়াই সংগ্রাম-এর মহানায়ক,
ভিয়েতনাম বিপ্লবের নেতা ও শিক্ষক,
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হয়েও-
যাঁর কুড়ের ঘরে বসবাস,
রবারের চটিজুতা পায়ে দেয়া
সাধারণ জামাকাপড় পরিধান করে
জীবন অতিবাহিত করা
সেই বিপ্লবী মহানায়ক কমরেড হো চি মিন।
ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি,
ভিয়েতনাম ও বিশ্বের কমিউনিস্ট,
মেহনতি মানুষের বন্ধু নেতা শিক্ষক-
কমরেড হো চি মিন ১৮৯০ সালে ১৯ মে ভিয়েতনামের আন প্রদেশের হোয়াংচু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব, মার্কসবাদ-
সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশ সম্পর্কে লেনিনের বক্তব্য
হো চি মিন- কে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে।১৯২০ সালে তিনি কমিউনিস্ট রাজনীতিতে জড়িত হন।১৯২০ সালে ৩০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির ১ম কংগ্রেসে কমরেড হো চি মিন ভিয়েতনামের –
১ম কমিউনিস্ট হিসাবে কংগ্রেসে যোগ দেন।
১৯২৩ সালে কমরেড হো চি মিন রাশিয়া যান।
সেখানে অনুষ্ঠিত কৃষক আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে
তিনি অংশ নিয়ে উপনিবেশিক দেশগুলিতে-
কৃষকের মধ্যে কমিউনিস্ট সংগঠন গড়ার
কর্মপন্থা নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৪ সালে হো চি মিন চীনের ক্যাণ্টনে যান।
ক্যাণ্টনে ১৯২৫ সালের জুন মাসে-
হো চি মিন সহ অন্যান্য বিপ্লবীরা গড়ে তোলেন ‘ভিয়েতনাম রেভুলেশনারী এসোসিয়েশন’।
এই সংগঠনের সদস্যরা কমিউনিজম প্রচার করার জন্য ‘যান নিয়েন’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
১৯২৭ সালে কমরেড হো চি মিন এর লেখা-
বিখ্যাত বই ‘ বিপ্লবী পথ’ প্রকাশিত হয়।
বইটিতে তিনি বলেন যে, শক্তিশালী শত্রুকে
পরাজিত করতে হলে দুটি কাজ করতে হবে-
একটি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ আয়ত্ত করা,
অন্যটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা।
তাঁর মত হলো- মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে
মতাদর্শিক ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করে,
এবং এই বিপ্লবী তত্ত্বকে ভিয়েতনামের বাস্তব অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিপ্লবী তত্ত্ব ও বিপ্লবী কৌশলের
সমন্বয় করে বিপ্লবী কর্মসূচি নির্ধারণ,
প্রয়োগ লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া,
তিনি মনে করতেন বিপ্লব যতটা-
বাহ্যিক পরিবর্তনের সংগ্রাম,
তার চেয়েও বেশি হতে হবে
মনোজগৎ পরিবর্তনের সংগ্রাম,
প্রত্যেক কমিউনিস্ট আত্মিক ভাবেও
কমিউনিস্ট হতে হবে।
কমরেড হো চি মিন অনুন্নত কৃষি প্রধান
উপনিবেশিক দেশের শাসিত শোষিত নিপীড়িত জাতি জনগণের মুক্তির প্রশ্নে ভিয়েতনামের বস্তব অবস্থার বিশ্লেষণে বিপ্লবী নীতি ও কৌশল সূত্রায়ন করে
প্রয়োগ ও বিপ্লবের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ কায়েমে সফলতা অর্জন করেন।
হো চি মিন এর অনুপস্থিতিতে-
১৯২৯ সালের ১১ নবেম্বর ফ্রান্সের নির্দেশে ভিয়েতনামের ইম্পেরিয়াল কোর্ট হো চি মিন সহ
৭ জন দেশপ্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড রায় দেন।
সেসময় ভিয়েতনামের-
কমিউনিস্টদের মধ্যে মতভেদ চলছিল।
তখন কমিনটার্ন হো চি মিন – কে একটি ঐক্যবদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি করার জন্য দায়িত্ব দেন।
হো চি মিন এর নেতৃত্বে হংকংয়ের কাউলুনে
১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গঠিত হয়
ঐক্যবদ্ধ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। ভিয়েতনামের সাথে লাওস,কম্বোডিয়ার
কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বেগবান করতে
পার্টির নাম বদলে রাখা হলো-
ইন্দোচিন-কমিউনিস্ট পার্টি।
