৭০ বছর আগের জেল হত্যাকান্ডের কথা ভুলি নাই

0
192

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
ইতিহাস কখনো কখনো এমন কতগুলো ঘটনার জন্ম দেয়, যেগুলো কখনই ভুলে যাওয়া যায় না। এসব ঘটনা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করাও অন্যায় এবং বৃথা। তবুও সে চেষ্টা অনেকে করে থাকেন। যারা ইতিহাসকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে, ইতিহাসও এক সময় তাদের ‘ভুলে যেতে’ ভুল করে না।
‘আজ থেকে ৭০ বছর আগে ১৯৫০-এর ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের ‘খাপরা ওয়ার্ডে’ যে নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল তা ছিল তেমনি একটি ঘটনা। এই ঘটনার কথাটি যেভাবে মনে রাখা প্রয়োজন, আমাদের দেশ সেভাবে সে কথা মনে রাখেনি। সে ঘটনার কথা মানুষের মনে জাগ্রত রাখা এবং তাকে মহিমান্বিত করে রাখার কর্তব্য রাষ্ট্র ও সমাজের। কিন্তু তারা সে কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেনি। অথচ খাপরা ওয়ার্ড হত্যাকা- ছিল জাতির ইতিহাসে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের একটি অবিস্মরণীয় গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। অন্যায়, অবিচার ও নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরতার বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের এ গৌরবগাথাকে অবলম্বন করে এ দেশে ধাপে ধাপে গণসংগ্রামের ধারা গড়ে উঠেছিল। এবং স্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরবর্তী সোপানগুলো।
দেশের কমিউনিস্ট ও বামপন্থি-প্রগতিশীলরা ‘খাপরা ওয়াডের্র’ ইতিহাসকে আগাগোড়া জাগিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে। রাজশাহী জেলে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সেখানে তারা প্রতিবছর আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। আলোচনা সভা এবং লেখালেখিও করেন। তবে খাপরা ওয়ার্ড দিবসটি এমন একটি ঐতিহাসিক দিবস যা রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হওয়া উচিত। অথচ তা এখনো করা হয় না। এই ‘অপরাধের’ জন্য ইতিহাস আমাদের কখনই ক্ষমা করবে না।
শুরু থেকেই খাপরা ওয়ার্ড হত্যাকান্ডেরঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বুর্জোয়া ইতিহাসবিদরা ‘ইতিহাস বিকৃতির’ কাজটা খুব ভালোই করে থাকেন। কখনো তা তারা করেন তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে। আবার কখনো বা তারা তা করেন ঘটনার ‘অনুল্লেখের’ বা ‘পাত্তা না দেওয়ার’ মাধ্যমে সে তথ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রয়াসের দ্বারা। খাপরা ওয়ার্ড হত্যাকান্ডের ঘটনার ক্ষেত্রেও করা হয়েছে তেমনটিই। এ ঘটনাটিকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে বিগত ৭ দশক ধরে।
‘খাপরা ওয়ার্ড হত্যাকান্ডের’ ২৫ বছর পর, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এ দেশে আরেকটি জেল হত্যাকান্ড ঘটেছিল। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা এই দিনটিকে ‘জেল হত্যাকান্ড দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকেন। তারা বেমালুম ভুলে যান যে, এ দেশে প্রথম জেল হত্যাকা-টি ঘটেছিল ১৯৫০ সালে রাজশাহী জেলের ‘খাপরা ওয়ার্ডে’। জাতির রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে এই ঘটনার কথা মুছে ফেলার চেষ্টা হলেও ইতিহাস আপন শক্তিতে কথা কয়! ফলে খাপরা ওয়ার্ডের চিরঞ্জীব ইতিহাসের কথা জাতি আজ ধীরে ধীরে জানতে শুরু করেছে।
