Home আলোচিত মৃত্যুর খবর না পড়লে বা না দেখলে খবর জমেনা, ম্যাড়মেড়ে মনে হয়

মৃত্যুর খবর না পড়লে বা না দেখলে খবর জমেনা, ম্যাড়মেড়ে মনে হয়

0
80
ইফতেকার আহমেদ বাবু: মৃত্যুর খবর না পড়লে বা না দেখলে খবর জমেনা, ম্যাড়মেড়ে মনে হয় ৷ কিসের যেন অপূর্ণতা থেকে গেল মনে হয়। আসলে মানবিক মূল্যবোধগুলোর দরজা ক্রমেই বন্ধ হয়ে আসছে ৷ তাই মৃত্যু , দুর্ঘটনা , যুদ্ধ কোনকিছুই মনে দাগ কাটেনা ৷ তাই এক জনের মৃত্যুর খবর দেখে সংবাদটাও পড়িনা ৷
প্রতিবেশী দেশটির দুটি ঘটনা মনকে নাড়া দিয়েছে ভীষনভাবে ৷
শ্রমজীবীদের ট্রেনে কাটাপড়া, আর গ্যাস লিকেজের যন্ত্রনায় অসহায় মৃত্যু দুটোই অবহেলা জনিত হত্যাকান্ড মনে করি।
(১) ২০ জন শ্রমিক ইস্পাত কারখানায় কাজ করতেন। লকডাউনে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ‘৪৫ দিন ধরে কাজ নেই। শেষ কবে দু’বেলা পেট ভরে খাবার জুটেছে মনে পড়ে না।’ ‘শুক্রবার ঔরঙ্গাবাদ থেকে মধ্যপ্রদেশ যাওয়ার স্পেশ্যাল ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ধীরেন্দ্র সিং এর ভাষ্য ‘এক সপ্তাহ আগে ই-পাসের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। জবাব পাননি এজন্য আর অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না তাঁরা। মরিয়া হয়েই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঔরঙ্গাবাদের দিকে হাঁটা লাগিয়েছিলেন। ধীরেন্দ্র ও তাঁর সঙ্গীদের ধারণা ছিল, শুক্রবারের মধ্যে ঔরঙ্গাবাদে পৌঁছতে পারলে ওই ট্রেনে ঠিক বাড়ি ফিরতে পারবেন। রাস্তায় পুলিশ চেকিং, ধরা পড়ার ভয়ে রেললাইন ধরেই হাঁটা লাগিয়েছিলেন। সম্বল বলতে ১৫০টা রুটি আর একটু চাটনি! সারা রাত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন সকলে। …একটু জিরিয়ে নিয়ে ফের শুরু করবেন হাঁটা। .. ও .. স্টেশনের মাঝে রেললাইনের উপর বসে পড়েন তাঁরা। ঝোপঝাড়ে সাপ-খোপ থাকতে পারে ভেবেই রেললাইনের উঁচু জমিতে বসেছিলেন সকলে, ভেবেছিলেন … যাত্রিবাহী ট্রেন তো চলছে না, ফলে ভাবনা নেই। ভোরের দিকে ক্লান্তিতে চোখ লেগে এসেছিল। ট্রেনের শব্দ শুনে তাঁরা লাইন থেকে সরে আসেন, বাকিদেরও চিৎকার করে সজাগ করার চেষ্টা করেন। একদিকে সঙ্গীদের চিৎকার, অন্যদিকে ট্রেনের হর্ন– সব মিলিয়ে হতভম্ব শ্রমিকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের পিষে দিয়ে বেরিয়ে যায় ট্রেন ।
(২) বিশাখাপত্তনম-এ কারখানা কর্তৃপক্ষের অপরাধমূলক অবহেলায়, বিষাক্ত স্টাইরিন গ্যাস লিক করে এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু ৷ (পুরো বিষয়টার নিউজ লিঙ্ক দেয়া হল)
এই উপমহাদেশের শ্রমজীবী তথা গণমানুষের তথাকথিত উন্নয়নের গল্পগুলো একই রকম ৷ গার্মেন্টস শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে ঢাকায় আসার চিত্রটির সাথে ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনে কাটা পড়ার ঘটনার কোন অমিল নেই ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here