হো চি মিন রচিত পার্টির কর্মসূচিতে বলা হয়- ভিয়েতনামে নতুন ধরনের বিপ্লব হবে,
এই বিপ্লবের নাম জাতীয় জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব।
এর নেতৃত্ব দিবে শ্রমিক শ্রেণী।
লক্ষ্য হবে উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদের উচ্ছেদ এবং জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন, কৃষকের মধ্যে জমির বণ্টন।
১৯৩১ সালে হো চি মিন গ্রেফতার হন।
হংকং থেকে তাঁকে ফরাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়, ফরাসীরা তাঁকে ভিয়েতনামে পাঠান।
এখান থেকে মুক্তি পেয়ে হো চি মিন সাংহাই চলে যান, সেখানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংযোগ হয়।পরে তিনি সাংহাই থেকে মস্কো যান এবং১৯৩৫ সালের জুলাইতে কুমিন্টার্নের ৭ম কংগ্রেসে তিনি অংশ নেন।এই কংগ্রেসে ইন্দোচীন কমিউনিস্ট পার্টিকে
প্রথম স্বীকৃতি দেয়া হয়।
১৯৩০ সালে ইন্দোচীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার সময় গৃহীত রাজনৈতিক দলিলে সাম্রাজ্যবাদ – সামন্তবাদ বিরোধী দ্বন্দ্ব প্রধান সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধ অবস্থা, ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের-
শোষণ নিপীড়ন অতিমাত্রায় বাড়ায় এবং
জাপ- সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী ভূমিকার কারণে
১৯৩৯ সালে পূর্বের ( ১৯৩০ সালে পার্টির সিদ্ধান্ত) সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে ভিয়েতনামের
জনগণের সাথে সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব-
জাতীয় দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব হিসাবে গ্রহণ করেন।
তখন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিশ্বাসঘাতকদের প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
১৯৪১ সালে কমিউনিস্ট পার্টি সশস্ত্র অভ্যুত্থানের দ্বারা বিপ্লব ও ক্ষমতা দখলের সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৪২ সালে চিয়াং-বাহিনী হো চি মিন-কে গ্রেপ্তার করে,
একবছরের বেশি সময় পর তিনি ছাড়া পান।ভিয়েতনামে জাপ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যুদ্ধে
কমরেড হো চি মিন এর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি, শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ এবং বুর্জোয়া, ধনী- কৃষকদের নিয়া গঠিত যুক্তফ্রন্ট ও
হো চি মিন এর যুক্তফ্রন্ট তত্ত্ব সঠিক প্রয়োগ ও কার্যকর করে ১৯৪৫ সালে অগাস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাপ- সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করে এবং
গঠিত হয় ভিয়েতনাম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র।
এরপর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী-
লড়াই সংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
১৯৫৪ সালে ৭মে হো চি মিন ও
কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ভিয়েতনামের
বিপ্লবী বাহিনী ও জনগণ ফরাসী সাম্রাজ্যবাদ ও
তার বাহিনীকে পরাজিত করে উত্তর ভিয়েতনামে বিপ্লব সম্পন্ন ও স্বাধীনতা অর্জন করেন।
এখানেই থেমে নেই, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে দক্ষিণ ভিয়েতনাম মুক্ত করার জন্য –
হো চি মিন এর নেতৃত্বে –
ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি, ফ্রন্ট, বিপ্লবী বাহিনী জনগণ সশস্ত্র লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নৃশংসভাবে ভিয়েতনামের জনগণকে হত্যা, পাশবিক অত্যাচার, জনগণের সম্পদ ধ্বংশ করে,
ভিয়েতনামে উপনিবেশিক শাসন শোষণ লুণ্ঠন নিপীড়ন বলবত রাখতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ
ভিয়েতনামে ৭৮৫ মিলিয়ন টন বোমা নিক্ষেপ করেছিল, যা হিরোশিমায় ফেলা এ্যাটম বোমার ৩৫০ গুণ।
এরফলে দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ অন্তত একবার হলেও বোমায় আক্রান্ত হয়েছেন,
৮০ ভীষণ ভাবে বোমায় বিধ্বস্ত হয়েছেন,
আর ২৬ ভাগ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছেন।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ৭৫ মিলিয়ন লিটার রসায়নিক অস্র ভিয়েতনামের জনগণের উপর প্রয়োগ করেছিল।আজও ভিয়েতনামের জনগণ-
শিশুরা একারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
অনেক শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিচ্ছে।
হো চি মিন এর মৃত্যুর পর তাঁর বিপ্লবী পথ ধরেই ভিয়েতনামের ওয়ার্কার্স পার্টি, ফ্রন্ট ও বিপ্লবী বাহিনী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে পারাজিত করে
দক্ষিন ভিয়েতনাম মুক্ত ও বিপ্লব সম্পন্ন করে ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনামে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।
কমরেড হো চি মিন একজন সত্যিকারের কমিউনিস্ট – মার্কসবাদী -লেনিনবাদী হিসাবে তাঁর চিন্তা চেতনাকে ভিয়েতনামের বাস্তব অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিচার বিশ্লেষণ, রণনীতি রণকৌশল নির্ধারণ করে প্রয়োগ ও সফলতা অর্জন করেন।
তিনি বিপ্লবী তত্ত্ব, পার্টি গঠন,পার্টির ভামিকা, নেতৃত্ব, নেতৃত্বের সাথে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব দিয়েছেন।তিনি মনে করতেন স্বল্প শ্রমিকের দেশে বিপ্লবী বিকাশে দুটি শর্ত পালন অপরিহার্য – তা হলো প্রলেতারিয়েতকরণ বিপ্লবীকরণ।
তাঁর বিপ্লবী আদর্শ ও কার্যক্রমের মূল কথা হলো-
তত্ত্ব ও কর্মের সমন্বয়।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন-
বিপ্লব ও বিপ্লবী জীবনের বাহ্যিক দিকে
যতটা সংগ্রামী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়,
তার চাইতেও বেশি থাকতে হবে
মননজগতের সংগ্রামী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া,
একজন কমিউনিস্ট অন্তর থেকে কতটুকু কমিউনিস্ট, কতটুকু বিপ্লবী তা অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
তাছাড়া তিনি শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি-
কমিউনিস্ট পার্টিকে একটি সুদৃঢ় বিপ্লবী
কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপ দিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। তাঁর মতে – কমিউনিস্ট পার্টিকে নামসর্বস্ব না রেখে শক্তিশালী বিপ্লবী পার্টিতে পরিনত করতে হবে।
তা না হলে জনগণকে নিয়ে –
কার্যকর যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হবেনা।
কমিউনিস্ট পার্টিকে সঠিক লাইন নেয়ার মত
যোগ্যতা আর্জন করতে হবে এবং
সেই লাইন কার্যকর করার মত
মজবুত সংগঠন থাকতে হবে।
তা না হল বিপ্লবে সফল হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও
তাদের দালালদের আতঙ্ক।
বিশ্বের মেহনতি মানুষ ও
নিপীড়িত জনগণের মহান নেতা ও শিক্ষক।
এই মহান বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা
১৯৬৯ সালে ২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত ভিয়েতনাম
পৃথিবীতে মানবিক ও গণমানুষের রাষ্ট্রকে হিসাবে
মানুষের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা-
৫ টি মৌলিক সমস্যা সমাধান করতে পেরেছে।
বিশেষত আজকের করোনাযুদ্ধের সময়
পুঁজিবাদী -সাম্রাজ্যবাদীরা-
করোনা তাণ্ডবে আজ দিশেহারা,
মহামারি করোনাভাইরাস
পুঁজিবাদী- সাম্রাজ্যবাদীদের লণ্ডভণ্ড করছে।
যেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-
বিশ্বেরদেশে দেশে দেশে নয়া উপনিবেশিক
শোষণ লুণ্ঠন নিপীড়ন চালাচ্ছে,
শুধু তই নয় – ভিয়েতনাম,
ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান সহ