‘খাপরা ওয়ার্ড দিবসের’ এবার ৭০ বছর। দিবসটি এবার ‘বিশেষ আয়োজনে’র মাধ্যমে পালন করার পরিকল্পনা আমাদের ছিল। কিন্তু ‘করোনা মহামারীর’ বর্তমান মহাবিপদের পরিস্থিতির কারণে এবার তা সেভাবে পালন করা সম্ভব হলো না। আমরাও ‘করোনা-প্রতিরোধ যুদ্ধে’ রাতদিন ব্যস্ত আছি। এই ব্যস্ততার মাঝেও খাপরা ওয়ার্ড দিবসের ৭ দশক অতিক্রান্ত হওয়া উপলক্ষে দু’কথা লেখা প্রয়োজন মনে করছি। সে কারণেই আজ এই লেখা।
ইতিহাসের সেই দিনটির কথা জানতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫০ সালে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের তখন সবে যাত্রা শুরু। ভাষা আন্দোলন শুরু হলেও পাকিস্তান নিয়ে বাঙালি মুসলমানদের মোহটা তখনো সেভাবে কাটেনি। অনেকেই মনে করতেন, মাত্র পাকিস্তান আদায় হয়েছে। এ সময় অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক আন্দোলন করে শিশুরাষ্ট্র পাকিস্তানের সরকারকে বিব্রত করা উচিত হবে না। কিন্তু কমিউনিস্টরা ছিল পাকিস্তানের ‘সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বেও’ বিরোধী। তা ছাড়া তারা তখন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’ স্লোগান তুলে বিপ্লবী পন্থায় লড়াই চালাতে শুরু করেছিল। এসব কারণে কমিউনিস্টরা শুরু থেকেই ছিল পাকিস্তানের নব্যশাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূল।
পাকিস্তানের যাত্রার শুরু থেকেই সর্বত্র চলছিল মুসলিম লীগ সরকারের দমন-পীড়নের রাজত্ব। মুসলিম লীগের সেই দুর্দান্ত ও একচ্ছত্র শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াই সূচনা করেছিল কমিউনিস্টরা। অনেকদিন পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টিই ছিল একমাত্র কার্যকর বিরোধী দল। ‘কমিউনিস্টরা হচ্ছে দেশের শত্রু ও তাদের পঞ্চমবাহিনী’- পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর এই অপপ্রচারকে অনেকে সত্য মনে করত। তখনো আওয়ামী লীগ গঠিত হয়নি।
উত্তরবঙ্গে চলছিল ‘তেভাগা আন্দোলন’। ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশজুড়ে গড়ে উঠেছিল ‘টংক আন্দোলন’। সিলেটে চলছিল ‘নানকার বিদ্রোহ’। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন চলছিল দেশজুড়ে। এসব আন্দোলন-সংগ্রামকে স্তব্ধ করার জন্য চলছিল প্রচন্ড দমন-পীড়নের স্টিমরোলার। কমিউনিস্ট ও কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের কর্মী ও প্রগতিশীল লেখক-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের হাজারে-হাজারে গ্রেপ্তার করে ভরে তোলা হয়েছিল কারাগারগুলো। জেলে বন্দি থাকা অবস্থাতেও তারা বিভিন্ন পন্থায় তাদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগ্রাম চালাতে সচেষ্ট থাকতেন। তাদের অনেকে আটক ছিলেন রাজশাহী জেলের খাপরা ওয়ার্ডে।
বন্দি অবস্থাতে থাকা কমিউনিস্টরা তাদের নিজেদের জন্য রাজবন্দির মর্যাদা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা এবং একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত ও হাজতিদের প্রতি অমানবিক আচরণ বন্ধ করা, ঘানি টানার কাজ বন্ধ করা ইত্যাদি দাবিতে দেশের সব জেলখানায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
বেশ কিছুদিন ধরে এসব নিয়ে দেনদরবার, দাবিনামা পেশ ইত্যাদি চলেছিল। একাধিকবার টানা দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। ঢাকা জেলে অনশনরত শিবেন রায়কে ‘ফোর্স ফিডিং’ করাতে গেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তথাপি জেল কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নিতে রাজি হয়নি। রাজশাহী জেলের ‘খাপরা ওয়ার্ডে’ থাকা রাজবন্দিরাও সে আন্দোলন চালাচ্ছিল। সেই আন্দোলন দমনের জন্য জেল কর্তৃপক্ষ কয়েকজন নেতাকে সেখান থেকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় উত্তেজনা চরমে উঠেছিল।
