কৃষকের কথা বলে মধ্যসত্ত্বভোগীদের কাছ থেকে ধান কেনা বন্ধ করতে হবে

0
73
। আবদুস সাত্তার ।

করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংক্রমণ বাড়তে থাকলে অর্থনীতিতে সংকট অকল্পনীয়ভাবে  বৃদ্ধি পাবে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের কৃষিখাতসহ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রয়েছে।শেষ পর‌্যন্ত এটাই একমাত্র ভারসার জায়গা। সত্যিকার অর্থে কৃষি মূলত দেশের অর্থনীতির প্রাণ। জাতীয় আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে কৃষিসহ গ্রামীণখাত থেকে। অথচ এই খাতের সাথে যুক্ত কৃষক-খেতমজুরসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ নির্মম শোষণের শিকার। লুটেরা বুর্জোয়া শ্রেণী ও সামন্তাবশেষের স্বার্থের পাহাড়াদার রাজনৈতিক দলসমূহ পালাক্রমে ক্ষমতাসীন হলেও ভূমি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেনি। খোদ কৃষকের হাতে জমি প্রদানসহ কৃষির অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। কৃষক গ্রাম্য মহাজন ও এনজিওদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কৃষি উপকরণে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করে। কিন্তু মুক্ত বাজার ও উদারীকরণের অনুসৃত নীতির ফলে ফরিয়া, মধ্যসত্ত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে কৃষকদেরকে পানির দামে ধান, পাট আলুসহ সকল কৃষি পণ্য বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়। একারণে অধিকাংশ জমির মালিক কৃষকরা কৃষি পেশা ছেড়ে দিয়েছে। এখন প্রধানত গরীব, ভূমিহীন ও বর্গা কৃষকরা কৃষি উৎপাদনে যুক্ত রয়েছেন। একাধিক গবেষণার প্রতিবেদন অনুসারে দেশের বোরো ধানের ৪৭% উৎপাদন করে ক্ষুদ্র চাষীরা। ৩৩% চাষী নগদ টাকা দিয়ে জমি লিজ নিয়ে ধান উৎপাদন করে। ২৬% কৃষক হল বর্গা চাষী। কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের দাম না পেয়ে ক্রমান্বয়ে সর্বশান্ত হয়ে ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশে এখন ভূমিহীনের সংখ্যা ৭০%। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষক ধান আলু, টমেটোসহ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে তা রাস্তায় ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। গত বছর টাঙ্গাইলের একজন কৃষক ধানের দাম না পেয়ে খেতে আগুন দেয়। কোথাও কোথাও কৃষক একই কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে। অনেকে মহাজন ও এনজিওদের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে পরিবার নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে। সরকার একান্ত বাধ্য হয়ে কৃষকদের নিকট থেকে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর সরকার ১৪ লাখ ১৮ হাজর টন ধান কিনেছে এবং মূল্য নির্ধারণ করেছিল মন প্রতি ১০৪০ টাকা।

বাংলাদেশ কৃষক খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদসহ অন্যান্য কৃষক, খেতমজুর সংগঠন ও বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার এবছর ২২ লক্ষ টান ধান ও চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকদের মধ্য থেকে লটারীর ভিত্তিতে ৮ লাখ টন ধান মণ প্রতি ১০৪০ টাকা দরে কেনা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ও আমলাদের কারসাচির ফলে অধিকাংশ কৃষকরা গোডাউনে ধান দিতে পারছে না। বরং ভূয়া কৃষক সেজে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০/৬০০ টাকায় ধান কিনে গোডাউনে দিচ্ছে। অন্যদিকে চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ধানের পরিবর্তে ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল কিনছে। তাতে সরকার ঘোষিত ধান ও চালের প্রায় ৮০ ভাগ সহরবরাহ করছে মধ্যসতত্ত্বভোগী, চাতাল মিালিক ও ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয় যে সরকার কৃষক বান্ধবব নয়। অথচ এই ২২লখ টান ধান ও চাল কৃষকদের কাছ থেকে কিনলে কৃষকরা কিছুটা লভবাসনস হত এবং কৃষির অগ্রগতিতে আরো ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হত। আমাদের সংগঠনসহ কৃষক-খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠন ন্যায়সঙ্গতভাবে দাবি করে আসছি। অকৃষক, মধ্যসত্ত্বভোগী, চাতাল মিালিক ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে কোন অবস্থায় সরকার ধান চাল ক্রয় করা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বর্তমান বোরো মৌসুম থেকে ৫০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে কিনতে হবে। এই দাবিতে কৃষক, খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষদের পক্ষে আন্দোলনকারী সকল কৃষক খেতমজুরে সংগঠরকে সোচ্চার হতে হবে। সরকারকে এই দাবি মানাতে বাধ্য করতে হবে।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশে কৃষক খেতমজুর সমিতি।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 109

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here