যশোরের পল্লীতে চিঠি দিয়ে ২লাখ টাকা চাঁদাদাবি, টাকা নিতে এসে এক গ্রেফতার, স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি

0
144

এম আর রকি : একটি সংঘবদ্ধ চক্র সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বানিয়াবহু গ্রামের এক বাড়ির বারান্দায় ২লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে চিঠি দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়েছে। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় কৌশলে চাঁদা দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে মহসিন নামে এক চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সে সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বাগেরহাট (তেতুলিয়া) গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে। মহসিন শুক্রবার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আকরাম হোসেনের আদালতে অপরাধ স্বেচ্ছায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউপি বানিয়াবহু গ্রামের মা মঞ্জিল বাড়ির আজিজুল হকের ছেলে ট্রাক ড্রাইভার ফারুক হোসেন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালি মডেল থানায় ৫ আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হচ্ছে, সদর উপজেলার বাগেরহাট তেতুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদার ওরফে মন্টুর ছেলে বিপ্লব হোসেন, একই এলাকার মৃত আতর আলীর ছেলে মহসিন, মৃত গোপালের ছেলে আহাদুল ইসলাম, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া খালধার রোড কদমতলার নুরুল হক ওরফে রুবেল ও খালধার রোড কদমতলার বিল্লাল ওরফে লগা বিল্লাল, ওরফে লম্বা বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন।
ট্রাক ড্রাইভার ফারুক হোসেন দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, তার পিতা আজিজুল হক একজন সরকারী চাকুরীজীবী ড্রাইভার বর্তমানে সে অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়িতে আছেন। গত ১১ মে রাত সাড়ে ৮ টায় ফারুক হোসেন সাতক্ষীরা কলারোয়ায় অবস্থান করাকালে মোবাইল ফোনে জানতে পারেন, তাদের বানিয়াবহু গ্রামের বাড়ির বারান্দায় অজ্ঞাতনামা ২জন ব্যক্তি একটি হাত চিঠি ফেলে গেছে। চিঠিতে জীবননাশের হুমকী ও এলাকা ছাড়া করার ভয়ভীতিসহ ২লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চিঠিতে দুস্কৃতিকারীদের মোবাইল নাম্বার দেওয়াসহ চিঠিতে বলা হয়েছে চিঠি পাওয়ার ২০/৩০ মিনিট পরে ফোন দেওয়ার জন্য বলে। বিষয়টি আজিজুল হক তার ভাইপো ইউসুফকে অবগত করে। ওই দিন ইউসুফ রাত ১০ টায় মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় জানতে চায়। তারা পরিচয় না দিয়ে ২লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকী দেয়। টাকা কোথায় কিভাবে দিতে হবে জানতে চাইলে তারা তেতুলিয়া গ্রামের রুদ্রপুর সাড়াপোল গামী পাকা রাস্তার দক্ষিন পার্শ্বে জনৈক অবসর প্রাপ্ত মেজর সালাউদ্দিনের ড্রাগন ফল বাগানের আশ পাশে দিতে বলে।
বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানালে ডিবি ১৩ মে থেকে ওৎপেতে দুস্কৃতিকারীদের ধরার চেষ্টা করে। ১৪ মে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯ টায় ২ মোটর সাইকেল যোগে ৪/৫ জন দুস্কৃতিকারী উক্ত এলাকা থেকে চাঁদা নিতে আসে। সেখানে ওৎপেতে থাকা ডিবি’র একটি টিম চাঁদাবাজ গ্রামের সক্রিয় সদস্য মহসিনকে গ্রেফতার করে। বাকীরা দ্রুত তেতুলিয়া গ্রামের দিকে চলে যায়। মহসিন গ্রেফতার হওয়ার পর তার সাথে কারা জড়িত তাকে নাম প্রকাশ করে দেয়। ডিবি পুলিশ শুক্রবার মহসিনকে উক্ত মামলায় আদালতে সোপর্দ করলে মহসিন বিজ্ঞ বিচারকের সামনে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here