অনেক দেশ সৈন্য পাঠিয়ে ঐসব দেশের
অর্থ-রাজনীতি- সমাজব্যবস্থাকে তচনচ করেছে।
কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধে ফ্রান্স, জাপান,
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ চরম পরাজয় বরণ করে।
এখনও বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ললুণ্ঠন নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
এত অস্ত্র অর্থ ক্ষমতা সব যেন
করোনার কাছে হার মানছে।
সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে-
এপর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ লাখ ১ হাজার,
বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭১ জন।
শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এপর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে-
১৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৮ জন,
যুক্তরাষ্ট্র এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে –
৯০ হাজার ৯৭৮ জন।
অথচ ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে
ভিয়েতনামযুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের
৫৮ হাজার ২২০ জন হানাদারসৈন্য নিহত হয়।
আজকে করোনাযুদ্ধে তাদের প্রাণহানি লাখ ছুঁইছুঁই,।
করোনাযুদ্ধে অন্যান্য পুঁজিবাদী- সাম্রাজ্যবাদীরাও
লোকক্ষয় থামাতে পারছেনা।
তাদের অর্থ-রাজনীতি- সমাজব্যবস্থা
আজ হুমকির মুখে,
অথচ কমিউনিস্ট শাসিত দেশ-
ভিয়েতনাম, চীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া,
এসব কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলো-
নভেল করোনাভাইরাসকে-
প্রতিরোধ করতে পেরেছে।
৯ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার ভিয়েতনাম,
এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩১২ জন,
মৃত্যু শূন্য, ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছে ২৬০ জন।
ভিয়েতনামের জনগণ করোনাযুদ্ধে
অভাববোধ করছেনা,
ন্যায্য অধিকার হিসাবে সব মৌলিক সমস্যাই
রাষ্ট্র সমাধান করছে,
চীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়াতে
জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে।
এই দুর্যোগময় অবস্থায় প্রতীয়মান হচ্ছে
পুজিবাদ নয়,
জনগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদই
বিশ্ব গণমানুষের জন্য নিরাপদ
গণমুক্তির টিকসই ব্যবস্থা।
যাঁদের মেধা শ্রম সংগ্রাম বিপ্লবী নেতৃত্বে
কমিউনিজম গণমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য –
তাঁরা হলেন মহামতি মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন,
স্তালিন, মাও সেতুং,
তাঁদের সাথে আরেকটি নাম –
অবশ্যই প্রধান্য দিয়ে স্মরণ করতে হয় –
তিনি হলেন বিপ্লবের মহানায়ক কমরেড হো চি মিন।
যতদিন বিশ্ব থাকবে, মানুষ থাকবে,
শ্রেণী শোষণ, শ্রেণী বৈষম্য, ধনী গরীব থাকবে
ততদিন শ্রেণী দ্বন্দ্ব, শ্রেণী সংগ্রামও চলবে।
বিশ্বের মেহনতি মানুষ, নিপীড়িত জনতা
নিজেদের প্রয়োজনেই লড়াই সংগ্রাম ও
বিপ্লবের প্রতীক কমরেড হো চি মিন কে –
আদর্শিক নেতা ও শিক্ষক হিসাবে স্মরণ করবে।
শোষণ মুক্ত সমাজ- জনগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র,
সাম্যবাদ কায়েমের লড়াই সংগ্রাম ও বিপ্লবের আদর্শিক শিক্ষক ও নেতা মহান হো চি মিন-
বিশ্বের শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ ও
সাম্যবাদীদের মাঝেঅমর হয়ে থাকবেন।
কমরেড হো চি মিন এর জন্মদিবস উপলক্ষে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও লাল সালম।
এই পোস্ট লিখতে শ্রদ্ধেয় কমরেড আবদুশ শহীদ এর লেখা বই ‘মেকং থেকে মেঘনা’ থেকে সহযোগীতা নেয়া হয়েছে।
-মহি উদ্দিন মহিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here