‘মদপানে মৃত্যু হলেও কাছে গেলেন না আপন বড়ভাই, লাশ নিয়ে বসেছিলেন বৃদ্ধ মা’

0
186

চৌগাছা প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় বিষাক্ত মদপানে খলিলুর রহমান (৪০) ও সুবল সর্দার ওরফে রাঙি (৪৫) নামে দুই ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শরিফুল নামে একজন এখনও অসুস্থ রয়েছে। সুবল চৌগাছা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের আদিবাসীপাড়ার হরেন সর্দারের ছেলে। আর খলিল পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট হারজি গ্রামের আব্দুল মকছেদের ছেলে। সে শহরের ভাস্কর্য মোড়ের একটি টিনশেড বাড়িতে মাকে নিয়ে ভাড়া থাকতো। এ ঘটনায় অসুস্থ শরিফুল ইসলাম উপজেলার পুড়াহুদা গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার বিকাল চারটার দিকে ভাড়া বাড়িতে খলিলের মৃত্যু হয়।
আর সুবল ওরফে রাঙিকে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে চৌগাছা হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।
বিকাল চারটার দিকে খলিলের মৃত্যু হলেও পাশের বাড়িতেই থাকা তার আপন বড়ভাই জামাল উদ্দিন করোনায় মারা গেছে ভয়ে ওই বাড়ির ত্রিসীমানায় যাননি।
এ বিষয়ে তার বড় ভাই জামাল বলেন আমার ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। যেতে নিষেধ করছে। তাদের নিবৃত্ত করতে না পেরে ভাইয়ের লাশের কাছে যাইনি।
পরে সন্ধ্য ছয়টায় চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. উত্তম কুমার, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিপ্লব রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অগ্রযাত্রার আহবায়ক ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমান হাসিব, এ প্রতিবেদক নিজে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন ওই ব্যক্তির বৃদ্ধ মা লাশটি নিয়ে বসে আছেন।
পরে ডাক্তার লাশটি পর্যবেক্ষণ করে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে মতামত দিলে লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয় এবং পৌর কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও কবর রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত লাশটি গোসল দেয়ার কাউকে পাওয়া যায়না।
এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অগ্রযাত্রার স্বেচ্ছাসেবক আব্দুর রশীদ রাজু গোসল দিতে এগিয়ে আসেন।
পৌর মেয়র ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অগ্রযাত্রার সহায়তায় কবর খোড়া হয়।
এমন সময় খবর আসে ওই ব্যক্তির (খলিলুর) সাথে বসে মদ্যপান করা সুবল সর্দার ওরফে রাঙি (৪৫) মারা গেছে। তখন চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব সিদ্ধান্ত দেন দুটি লাশেরই ময়নাতদন্ত করা হবে।
নিহতের খলিলের বড়ভাই জামাল উদ্দিন ও তার মা জানান শনিবার ভোররাতের দিকে তার কয়েকবার পাতলা পায়খানা হয়। সারাদিনেও কয়েকবার পাতলা পায়খানা হয়। দুপুরে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। সুবলের বড়ভাই বলরাম সর্দার জানান তার ভাই শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চৌগাছা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে গ্যাসের চিকিৎসার জন্য ওষুধ দেয়া হয়। তার বাথরুম না হওয়া সাবোজিটরও দেয়া হয়। তাতেও কিছু হয়নি। রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবারো হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে একইসাথে মদ্যপান করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন চালক জানিয়েছেন শুক্রবার রাতে অন্য কয়েকজন ড্রাইভারদের সাথে এরা দুজনও বেশি মাত্রায় বিষাক্ত মদপান করেন। এদের মধ্যে উপজেলার পুড়াহুদা গ্রামের আরেক ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
রাতেই পুলিশ দুটি লাশের পরিবারকেই তাদের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে। রাত সাড়ে ১১ টায় পুলিশ পুড়াহুদা গ্রামের শরিফুলকে দেখতে পুড়াহুদা গ্রামে যায়।
সূত্রটি আরো জানায় সুবোল সর্দার ওরফে রাঙি ও তার ভাই বলরাম সর্দার উভয়েই এই মদের ব্যবসা করেন। তারা যশোর মাড়োয়ারি মন্দির এলাকার এক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে এই মদ ও স্পিরিট কিনে চৌগাছায় বিক্রি করে থাকেন বলেও দাবি সূত্রটির।
প্রসঙ্গত গত কয়েকদিনে যশোরের একজন বিক্রেতার কাছ থেকে মদ খেয়ে চৌগাছার দু’জনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ওই বিক্রেতা হাসানকে আটক করেছে এবং ওই দোকানের মদের স্যম্পল নিয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন দুটি লাশই ময়নাতদন্ত করা হবে। রোববার সকালেই লাশ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগে সঠিক কিছু বলা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here