নড়াইলে ত্রাণের চাল আত্মসাতের মামলায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত!

0
205

নড়াইল প্রতিনিধি : গরিব ও অসহায় নারীদের ভিজিডির ৮৫বস্তা চাল আত্মসাতের মামলায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যা (৫২) এবং করোনা ভাইরাস উপলক্ষে সরকারি ত্রাণ সহায়তার (জিআর) ২৮০কেজি চাল আত্মসাতের।
অপর এক মামলায় একই উপজেলার জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরীকে (৬০) সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) বরখাস্তের পৃথক পৃথক আদেশ জারি করা হয়েছে।
এর পূর্বে মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) ইউপি চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা এবং বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মো.মাহফুজ ইকবাল ভিন্ন ভিন্ন মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় পরিবারের নারীদের দুই বছরব্যাপী বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০কেজি করে ভিজিডি চাল প্রদান করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার ১১নং পেড়লী ইউনিয়নে ১৯০ জনকে ভিজিডি সুবিধার আওতায় কার্ড প্রদান করা হয়।
৬ এপ্রিল পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.জার্জিদ মোল্যার অনুকূলে ১৯০টি কার্ডের বিপরীতে ৫ হাজার ৭শ’কেজি চালের ডিও প্রদান করা হয়। ১৬ এপ্রিল ১৯০টি কার্ডের মধ্যে ১০৫টি কার্ডের চাল বিতরণ করা হলেও অবিতরণকৃত ৮৫ বস্তা ভিজিডির চাল আত্মসাত করেন চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা ।
এরপর ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক তদন্তে চাল চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো.মতিয়ার রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৫৪৭) অন্তর্ভূক্ত করে দুদক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন।
অপরদিকে, করোনা ভাইরাসের কারণে হতদারিদ্র্য পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য জয়নগর ইউনিয়নের নামে ত্রাণের (জিআর) ৩মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ৯ এপ্রিল বরাদ্দকৃত চাল চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী ও সচিব মহিদুল ইসলাম, যোগসাজশে ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ৫০টি নামের মাস্টার রোলের মধ্যে ২৮টি নামের অনুকূলে চাল বিতরণ না করে ভুয়া মাস্টার রোল দাখিল করেন।
এতে জনপ্রতি ১০কেজি হারে ২৮টি নামের বিপরীতে ২৮০কেজি চাল বিতরণ না করে আত্মসাত করার অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ মো.আজিমউদ্দিন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় মারফত নড়াগাতি থানায় মামলা প্রেরণ করা হয়।
এরপর নড়াগাতি থানার ওসি জিডি করে অভিযোগটি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়,যশোরে প্রেরণ করেন।
এরপর উভয় ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো.মাহফুজ ইকবাল বাদি হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন।
উভয় চেয়ারম্যান দ্বারা সংঘটিত অপরাধমূলক কাজ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্ব-পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
একই সময় পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব দিতে বলা হয়েছে।চিঠি পাওয়ার ১০কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয় জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা সাংবাদিকদের বলেন,‘মন্ত্রনালয়ের চিঠি এখনও হস্তগত হয়নি।
তবে জেনেছি স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্ব-পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা মিডিয়ায়ও এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here