১০ দফা দাবীতে মাগুরা জেলা গণকমিটি’র সংবাদ সম্মেলন

0
77

সত্যপাঠ রিপোর্ট : মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণ কমিটি ১০ দফা দাবিতে শনিবার সকাল ১১টায় মাগুরা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত কফি হাউসে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণকমিটির আহ্বায়ক কাজী ফিরোজ (বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী মাগুরা জেলা আহ্বায়ক) ও পরিচালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব শম্পা বসু (বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য)। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলী (বাংলাদেশ জাসদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি), সদস্য সচিব এটিএম আনিসুর রহমান (সিপিবি সদর উপজেলা সভাপতি) ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামরুজ্জামান চপল। উপস্থিত ছিলেন মো. সোহেল (সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর শহর কমিটির আহ্বায়ক) প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি ত্রাণের অপ্রতুলতা ও বিতরণে অসংগতি তুলে ধরা হয়।
এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সর্বশেষ আদম শুমারী অনুযায়ী মাগুরা জেলায় ৯ লাখ মানুষ বসবাস করে। দেশের যে ৭টি জেলার জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি দরিদ্র তার মধ্যে অন্যতম মাগুরা জেলা। অর্থাৎ এই জেলার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ খুব গরীব।করোনা দুর্যোগে ২৮ মার্চ ও ৩০ মার্চ সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। মাগুরা জেলার জন্য চাল বরাদ্দ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩১০ মেট্রিক টন ও ৭৫ মেট্রিক টন এবং নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যথাক্রমে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ লাখ টাকা। তার মানে মাগুরা জেলায় সরকারি ভাবে মোট চাল বরাদ্দ হয়েছে ৩৮৫ মেট্রিক টন এবং মোট নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০টাকা। অর্থাৎ মাগুরা জেলার একজন দরিদ্র মানুষের জন্য নগদ ২ টাকা ৭৮ পয়সা ও ৮৬৯ গ্রাম চাল বরাদ্দ করা হয়েছে !?’– এই অবস্থা থেকে বোঝা যায় সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ ভীষণ রকম ভাবে কম।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে যেয়ে গণকমিটির সদস্যরা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে তারও একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়-
৯ নং ওয়ার্ডের জজ কোর্ট পাড়া ৬২ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৩৫ টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।৮ নং ওয়ার্ডের সর্দার পাড়ার ২৯ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ২২ টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।৩ নং ওয়ার্ডের বেলে মাঠ পাড়ার ৩১ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ২৬টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি। ৪ নং ওয়ার্ডের পিটিআই পাড়া (আংশিক) ৭ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে কোন পরিবারই বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।
অর্থাৎ হতদরিদ্রের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বিশেষ ওএমএস কার্ড পান নি। তবে কার্ড পাওয়ার বিষয়ে তাদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে । নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলে ধরেন, ‘দেড় মাসেও তারা কার্ড পেলেন না, কবে পাবেন?’
কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী হতদরিদ্র, তারপর দরিদ্র, তারপর নিম্নবিত্ত এভাবে দেওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু কার্ড বিতরণ করছেন মেম্বার বা কাউন্সিলরগণ, ফলে দলীয়করণের অভিযোগ থেকে যাচ্ছে।
বেশির ভাগ পরিবার একবার সরকারি ত্রাণ ( ৫ কেজি চাল, ১কেজি ডাল, ১ কেজি আলু, হাফ লিটার তেল, লবন) পেয়েছে। ৩/৪ দিনের বেশি একটি পরিবারের চলবে না ।জজ কোর্ট পাড়ায় পরিবারগুলো এই ত্রাণের বাইরে আরেকবার সরকারি ত্রাণ পেয়েছে (৭ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু)।
পুরো মাগুরা জেলার চিত্রই এরকম। কিন্তু মাগুরা জেলার সরকারি প্রতিনিধিরা বলছেন , ‘ত্রাণের এবং মানুষের খাদ্যের কোন অভাব নেই। মাগুরায় কোন কিছুর কোন সমস্যা নেই।’ নীতি নির্ধারকদের এমন মনোভাবের কারণে মাগুরার দরিদ্র মানুষেরা আরও বেশি সংকটে পড়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণকমিটির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি করা হয়। দাবিগুলো হলো-
১. ত্রাণ সামগ্রীর পরিমাণ বৃদ্ধি, ত্রাণ বিতরণের জন গ্রহীতার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
২. ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম,দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। করোনা দূরযোগ মোকাবেলায় দলীয়করণ বাদ দিয়ে সরবদলীয় গণকমিটি গঠন করতে হবে।
৩. দরিদ্র নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত, করমোহীন শ্রমজীবী প্রতিটি পরিবারকে একটি ও এম এস কারড্্প্রদান করতে হবে।
৪. দরিদ্র নিম্নবিত্ত,মধবিত্ত,করমহীন শ্রমজীবী পতিটি পরিবারকে ন্যুনতম ৬ মাস আরমি রেটে রেশন বরাদ্দ করতে হেবে।
৫. মাগুরা জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবিলম্বে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা আরো বাড়াতে হবে।
৬. সরকার নিরধারিত দামে সরাসরি খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে
৭. ডাক্তার,নারস,স্বাস্থ্য করমী,সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা রক্ষার কাজে নিয়োজিতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. শিক্ষা প্রতিষ্টান সচল না হওয়া পযন্ত জেলার সকল মেস ভাড়া মওকুফ করতে হবে।
৯. গরভবতী মা ও ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য, ওষুধসহ বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
১০. নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কমচারী, গৃহকমী, সেলুন কমী, হোটেল কমী, হস্তশিল্পী, স্বণকার, দর্জি শ্রমিক, পরিবহন শমিকসহ করোনা ক্ষতিগসহ পেশাজীবীদের বরাদ্দ দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here