আজ মহামতি লেনিন এর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী

0
153
কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন

সত্যপাঠ রিপোর্ট : আজ ২২ এপ্রিল, কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন’র ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ লেনিন দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। ১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল কমরেড লেনিন রাশিয়ার ভলগা নদীর তীরে সিমবিস্ক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন মার্কসবাদী রুশ বিপ্লবী এবং কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ। লেনিন অক্টোবর এবং মহান নভেম্বর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি সোভিয়ত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি ছিলেন আদর্শগতভাবে একজন সাম্যবাদী, তিনি মার্কসবাদের একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ বিকাশ করেছিলেন যা লেনিনবাদ নামে পরিচিত। তার ধারণাগুলি মরণোত্তরভাবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন’র পিতা ল্যা নিকোলয়েভিচ্ উলিয়ানভ ছিলেন একজন বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং গণতন্ত্রবাদের কট্টর সমর্থক। তার মা মারিয়া আলেক্সান্ড্রাভনা উলিয়ানভা ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষক। তার দাদা আলেক্সান্ডার কে জার হত্যার ষড়যন্ত্রের অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়। বিপ্লবী অ্যানা ইলিচনিনা ছিলেন লেনিন-এর বোন এবং সহযোদ্ধা। স্নাতক ডিগ্রী লাভ করার পর ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৮৮৭ সালে কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তিনি জার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রদের বিপ্লবী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ তাকে বহিস্কার করে। জার সরকার তাকে সাইবেরিয়ার কোকুশকিনো এস্টেটে নির্বাসনে পাঠায়। ১৮৮৯ সালে তিনি সামারা যান এবং স্থানীয় মার্ক্সবাদীদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৮৯১ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাস করে, সামারাতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে ক্রপস্কায়ার সাথে পরিচয় ঘটে লেনিনের। যার সাথে পরবর্তীতে তিনি দাম্পত্য সূত্রে আবদ্ধ হন এবং আমৃত্যু তারা মুক্তির সংগ্রামে একে অন্যের পাশে ছিলেন। লেনিন যে সময়ে রাশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন সেই সময়ে রাশিয়ায় নৈরাজ্যবাদী বাকুনিন পন্থীদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এই বাকুনিন পন্থীরা ব্যক্তি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করতো। তাদের ধারণা ছিল রাশিয়ার জনগণের সমগ্র দুর্দশার জন্য দায়ী হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনায় নিযুক্ত মুষ্টিমেয় কয়েকজন শীর্ষ কর্তাব্যক্তি। তাই এই শীর্ষ কর্তাদের যে কোন পন্থায় অপসারণ করতে পারলেই জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে বিজয় অর্জিত হবে। সেই প্রেক্ষিতেই তারা রাশিয়ার জারকে খুন করে। আর এই খুনের দায়ে লেনিনের বড় ভাইয়ের ফাঁসি হয়। কমরেড লেনিন সেই থেকে শিক্ষা নিয়ে নৈরাজ্যবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে মার্কসবাদের পথ অনুসরণ করেন এবং রুশ দেশে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে অক্টোবর বিপ্লব সম্পন্ন করে পৃথিবীর বুকে প্রথম শোষণমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্ররূপ সোভিয়েত রাষ্ট্রের সৃষ্টি করেন। তিনি শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রেণী সংগ্রামের বিকাশের গতিধারায় বিপ্লবী সংগ্রামের ভিতর দিয়ে পশ্চাৎপদ সমাজ ব্যবস্থা তথা জারতন্ত্রের উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণীসহ অন্যান্য শোষিত জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করতে ব্রতী হন। ১৮৯৫ সালে লেনিনকে গ্রেফতার করে রাখা হয় পিটার্সবুর্গ জেলে। সেখানে তিনি ১৪ (চৌদ্দ) মাসেরও বেশি সময় ধরে অন্তরীণ ছিলেন। জেলে বসেই তিনি লিখেন মার্কসবাদী পার্টির প্রথম খসড়া কর্মসূচি। তাকে কোন কালি বা কলম দেয়া হতো না। তিনি তার লেখার কালি হিসেবে দুধ ব্যবহার করতেন; যা তাকে খাবার হিসেবে খেতে দেয়া হতো। পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের লাইনের ফাঁকে ফাঁকে তিনি দুধ দিয়ে লিখতেন। আগুনে গরম করলে সেসব লেখা স্পষ্ট হয়ে উঠত। পরবর্তীতে আবার ১৮৯৭ সালে তাঁকে পূর্ব সাইবেরিয়ায় এক নির্জন স্থানে নির্বাসিত করা হয়। নির্বাসনে থাকাকালীন লেনিন ৩০টি পুস্তক রচনা করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল “রাশিয়ার পুঁজিবাদের বিকাশ”। লেনিনের নেতৃত্বে ১৯১৭ সালের সংগঠিত হয় অক্টোবর বিপ্লব। যা রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নামে সারাবিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। রুশ বিপ্লবের মাধ্যমেই সোভিয়েত বলশেভিক কমিউনিস্ট পার্টি মতা দখল করে আর দুনিয়ার বুকে সূচিত হয় সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রথম পদপে। যা পরবর্তীতে দুনিয়ার শতকোটি মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের সোপান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রেরণা হয়ে ওঠে। বিপ্লব সংগঠিত হয় চীন, কিউবা, হাঙ্গেরী, রুমানিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ আরো অনেক দেশে। রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এক চেটিয়া সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জাতি ও জনগোষ্ঠীর পে এক লড়াকু দুনিয়ার পত্তন করে। যার পরিণতিতে খর্ব হতে থাকে সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়ার আগ্রাসী, নির্দয় নিষ্ঠুর একচেটিয়া নিষ্পেষণের। সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া এতটাই অপ্রতিরোধ্য আর শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ংকর  নিষ্ঠুর দানব হিটলারের জার্মান নাৎসি বাহিনীও পরাজিত হয়। এই সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার নেতৃত্ব দানকারী স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছেই। আফিম আর হতাশার জগতে নিমজ্জিত চীন এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের হাত ধরেই আজ বিশ্বের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের পরিণতিতে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিপর্যয় ঘটে। কিন্তু আজও বিশ্বব্যাপী লেনিনের নির্দেশিত মত ও পথে পৃথিবীর কোটি-কোটি মানুষ শোষণ মুক্তির লড়াইয়ে নিয়োজিত আছে। খোদ রাশিয়ায় জোর দাবি উঠেছে লেনিনের পথে হাঁটার। ১৯২৪ সালের ২১ জানুয়ারি মস্কো শহরে সুমহান নেতার মহা কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটে। লেনিন বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল ধরে বিশ্বের মুক্তিকামী নিপীড়িত জাতি ও জনগণের অন্তরে মুক্তির দিশা হয়ে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই আর সংগ্রামের প্রেরণায়।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

Warning: Use of undefined constant TDC_PATH_LEGACY - assumed 'TDC_PATH_LEGACY' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/njybpvbk/public_html/wp-content/plugins/td-composer/td-composer.php on line 109

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here