খাদ্য সহায়তা সহ বিভিন্ন দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন

0
148

সত্যপাঠ রিপোর্ট : মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণ কমিটি বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মাগুরা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গণকমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী মাগুরা জেলা আহ্বায়ক কাজী ফিরোজ এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব ও বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য শম্পা বসু।
এসময় বক্তব্য রাখেন গণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাসদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি এটিএম মহব্বত আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামরুজ্জামান চপল, বাংলাদেশ জাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য এ এফ এম বাহারুল হায়দার বাচ্চু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর শহর কমিটির আহ্বায়ক সোহেল।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনাভাইরাস-জনিত দুর্যোগ দিনে দিনে আরও প্রবল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৮ মার্চ, এখন ৫১তম দিবস চলছে। এই সময়কালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে অন্য দিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ চিত্র ফুটে ওঠছে এবং মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক সংকটও বেড়ে চলেছে। যেমন, মাগুরা জেলায় করোনা টেস্ট করারই কোন ব্যবস্থা নেই। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে টেস্ট হচ্ছে মাগুরা জেলার নমুনা। মাগুরা থেকে গড়ে প্রতিদিন ১০টি নমুনা পাঠানো হয় পরীক্ষা করার জন্য যা ৯ লাখ মানুষ বসবাসকারী জেলার জন্য ভীষণভাবে কম। নমুনা সংগ্রহের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাগুরা জেলায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ নেই, ভেন্টিলেটরও নেই। ফলে করোনা রোগীর চিকিৎসার প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন নেই বললেই চলে।
বক্তাগণ আরও বলেন, এছাড়া সাধারণ ছুটির ৩৩তম দিন চলছে। সাধারণ ছুটি হয়তো আরও বাড়বে।এখনই মাগুরা জেলার শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষ খাদ্য সংকটে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে যেয়ে সরেজমিন পর্যবক্ষেণ করে দেখেছি মানুষের ঘরে খাবার নেই।তিন বেলার জায়গায় দুই বেলা খাচ্ছে, তরকারি ছাড়া ফেনা ভাত খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ লকডাউন মানবে না।করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।এই মানুষেরা পর্যাপ্ত খাবারই পাচ্ছে না, পুষ্টিকর খাবার জোগাড় তো দূরের কথা।দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষেরা যেরকম ঘরে বসবাস করে তাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ করোনা মোকাবিলায় সতর্কতাগুলো পালন করা কঠিন। এক ঘরের মধ্যে অনেকে থাকে, একই রান্নাঘর, বাথরুম, টয়লেট অনেকে মিলে ব্যবহার করে।এদের একজন বা দুইজন আক্রান্ত হলে পুরো এলাকায় করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেজন্য মাগুরা জেলায় করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রয়োজন প্রস্তুতি ও সতর্কতা। এজন্য দুটি বিষয় খুব জরুরী। ১) মানুষদের কাছে খাদ্য পৌঁছানো এবং ২) মাগুরায় করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও বেশি বেশি টেস্ট করা।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, আমরা বিভিন্ন শ্রমজীবীদের বসবাসকারী এলাকায় যেয়ে দেখেছি যারা ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন সেটার পরিমানও অপর্যাপ্ত। ৫/৭ দিনের বেশি চলা সম্ভব নয়। আবার ত্রাণ বিতরণে দলীয়করণেরও অভিযোগ রয়েছে। মানববন্ধন থেকে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণ কমিটির পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-
১) ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় দলীয়করণ বাদ দিয়ে সর্বদলীয় গণকমিটি গঠন করতে হবে।
২) দরিদ্র, নিম্নবিত্ত কর্মহীন শ্রমজীবী পরিবারে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৩) মাগুরা জেলা সরকারি হাসাপাতালে অবিলম্বে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে, আইসিইউ ও কমপক্ষে ৫টি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) মণ প্রতি ১২০০টাকা মূল্যে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে।
৫) ডাক্তার নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here