১৯৫০ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে খাপরা ওয়ার্ডের বন্দিরা সারারাত উদ্ভূত পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনা ২৪ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত চলেছিল। ফলে অনেকেই ছিলেন ক্লান্ত। সকালের চা-নাশতা খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকেও চলছিল আলোচনা। এমন সময় খাপরা ওয়ার্ডে এসে হাজির হন জেল সুপার মিস্টার বিল, দুজন ডেপুটি জেলার, ডাক্তার, সুবেদার আকবর খাঁ, কয়েকজন মেটসহ প্রায় ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন সিপাহি। সিপাহিদের হাতে লাঠি।
ওয়ার্ডের পূর্বদিকের এক বন্দির সঙ্গে জেলার বিল সাহেবের কিছু কথোপকথনের পর পরই তিনি হঠাৎ করে ওয়ার্ডের মূল গেটটি বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় দুজন জেল কর্মকর্তাও ভেতরে আটকা পড়ে যান। এর পর বন্দিদের ওপর শুরু হয়ে যায় নির্বিচার পুলিশি হামলা। বন্দিরা প্রমাদ গুনলেন। তারা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালালেন। দরজা-জানালা আটকিয়ে দিলেন। ফলে জেল কর্তৃপক্ষের কেউ ভেতরে ঢুকতে পারলেন না। কিন্তু বাইরে থেকে জানালার ফাঁক দিয়ে সিপাহিরা অনবরত লাঠি ছুড়ে মারতে থাকলেন। বন্দিরা ভেতর থেকে হাতের কাছে যা ছিল তা দিয়ে সেসব আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কাঁসার থালা, ঘটি, বাটি, শিশি, দোয়াত ছুড়তে থাকলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে প্রতিরোধের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। অনেকে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। এসবের মাঝে আকস্মিকভাবে শুরু হয়ে গেল গুলিবর্ষণ। শত শত রাউন্ড গুলি। খৈ ফোটার মতো। ক্ষণিকের মধ্যে শহীদের রক্তের স্রোতে লাল হয়ে গেল ‘খাপরা ওয়ার্ড’।
সেদিন গুলিতে আহত বন্দি কমরেড আবদুস শহীদ ‘খাপরা ওয়ার্ডের’ সেই রক্তলাল দিনটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘চকিত দৃষ্টিতে দেখলাম, খাপরার প্রায় পঞ্চাশটি জানালায় বন্দুকের নল লাগিয়ে সিপাহিরা দাঁড়িয়ে আছে। আমি তৎক্ষণাৎ উপুড় হয়ে বালিশের নিচে মাথা গোঁজার সঙ্গে সঙ্গে রাইফেলের গর্জনে খাপরার ভিত যেন ফেটে চৌচির হতে চাইল। গেটের দিকে একটু চোখ পড়তেই দেখলাম ফিনকি দিয়ে রক্ত একেবারে ছাদ পর্যন্ত উঠছে। আমার মাথা একটি সাপোর্টিং ওয়ালের আড়ালে বালিশের নিচে গোঁজা ছিল, পা কনুই বাইরে ছিল। হঠাৎ লক্ষ করলাম হাঁটু দুফাঁক করে স্পিøন্টার ঢুকে গেল। বালিশের নিচ থেকে দেখলাম পাশেই কমরেড হানিফের বাহুর উপরিভাগ ছিঁড়ে গেছে এবং সেখান থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে। একটু পরেই কমরেড হানিফকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখি। যেন দেখলাম আমার অদূরেই কুষ্টিয়ার কমরেড নন্দ সান্যাল রক্তাক্ত শরীরে মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়েছে। আমার হুঁশ হারানোর আগে যতটুকু মনে আছে দেখলাম খাপরা ওয়ার্ডে রক্তের স্রোত বইছে। আমার শরীর বুক পর্যন্ত রক্তে ডুবন্ত।… গুলিবিদ্ধ বন্দিদের বীভৎস আর্তনাদের কথা আমার মনে আছে।
‘যখন হুঁশ হলো তখন সকাল দশটা।… সে দৃশ্য ভয়ঙ্কর। রক্তের গন্ধে মাছি এসে জুটেছে। মাছিগুলো আহতদের ঘিরে ধরেছে।… যদি কোনো কাল্পনিক নরকের ভয়াবহ চিত্র কেউ কোনোদিন কল্পনা করে থাকে তার সেই কল্পনার সঙ্গে এ দৃশ্যের সাদৃশ্য থাকবে নিশ্চয়ই; মানুষ কর্তৃক রক্তের হোলি খেলার পর মাছি এবং বালুকণার আক্রমণ শুধু এই কথাটাই স্মরণ করিয়ে দেয়, পুঁজিবাদী সমাজে দেশপ্রেম এক বীভৎস অভিশাপ।’ এই ছিল সংক্ষেপে সেদিনের সেই বীভৎস হত্যাকান্ডের বর্ণনা।
সেদিন এ হত্যাকা-ে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তারা হলেন- দিনাজপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় কৃষক নেতা কম্পরাম সিং, খুলনার দৌলতপুরের ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী সুধীন ধর, রেল শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য, কুষ্টিয়ার হানিফ শেখ, আন্দামান ফেরত বিপ্লবী বিজন সেন। তাদের সবাই ছিলেন তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও কর্মী।
আহত হয়েছিলেন- আভরণ সিং, কালী সরকার, খবির শেখ, ডা. গণেশ সরকার, ভুজেন পালিত, ডা. সরকার, সত্যেন সরকার, গারিস উল্লাহ, সুধীর সান্যাল (নন্দ), লালু পান্ডে, শীতাংশু মৈত্র, হীরেন সেনগুপ্ত, আবদুল হক, প্রসাদ রায়, আমিনুল ইসলাম বাদশা, বাবর আলী, ফটিক রায়, শ্যামাপদ সেন, আশু ভরদ্বাজ, অনিমেষ ভট্টাচার্য, অনন্ত দেব, প্রিয়ব্রত দাস (মঞ্জু), আবদুশ শহীদ, সদানন্দ দাস, রশিদ উদ্দিন, মাধব দত্ত, নুরুন্নবী চৌধুরী, আবদুল মনসুর হাবিবুল্লাহ, বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়, নাসির উদ্দিন আহমেদ, পরিতোষ দাশগুপ্ত, মতিলাল বর্মণ, পরিমল দাশগুপ্ত প্রমুখ। তাদেরও অধিকাংশ ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও কর্মী।
‘খাপরা ওয়ার্ডের’ হত্যাকান্ডের কোনো বিচার হয়নি। এমনকি এ নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি। ঘটনার ৭০ বছর পর অপরাধীদের কাউকেই এখন জীবিত পাওয়া যাবে না। তথাপি ইতিহাসের কাছে ঋণমুক্ত হওয়ার জন্য এবং প্রকৃত ঘটনার সর্বাংশ বিবরণ ইতিহাসে স্বচ্ছ করে রাখার জন্য এ বিচার হওয়া উচিত।
‘খাপরা ওয়ার্ড’ হত্যাকান্ডের ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। অন্যথায় কীভাবে তারা অনুধাবন করবে যে, কী ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদত চরিত্র, কী ছিল মুসলিম লীগের অত্যাচারের চেহারা, কারা তার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের নিশান উড্ডীন করেছিল, কী ছিল কমিউনিস্টদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বরূপ।
বুর্জোয়া দলগুলোর কাছে এ ঐতিহাসিক ‘খাপরা ওয়ার্ড’ দিবসের কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের কর্মীরা তো বটেই, নেতাদের মধ্যেও পনেরো আনারই জানা নেই ‘খাপরা ওয়ার্ড’ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি কী ছিল। সে সম্পর্কে জানার কোনো প্রয়োজন অথবা সে বিষয়ে কোনো উৎসাহ তাদের থাকবেই বা কেন? কারণ, যে বিষয়ে অবগত হওয়ার কোনো বাণিজ্যিক বাজারমূল্য নেই, চলতি হাওয়ার বুর্জোয়া ব্যবসায়িক ‘বাজার রাজনীতিতে’ তা মূল্যহীন তুচ্ছ ঘটনা মাত্র।
খাপরা-ওয়ার্ডের জেল হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ইতিহাসের পাতায় যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার কাজটি করতে হবে কমিউনিস্ট-বামপন্থি-প্রগতিশীলদের। এ কাজের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করছে দেশের বর্তমান লুটপাটের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল বাম-প্রগতিমুখী রূপান্তর সাধনে সক্ষম হওয়ার ওপর। নির্ভর করছে বর্তমান বাণিজ্যিক-ভোগবাদী-ভক্তিবাদী ধারার রাজনীতি (অপরাজনীতি!) থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারার ওপর।
সভাপতি
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here